পরীমনির ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে আবারও সরব দেশের বিনোদন অঙ্গন। চার বছর আগে গ্রেপ্তার হওয়া এবং পরবর্তী ঘটনাগুলো নিয়ে দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট তাঁকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সেই ঘটনার কারণে হারিয়ে যাওয়া সম্মান, মানসিক শান্তি ও জীবনের মূল্যবান সময় রাষ্ট্র কখনও ফিরিয়ে দিতে পারবে কি না।
পরীমনির ফেসবুক স্ট্যাটাস প্রকাশের পর থেকেই বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিনেত্রী লিখেছেন, ওই ঘটনার পর তাঁর ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক এবং পেশাগত জীবন গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একজন শিল্পী ও একজন নারী হিসেবে যে মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্ট্যাটাসে পরীমনি র্যাবের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাম্প্রতিক এক টক শোতে দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তাঁর দাবি, সেই বক্তব্যের মাধ্যমে দেশের মানুষ জানতে পেরেছে যে তাঁর গ্রেপ্তার নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তবে এসব বক্তব্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই বা আদালতে প্রমাণিত হয়নি। এ কারণে বিষয়টি এখনো বিচারাধীন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
অভিনেত্রী আরও লেখেন, গ্রেপ্তারের পর তাঁকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় কারাগারে থাকতে হয়েছিল। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, অপমান, সামাজিক সমালোচনা এবং চরিত্রহননের মতো পরিস্থিতি তাঁকে দীর্ঘদিন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে রেখেছিল। তাই তিনি এখন প্রতিশোধ নয়, বরং সত্য ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করছেন।
পরীমনির ফেসবুক স্ট্যাটাস-এ রাষ্ট্রের উদ্দেশে কয়েকটি প্রশ্নও তুলেছেন অভিনেত্রী। তিনি জানতে চান, একজন মানুষের হারিয়ে যাওয়া সম্মান, সামাজিক মর্যাদা কিংবা মানসিক শান্তি আদৌ ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব কি না। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো নির্দোষ মানুষ এমন পরিস্থিতির শিকার না হন। তাঁর মতে, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হলে সাধারণ মানুষের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
বর্তমানে ২০২১ সালের মাদক মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা বোট ক্লাবের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রমও চলমান। তাই এসব বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই আইনি সত্য নির্ধারণ করবে। এদিকে দীর্ঘ পোস্টের শেষ অংশে পরীমনি তাঁর পরিবার, সহকর্মী, বন্ধু, সাংবাদিক ও ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। অতীতের ক্ষত পেছনে ফেলে নিজের সন্তান, পরিবার, অভিনয়জীবন এবং দর্শকের ভালোবাসা নিয়েই নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।


























