ঢাকা ১২:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যেখানে পুরুষ নিষিদ্ধ! সিরিয়ার অনন্য নারী গ্রামের অবিশ্বাস্য গল্প

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:৪৪:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • ৫১৫

নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে 'জিনওয়ার' গ্রামে প্রবেশ করছেন একদল মুক্তিকামী নারী। ছবি: সংগৃহীত

সিরিয়ার কুর্দি-অধ্যুষিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কামিশলি শহরের উপকণ্ঠে গড়ে উঠেছে ‘জিনওয়ার’ নামের একটি অনন্য গ্রাম, যেখানে কেবল নারীদেরই বসবাসের অনুমতি রয়েছে এবং পুরুষদের রাত কাটানো বা স্থায়ীভাবে থাকা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার বুকে ২০১৮ সালে যাত্রা শুরু করা এই বিশেষ জনপদটি বর্তমানে গৃহযুদ্ধ, পারিবারিক সহিংসতা এবং ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বর্বরতার শিকার হওয়া কুর্দি, আরব ও ইয়াজিদি নারীদের জন্য এক নিরাপদ এবং স্বাধীন আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। নিজেদের তৈরি মাটির ঘরে স্বাধীন জীবনযাপনের পাশাপাশি স্বনির্ভর এক অনন্য সমাজ গড়ে তুলেছেন এই লড়াকু নারীরা, যা বিশ্বজুড়ে এক নতুন বিপ্লবের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

সবুজ বাগান, নানা রঙের ফুল, ফলমূল আর শাকসবজির গাছে ঘেরা এই গ্রামে প্রবেশ করতেই চোখে পড়বে এক অন্যরকম দৃশ্য। গ্রামের প্রবেশপথে কাঁধে রাইফেল আর হাতে ওয়াকিটকি নিয়ে কড়া পাহারায় দাঁড়িয়ে আছেন একজন নারী, যিনি একই সাথে একজন মমতাময়ী মা। ধূলিধূসর সিরিয়ার বুকে প্রায় ৩০টি মাটির ঘর নিয়ে গড়ে ওঠা এই জনপদটি যেন এক টুকরো উজ্জ্বল রঙের আভা ছড়াচ্ছে।

কুর্দি ভাষার দুটি শব্দ ‘জিন’ যার অর্থ নারী এবং ‘ওয়ার’ যার অর্থ ভূমি বা স্থান—এই দুইয়ের সমন্বয়ে গ্রামের নামকরণ করা হয়েছে ‘জিনওয়ার’, যার সহজ অর্থ ‘নারীস্থান’। এই বিশেষ স্থানটি মূলত সেইসব নারীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যাঁরা পুরুষতান্ত্রিক সমাজের সব বৈষম্য ও বিয়ের বন্ধন ছিন্ন করে সম্পূর্ণ মুক্ত ও স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বর্তমানে এই স্বনির্ভর গ্রামে প্রায় ২৫ জন নারী তাঁদের সন্তানদের নিয়ে অত্যন্ত সুখে ও শান্তিতে দিন কাটাচ্ছেন। একই সাথে তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গী হিসেবে রয়েছে বেশ কিছু গরু, ভেড়া, মুরগি এবং সৌন্দর্য বর্ধনকারী চমৎকার কিছু ময়ূর। এই গ্রামের প্রতিটি ঘর নারীরা নিজেরাই মাটি, পানি ও খড় দিয়ে তৈরি ইট ব্যবহার করে অত্যন্ত কষ্ট করে তৈরি করেছেন।

নিজেদের কঠোর পরিশ্রমে নারীরা এখানে একটি নিজস্ব প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সবজি বাগান গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় সব খাদ্য উপাদান যেমন বেগুন, টমেটো, মরিচ, শসা, পেঁয়াজ ও রসুন তাঁরা নিজেদের জমিতেই উৎপাদন করেন। নারী-নেতৃত্বের এই স্বাধীন জনপদে পুরুষেরা কেবল পরিদর্শক হিসেবে দিনের বেলা আসতে পারলেও এখানে তাঁদের রাত কাটানো সম্পূর্ণ নিষেধ।

খ্যাতিমান আলোকচিত্র শিল্পী মাত্তেও ত্রেভিসান উত্তর-পূর্ব সিরিয়াজুড়ে গড়ে ওঠা এই নারী-নেতৃত্বাধীন বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ওপর দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তাঁর ক্যামেরার লেন্স ও গভীর গবেষণায় জিনওয়ারের নারীদের এই লড়াকু জীবনচিত্র অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সারাবিশ্বের মানুষের সামনে উঠে এসেছে। জিনওয়ারের পাশাপাশি তিনি পাশের গ্রাম জারুদির নারীদের স্বনির্ভর জীবন এবং কামিশালির নারী নাগরিক প্রতিরক্ষা কমিটির কার্যক্রমও তুলে ধরেছেন।

এই গ্রামেরই একজন প্রবীণ বাসিন্দা হলেন ৫৫ বছর বয়সী ওয়েলাত, যিনি স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর আশ্রয়ের খোঁজে এখানে আসেন। অতীতে ফিরে গিয়ে তিনি বলেন, বাইরের পৃথিবীতে তাঁর জীবনটা ঠিকঠাক চলছিল না এবং তিনি কোনোমতে টিকে ছিলেন। নারীদের জন্য তৈরি এই বিশেষ গ্রামের কথা শোনার পর তিনি এখানে আসেন এবং নিজের প্রকৃত সত্তাকে খুঁজে পান।

ওয়েলাত এখন প্রতিদিন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে নিয়মিতভাবে কুর্দি ভাষার ক্লাসে অংশ নেন। ক্লাস শেষ করেই তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে গ্রামের প্রবেশপথে নিজের নির্ধারিত পাহারার দায়িত্ব পালন করতে চলে যান। এখানকার নারীরা নিজেদের ভেদাভেদ ভুলে গ্রাম পরিচালনার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিজেদের মধ্যে খুব সুন্দরভাবে ভাগ করে নিয়েছেন।

গ্রামে নিয়মিত দর্শনার্থীদের আসা-যাওয়ার কারণে এখানকার নারীদের ব্যবসা ও পারস্পরিক আলাপচারিতার নতুন নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ওয়েলাত আনন্দের সাথে জানান, প্রতিদিন অনেক অতিথি এখানে আসেন, যাদের সাথে নানামুখী কথাবার্তা ও কাজের সুযোগ তৈরি হয়। সংহতি, ভালোবাসা আর পারস্পরিক সহযোগিতাই এই নারীপ্রধান জনপদের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।

ওয়েলাতের মতে, এখানকার মায়েরা প্রত্যেকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কঠিন কাজগুলো অনায়াসে সম্পন্ন করে চলেছেন। নারীদের মধ্যকার এই চমৎকার মনস্তাত্ত্বিক পরিবেশ সবার মনোবলকে দিন দিন আরও বেশি দৃঢ় করে তুলছে। জিনওয়ার ওয়েলাতকে যে শান্তি ও নিরাপত্তা দিয়েছে, তা তিনি সমগ্র সিরিয়ার আর কোথাও খুঁজে পাননি।

বাইরের দুনিয়ার কঠিন বাস্তবতার তুলনায় এই গ্রামের শান্ত পরিবেশকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও আশীর্বাদপুষ্ট মনে করেন তিনি। এখানে তিনি একটি সুন্দর ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন কাটাতে পারছেন বলে অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত অনুভব করেন। ওয়েলাতের একমাত্র চাওয়া, এই অনন্য জনপদের বীরত্বগাথা যেন গ্রামের দেয়াল পেরিয়ে সারাবিশ্বের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছায়।

তিনি চান পৃথিবীর সব মা ও নারী যেন তাঁদের নিজেদের ভেতরের লুকিয়ে থাকা শক্তি সম্পর্কে সচেতন হন। কারণ নারীদের এই আত্মিক শক্তিই তাঁদের স্বাধীনতার মূল চাবিকাঠি হবে বলে তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন। এই গ্রামেরই আরেক বাসিন্দা হলেন ৫৭ বছর বয়সী নুজিন মিহেমেদ, যিনি স্বামীর মৃত্যুর পর এখানে আসেন।

স্বামীর মৃত্যুর পর আল-দিরবাসিয়ার নিকটবর্তী একটি গ্রামে একাকী বসবাস করার সময় তিনি মারাত্মক অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছিলেন। সেই কঠিন সময়ে তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষী বন্ধুরা তাঁকে এই নারীপ্রধান জনপদে চলে আসার জন্য বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছিলেন। মিহেমেদ বলেন, অতীতে তথাকথিত নৈতিকতা এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নিষ্ঠুর নিপীড়নে তিনি প্রচুর কষ্ট সহ্য করেছেন।

মিহেমেদের মতে, বাইরের সমাজে কোনো দয়ামায়া নেই, এমনকি নিজের ভাইবোনেরাও তাঁর ওপর নানাভাবে অত্যাচার চালিয়েছিল। কিন্তু জিনওয়ারে আসার পর তাঁর জীবনের চাকা সম্পূর্ণ ঘুরে গেছে এবং তিনি এক নতুন জীবনের স্বাদ পেয়েছেন। এখানে তিনি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রুটি বানানো থেকে শুরু করে পাহারার দায়িত্ব—সব কাজই করেন।

এখানকার নারীরা প্রত্যেকে একে অপরের থেকে আলাদা সংস্কৃতির হলেও সবাই মিলে একটি সুসংগঠিত পরিবারের মতো বসবাস করছেন। যেকোনো কঠিন কাজই আসুক না কেন, তাঁরা সবাই মিলেমিশে তা একসঙ্গেই হাসিমুখে সম্পন্ন করতে ভালোবাসেন। জিনওয়ারে এসে জীবনের শেষ বয়সে এসে পরম শান্তি ও স্বাধীনতার আসল স্বাদ উপভোগ করছেন মিহেমেদ।

২৮ বছর বয়সী জেসমিন নামের আরেক তরুণী স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর পাঁচ বছর আগে এই গ্রামে আসেন। একসময় তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া ছেড়ে উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপের দেশ জার্মানিতে যাওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে তিনি এই অলৌকিক গ্রামের খোঁজ পান এবং এখানে আসার পর তাঁর জীবনের লক্ষ্য বদলে যায়।

নানা জাতি, ধর্ম ও বর্ণের নারীদের মাঝে বসবাস করে জেসমিন এখানে এক অদ্ভুত আপন হওয়ার অনুভূতি খুঁজে পেয়েছেন। সব ধর্মের উৎসবই এখানে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে সবার অংশগ্রহণে সমতার ভিত্তিতে উদ্‌যাপিত হয়ে থাকে। জেসমিনের কাছে এই গ্রামটি বর্তমান বিশ্বের জন্য একটি সফল বিপ্লব ও শান্তির অনন্য দৃষ্টান্ত।

জেসমিন এখন জিনওয়ারের মাটির সাথে এক গভীর আত্মিক ও মানসিক টান অনুভব করেন প্রতিনিয়ত। এখন এই নিরাপদ গ্রাম ছেড়ে অন্য কোনো যান্ত্রিক শহরে নিজের জীবন কল্পনা করাও তাঁর জন্য অসম্ভব। তবে জেসমিনের এই স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা কেবল এই গ্রামের গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই।

তিনি আশা করেন, রাজনীতি, শিক্ষা ও সামাজিক নেতৃত্বের মতো জনজীবনের সব ক্ষেত্রে নারীরা আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন। তিনি চান বিশ্বের সব নারী তাঁদের নিজস্ব অধিকার দাবি করুন এবং সব ক্ষেত্রে সমানভাবে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করুন। কারণ নারীরা যখন নিজে থেকে এগিয়ে যান, তখন সমাজের সবকিছু ইতিবাচকভাবে বদলে যেতে বাধ্য।

উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার আরেকটি অনন্য গ্রামের নাম জারুদি, যা সম্পূর্ণ নারীপ্রধান না হলেও সমবায়ের মাধ্যমে পরিচালিত। এখানকার নারী ও পুরুষ উভয়ই কৃষি, স্থানীয় সেবা এবং দৈনন্দিন জীবনের সব দায়িত্ব সমানভাবে ভাগ করে নেন। যুদ্ধ এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের সীমাবদ্ধতার মুখে তাঁরা স্বব্যবস্থাপনা এবং স্বনির্ভরশীলতার এক চমৎকার পথ বেছে নিয়েছেন।

জারুদি গ্রামে নারীরা সরাসরি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করছেন, যা পুরো অঞ্চলের জন্য একটি বড় উদাহরণ। সিরিয়া যুদ্ধে ২০১৩ সালে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর বাসিন্দারা এই বসতির কেন্দ্রে একটি বড় গণবাগান তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। আজ এই বাগানটি গ্রামের অর্থনৈতিক ও সামাজিক জনজীবনের মূল প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

এখানে উৎপাদিত সব টাটকা ফসল পাশের স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে অর্জিত লভ্যাংশ সবাই সমানভাবে ভাগ করে নেন। জারুদি গ্রামের একজন অন্যতম দক্ষ সহপ্রধান হলেন নেহরিমান, যিনি তাঁর বাড়ির বাগানটি পরিবারের সবার সাথে মিলে ব্যবহার করেন। ২৮ বছর বয়সী নেসরিন বোজা নামের আরেক নারী এক বছর আগে এই জারুদি গ্রামে আসেন।

কোবানিতে নারী সংগঠনগুলোর সঙ্গে কাজ করার সময় তিনি এই স্বনির্ভর গ্রামের কথা শুনে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি গ্রাম পরিষদের একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে নারী শিক্ষা ও সামাজিক সংগঠন নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। গোষ্ঠীগতভাবে বসবাস এবং সবার সাথে মিলেমিশে কাজ করা নেসরিনের জীবনের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিই বদলে দিয়েছে।

এখানে আসার পর থেকে নেসরিনের মনের ভেতরের ক্ষোভ ও রাগ অনেক কমে গেছে এবং তিনি অত্যন্ত সহযোগিতাপরায়ণ হয়ে উঠেছেন। মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যকার গভীর মেলবন্ধন তিনি নিজের অন্তরের অন্তস্তল থেকে প্রতিনিয়ত অনুভব করতে পারেন। এখানকার বাসিন্দাদের মধ্যকার গভীর আত্মিক সম্পর্কই তাঁকে এই গ্রামে স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার প্রেরণা জুগিয়েছে।

নেসরিনের মতে, জারুদি গ্রামের সব বাসিন্দা সমান এবং তাঁদের সামষ্টিক মনোবল অত্যন্ত দৃঢ় ও প্রশংসনীয়। অন্যদিকে কামশিলিতে ‘এইচপিসি-জিন’ নামে একটি নারী নাগরিক প্রতিরক্ষা কমিটি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। এই দলটি বেসামরিক সুরক্ষা, জনসমাগমস্থল পর্যবেক্ষণ এবং সামাজিক সংহতি বজায় রাখার মূল দায়িত্ব পালন করে।

বছরের পর বছর ধরে চলা যুদ্ধ ও আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এই কমিটি গড়ে উঠেছে। রমজিয়ে মিহেম্মেদ ইসমাইল, নিসমিয়ে ইমসেদিন ও ওয়াদেন হুসেন সেখমুস এই কমিটির অত্যন্ত সাহসী ও বীর সদস্য। মিহেম্মেদ ইসমাইল জানান, তিনি বিভিন্ন স্মরণসভা ও রাস্তাঘাট পর্যবেক্ষণ করে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করেন।

আরেক লড়াকু সদস্য ইমসেদিন ২০১৩ সালে সাধারণ মাঠে কাজ করলেও ২০২৩ সালে আত্মরক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। তিনি মনে করেন, নারীদের আত্মরক্ষার এই তাগিদ এবং বিপ্লবের আদর্শকে রক্ষা করার শক্তি ভেতরের চেতনা থেকে আসতে হবে। স্বাধীনতা অর্জন না করা পর্যন্ত এই বীর নারীরা তাঁদের লড়াই থামাবেন না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

যেখানে পুরুষ নিষিদ্ধ! সিরিয়ার অনন্য নারী গ্রামের অবিশ্বাস্য গল্প

Update Time : ০৯:৪৪:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

সিরিয়ার কুর্দি-অধ্যুষিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কামিশলি শহরের উপকণ্ঠে গড়ে উঠেছে ‘জিনওয়ার’ নামের একটি অনন্য গ্রাম, যেখানে কেবল নারীদেরই বসবাসের অনুমতি রয়েছে এবং পুরুষদের রাত কাটানো বা স্থায়ীভাবে থাকা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার বুকে ২০১৮ সালে যাত্রা শুরু করা এই বিশেষ জনপদটি বর্তমানে গৃহযুদ্ধ, পারিবারিক সহিংসতা এবং ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বর্বরতার শিকার হওয়া কুর্দি, আরব ও ইয়াজিদি নারীদের জন্য এক নিরাপদ এবং স্বাধীন আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। নিজেদের তৈরি মাটির ঘরে স্বাধীন জীবনযাপনের পাশাপাশি স্বনির্ভর এক অনন্য সমাজ গড়ে তুলেছেন এই লড়াকু নারীরা, যা বিশ্বজুড়ে এক নতুন বিপ্লবের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

সবুজ বাগান, নানা রঙের ফুল, ফলমূল আর শাকসবজির গাছে ঘেরা এই গ্রামে প্রবেশ করতেই চোখে পড়বে এক অন্যরকম দৃশ্য। গ্রামের প্রবেশপথে কাঁধে রাইফেল আর হাতে ওয়াকিটকি নিয়ে কড়া পাহারায় দাঁড়িয়ে আছেন একজন নারী, যিনি একই সাথে একজন মমতাময়ী মা। ধূলিধূসর সিরিয়ার বুকে প্রায় ৩০টি মাটির ঘর নিয়ে গড়ে ওঠা এই জনপদটি যেন এক টুকরো উজ্জ্বল রঙের আভা ছড়াচ্ছে।

কুর্দি ভাষার দুটি শব্দ ‘জিন’ যার অর্থ নারী এবং ‘ওয়ার’ যার অর্থ ভূমি বা স্থান—এই দুইয়ের সমন্বয়ে গ্রামের নামকরণ করা হয়েছে ‘জিনওয়ার’, যার সহজ অর্থ ‘নারীস্থান’। এই বিশেষ স্থানটি মূলত সেইসব নারীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যাঁরা পুরুষতান্ত্রিক সমাজের সব বৈষম্য ও বিয়ের বন্ধন ছিন্ন করে সম্পূর্ণ মুক্ত ও স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বর্তমানে এই স্বনির্ভর গ্রামে প্রায় ২৫ জন নারী তাঁদের সন্তানদের নিয়ে অত্যন্ত সুখে ও শান্তিতে দিন কাটাচ্ছেন। একই সাথে তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গী হিসেবে রয়েছে বেশ কিছু গরু, ভেড়া, মুরগি এবং সৌন্দর্য বর্ধনকারী চমৎকার কিছু ময়ূর। এই গ্রামের প্রতিটি ঘর নারীরা নিজেরাই মাটি, পানি ও খড় দিয়ে তৈরি ইট ব্যবহার করে অত্যন্ত কষ্ট করে তৈরি করেছেন।

নিজেদের কঠোর পরিশ্রমে নারীরা এখানে একটি নিজস্ব প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সবজি বাগান গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় সব খাদ্য উপাদান যেমন বেগুন, টমেটো, মরিচ, শসা, পেঁয়াজ ও রসুন তাঁরা নিজেদের জমিতেই উৎপাদন করেন। নারী-নেতৃত্বের এই স্বাধীন জনপদে পুরুষেরা কেবল পরিদর্শক হিসেবে দিনের বেলা আসতে পারলেও এখানে তাঁদের রাত কাটানো সম্পূর্ণ নিষেধ।

খ্যাতিমান আলোকচিত্র শিল্পী মাত্তেও ত্রেভিসান উত্তর-পূর্ব সিরিয়াজুড়ে গড়ে ওঠা এই নারী-নেতৃত্বাধীন বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ওপর দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তাঁর ক্যামেরার লেন্স ও গভীর গবেষণায় জিনওয়ারের নারীদের এই লড়াকু জীবনচিত্র অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সারাবিশ্বের মানুষের সামনে উঠে এসেছে। জিনওয়ারের পাশাপাশি তিনি পাশের গ্রাম জারুদির নারীদের স্বনির্ভর জীবন এবং কামিশালির নারী নাগরিক প্রতিরক্ষা কমিটির কার্যক্রমও তুলে ধরেছেন।

আরও পড়ুন  টাইমস পিআর সেবা চালু: আন্তর্জাতিক পিআর ও মিডিয়া সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ

এই গ্রামেরই একজন প্রবীণ বাসিন্দা হলেন ৫৫ বছর বয়সী ওয়েলাত, যিনি স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর আশ্রয়ের খোঁজে এখানে আসেন। অতীতে ফিরে গিয়ে তিনি বলেন, বাইরের পৃথিবীতে তাঁর জীবনটা ঠিকঠাক চলছিল না এবং তিনি কোনোমতে টিকে ছিলেন। নারীদের জন্য তৈরি এই বিশেষ গ্রামের কথা শোনার পর তিনি এখানে আসেন এবং নিজের প্রকৃত সত্তাকে খুঁজে পান।

ওয়েলাত এখন প্রতিদিন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে নিয়মিতভাবে কুর্দি ভাষার ক্লাসে অংশ নেন। ক্লাস শেষ করেই তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে গ্রামের প্রবেশপথে নিজের নির্ধারিত পাহারার দায়িত্ব পালন করতে চলে যান। এখানকার নারীরা নিজেদের ভেদাভেদ ভুলে গ্রাম পরিচালনার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিজেদের মধ্যে খুব সুন্দরভাবে ভাগ করে নিয়েছেন।

গ্রামে নিয়মিত দর্শনার্থীদের আসা-যাওয়ার কারণে এখানকার নারীদের ব্যবসা ও পারস্পরিক আলাপচারিতার নতুন নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ওয়েলাত আনন্দের সাথে জানান, প্রতিদিন অনেক অতিথি এখানে আসেন, যাদের সাথে নানামুখী কথাবার্তা ও কাজের সুযোগ তৈরি হয়। সংহতি, ভালোবাসা আর পারস্পরিক সহযোগিতাই এই নারীপ্রধান জনপদের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।

ওয়েলাতের মতে, এখানকার মায়েরা প্রত্যেকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কঠিন কাজগুলো অনায়াসে সম্পন্ন করে চলেছেন। নারীদের মধ্যকার এই চমৎকার মনস্তাত্ত্বিক পরিবেশ সবার মনোবলকে দিন দিন আরও বেশি দৃঢ় করে তুলছে। জিনওয়ার ওয়েলাতকে যে শান্তি ও নিরাপত্তা দিয়েছে, তা তিনি সমগ্র সিরিয়ার আর কোথাও খুঁজে পাননি।

বাইরের দুনিয়ার কঠিন বাস্তবতার তুলনায় এই গ্রামের শান্ত পরিবেশকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও আশীর্বাদপুষ্ট মনে করেন তিনি। এখানে তিনি একটি সুন্দর ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন কাটাতে পারছেন বলে অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত অনুভব করেন। ওয়েলাতের একমাত্র চাওয়া, এই অনন্য জনপদের বীরত্বগাথা যেন গ্রামের দেয়াল পেরিয়ে সারাবিশ্বের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছায়।

তিনি চান পৃথিবীর সব মা ও নারী যেন তাঁদের নিজেদের ভেতরের লুকিয়ে থাকা শক্তি সম্পর্কে সচেতন হন। কারণ নারীদের এই আত্মিক শক্তিই তাঁদের স্বাধীনতার মূল চাবিকাঠি হবে বলে তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন। এই গ্রামেরই আরেক বাসিন্দা হলেন ৫৭ বছর বয়সী নুজিন মিহেমেদ, যিনি স্বামীর মৃত্যুর পর এখানে আসেন।

স্বামীর মৃত্যুর পর আল-দিরবাসিয়ার নিকটবর্তী একটি গ্রামে একাকী বসবাস করার সময় তিনি মারাত্মক অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছিলেন। সেই কঠিন সময়ে তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষী বন্ধুরা তাঁকে এই নারীপ্রধান জনপদে চলে আসার জন্য বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছিলেন। মিহেমেদ বলেন, অতীতে তথাকথিত নৈতিকতা এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নিষ্ঠুর নিপীড়নে তিনি প্রচুর কষ্ট সহ্য করেছেন।

আরও পড়ুন  ব্রিটিশ রাজনীতিতে চমক, পদত্যাগের ঘোষণা কিয়ের স্টারমারের

মিহেমেদের মতে, বাইরের সমাজে কোনো দয়ামায়া নেই, এমনকি নিজের ভাইবোনেরাও তাঁর ওপর নানাভাবে অত্যাচার চালিয়েছিল। কিন্তু জিনওয়ারে আসার পর তাঁর জীবনের চাকা সম্পূর্ণ ঘুরে গেছে এবং তিনি এক নতুন জীবনের স্বাদ পেয়েছেন। এখানে তিনি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রুটি বানানো থেকে শুরু করে পাহারার দায়িত্ব—সব কাজই করেন।

এখানকার নারীরা প্রত্যেকে একে অপরের থেকে আলাদা সংস্কৃতির হলেও সবাই মিলে একটি সুসংগঠিত পরিবারের মতো বসবাস করছেন। যেকোনো কঠিন কাজই আসুক না কেন, তাঁরা সবাই মিলেমিশে তা একসঙ্গেই হাসিমুখে সম্পন্ন করতে ভালোবাসেন। জিনওয়ারে এসে জীবনের শেষ বয়সে এসে পরম শান্তি ও স্বাধীনতার আসল স্বাদ উপভোগ করছেন মিহেমেদ।

২৮ বছর বয়সী জেসমিন নামের আরেক তরুণী স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর পাঁচ বছর আগে এই গ্রামে আসেন। একসময় তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া ছেড়ে উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপের দেশ জার্মানিতে যাওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে তিনি এই অলৌকিক গ্রামের খোঁজ পান এবং এখানে আসার পর তাঁর জীবনের লক্ষ্য বদলে যায়।

নানা জাতি, ধর্ম ও বর্ণের নারীদের মাঝে বসবাস করে জেসমিন এখানে এক অদ্ভুত আপন হওয়ার অনুভূতি খুঁজে পেয়েছেন। সব ধর্মের উৎসবই এখানে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে সবার অংশগ্রহণে সমতার ভিত্তিতে উদ্‌যাপিত হয়ে থাকে। জেসমিনের কাছে এই গ্রামটি বর্তমান বিশ্বের জন্য একটি সফল বিপ্লব ও শান্তির অনন্য দৃষ্টান্ত।

জেসমিন এখন জিনওয়ারের মাটির সাথে এক গভীর আত্মিক ও মানসিক টান অনুভব করেন প্রতিনিয়ত। এখন এই নিরাপদ গ্রাম ছেড়ে অন্য কোনো যান্ত্রিক শহরে নিজের জীবন কল্পনা করাও তাঁর জন্য অসম্ভব। তবে জেসমিনের এই স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা কেবল এই গ্রামের গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই।

তিনি আশা করেন, রাজনীতি, শিক্ষা ও সামাজিক নেতৃত্বের মতো জনজীবনের সব ক্ষেত্রে নারীরা আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন। তিনি চান বিশ্বের সব নারী তাঁদের নিজস্ব অধিকার দাবি করুন এবং সব ক্ষেত্রে সমানভাবে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করুন। কারণ নারীরা যখন নিজে থেকে এগিয়ে যান, তখন সমাজের সবকিছু ইতিবাচকভাবে বদলে যেতে বাধ্য।

উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার আরেকটি অনন্য গ্রামের নাম জারুদি, যা সম্পূর্ণ নারীপ্রধান না হলেও সমবায়ের মাধ্যমে পরিচালিত। এখানকার নারী ও পুরুষ উভয়ই কৃষি, স্থানীয় সেবা এবং দৈনন্দিন জীবনের সব দায়িত্ব সমানভাবে ভাগ করে নেন। যুদ্ধ এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের সীমাবদ্ধতার মুখে তাঁরা স্বব্যবস্থাপনা এবং স্বনির্ভরশীলতার এক চমৎকার পথ বেছে নিয়েছেন।

আরও পড়ুন  চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের ১০৯ তলা ভবন বিমান বিধস্ত

জারুদি গ্রামে নারীরা সরাসরি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করছেন, যা পুরো অঞ্চলের জন্য একটি বড় উদাহরণ। সিরিয়া যুদ্ধে ২০১৩ সালে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর বাসিন্দারা এই বসতির কেন্দ্রে একটি বড় গণবাগান তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। আজ এই বাগানটি গ্রামের অর্থনৈতিক ও সামাজিক জনজীবনের মূল প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

এখানে উৎপাদিত সব টাটকা ফসল পাশের স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে অর্জিত লভ্যাংশ সবাই সমানভাবে ভাগ করে নেন। জারুদি গ্রামের একজন অন্যতম দক্ষ সহপ্রধান হলেন নেহরিমান, যিনি তাঁর বাড়ির বাগানটি পরিবারের সবার সাথে মিলে ব্যবহার করেন। ২৮ বছর বয়সী নেসরিন বোজা নামের আরেক নারী এক বছর আগে এই জারুদি গ্রামে আসেন।

কোবানিতে নারী সংগঠনগুলোর সঙ্গে কাজ করার সময় তিনি এই স্বনির্ভর গ্রামের কথা শুনে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি গ্রাম পরিষদের একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে নারী শিক্ষা ও সামাজিক সংগঠন নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। গোষ্ঠীগতভাবে বসবাস এবং সবার সাথে মিলেমিশে কাজ করা নেসরিনের জীবনের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিই বদলে দিয়েছে।

এখানে আসার পর থেকে নেসরিনের মনের ভেতরের ক্ষোভ ও রাগ অনেক কমে গেছে এবং তিনি অত্যন্ত সহযোগিতাপরায়ণ হয়ে উঠেছেন। মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যকার গভীর মেলবন্ধন তিনি নিজের অন্তরের অন্তস্তল থেকে প্রতিনিয়ত অনুভব করতে পারেন। এখানকার বাসিন্দাদের মধ্যকার গভীর আত্মিক সম্পর্কই তাঁকে এই গ্রামে স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার প্রেরণা জুগিয়েছে।

নেসরিনের মতে, জারুদি গ্রামের সব বাসিন্দা সমান এবং তাঁদের সামষ্টিক মনোবল অত্যন্ত দৃঢ় ও প্রশংসনীয়। অন্যদিকে কামশিলিতে ‘এইচপিসি-জিন’ নামে একটি নারী নাগরিক প্রতিরক্ষা কমিটি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। এই দলটি বেসামরিক সুরক্ষা, জনসমাগমস্থল পর্যবেক্ষণ এবং সামাজিক সংহতি বজায় রাখার মূল দায়িত্ব পালন করে।

বছরের পর বছর ধরে চলা যুদ্ধ ও আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এই কমিটি গড়ে উঠেছে। রমজিয়ে মিহেম্মেদ ইসমাইল, নিসমিয়ে ইমসেদিন ও ওয়াদেন হুসেন সেখমুস এই কমিটির অত্যন্ত সাহসী ও বীর সদস্য। মিহেম্মেদ ইসমাইল জানান, তিনি বিভিন্ন স্মরণসভা ও রাস্তাঘাট পর্যবেক্ষণ করে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করেন।

আরেক লড়াকু সদস্য ইমসেদিন ২০১৩ সালে সাধারণ মাঠে কাজ করলেও ২০২৩ সালে আত্মরক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। তিনি মনে করেন, নারীদের আত্মরক্ষার এই তাগিদ এবং বিপ্লবের আদর্শকে রক্ষা করার শক্তি ভেতরের চেতনা থেকে আসতে হবে। স্বাধীনতা অর্জন না করা পর্যন্ত এই বীর নারীরা তাঁদের লড়াই থামাবেন না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।