ঢাকা ০৪:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বর্ষায় ইমিউনিটি বাড়াতে ৫ পুষ্টিকর সালাদের আইডিয়া Logo চট্টগ্রাম জলাবদ্ধতা: অবৈধ স্লুইস গেট বন্ধে বন্যার দুর্ভোগ আরও বাড়ল Logo স্টক নাকি ব্রথ? রান্নায় কোনটি ব্যবহার করবেন জানুন Logo বিয়ের নাম শুনলেই পালিয়ে যেতে ইচ্ছে করে? জানুন এর আসল কারণ Logo বর্ষায় শাড়িতে আরাম ও আভিজাত্য, জানুন সেরা ফ্যাশন টিপস Logo চায়ে ভেজাল! কোন রাসায়নিক মেশানো হয়, চিনবেন যেভাবে Logo ধনেপাতা দীর্ঘদিন সতেজ রাখার ৫ কার্যকর ঘরোয়া উপায় Logo বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, দুই সড়কে যোগাযোগ বন্ধ Logo মাত্র ৫০ টাকায় পুষ্টিকর ব্রেকফাস্ট, জানালেন চিকিৎসক Logo দুপুরে ভাতঘুমে কি সত্যিই বাড়ে ব্লাড সুগার? কতক্ষণ ঘুম নিরাপদ, জানালেন বিশেষজ্ঞ

বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, দুই সড়কে যোগাযোগ বন্ধ

বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির কারণে দুই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

টানা ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে আবারও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বান্দরবানের বন্যা পরিস্থিতি। জেলার বিভিন্ন নতুন এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়েছে এবং বান্দরবান-কেরানীহাট ও বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দুর্যোগে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে এবং উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করেছে প্রশাসন।

শনিবার (১১ জুলাই) ভোর থেকে শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এতে বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যায় এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো পানির নিচে চলে যাওয়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়ক। বন্যার পানিতে সড়কটি তলিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রামের সঙ্গে জেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। একই সময়ে বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কের ব্রিজঘাট সেতু পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওই পথেও যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এদিকে বান্দরবান-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন অংশেও পানি উঠে যাওয়ায় দেশের অন্যান্য জেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফলে জরুরি পণ্য পরিবহন, চিকিৎসাসেবা এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে বড় ধরনের দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

পাহাড়ধসের ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে। রুমা, থানচি, আলীকদম, লামা ও নাইক্ষ্যংছড়িসহ বিভিন্ন উপজেলার সড়কে পাহাড়ধসে মাটি ও গাছ পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে। এতে দুর্গম এলাকার বাসিন্দারা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।

গত কয়েক দিনের টানা দুর্যোগে বান্দরবানে পাহাড়ধসে পাঁচজন এবং বন্যার পানিতে ভেসে এক শিশুসহ মোট ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় প্রশাসন মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে।

বন্যার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও মোবাইল নেটওয়ার্কও অনেক এলাকায় বিঘ্নিত হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ায় দুর্গত মানুষের সঙ্গে স্বজনদের যোগাযোগ করতেও সমস্যা হচ্ছে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রীর সংকট দেখা দিয়েছে।

সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য পরিবহনেও স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হলে বাজারে প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহে সংকট দেখা দিতে পারে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার কাজও অব্যাহত রয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত এলাকার মানুষের জন্য ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা পরিবারগুলোর জন্য শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পাহাড়ধসের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিংপ্রু জেরী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রশাসনের সমন্বয়ে বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, দুর্গত মানুষের পাশে সরকার রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনও ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। এ কারণে প্রশাসন সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছে।

দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টানা বর্ষণের কারণে পাহাড়ের মাটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাই পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ। একই সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য নিয়মিত অনুসরণ করারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

জনপ্রিয় সংবাদ

বর্ষায় ইমিউনিটি বাড়াতে ৫ পুষ্টিকর সালাদের আইডিয়া

বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, দুই সড়কে যোগাযোগ বন্ধ

Update Time : ০২:৩৮:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

টানা ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে আবারও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বান্দরবানের বন্যা পরিস্থিতি। জেলার বিভিন্ন নতুন এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়েছে এবং বান্দরবান-কেরানীহাট ও বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দুর্যোগে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে এবং উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করেছে প্রশাসন।

শনিবার (১১ জুলাই) ভোর থেকে শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এতে বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যায় এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো পানির নিচে চলে যাওয়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়ক। বন্যার পানিতে সড়কটি তলিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রামের সঙ্গে জেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। একই সময়ে বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কের ব্রিজঘাট সেতু পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওই পথেও যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

আরও পড়ুন  ৪ জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা জুলাই-আগস্টে বন্যা নিয়ে সতর্কবার্তা

এদিকে বান্দরবান-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন অংশেও পানি উঠে যাওয়ায় দেশের অন্যান্য জেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফলে জরুরি পণ্য পরিবহন, চিকিৎসাসেবা এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে বড় ধরনের দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

পাহাড়ধসের ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে। রুমা, থানচি, আলীকদম, লামা ও নাইক্ষ্যংছড়িসহ বিভিন্ন উপজেলার সড়কে পাহাড়ধসে মাটি ও গাছ পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে। এতে দুর্গম এলাকার বাসিন্দারা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।

গত কয়েক দিনের টানা দুর্যোগে বান্দরবানে পাহাড়ধসে পাঁচজন এবং বন্যার পানিতে ভেসে এক শিশুসহ মোট ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় প্রশাসন মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে।

বন্যার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও মোবাইল নেটওয়ার্কও অনেক এলাকায় বিঘ্নিত হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ায় দুর্গত মানুষের সঙ্গে স্বজনদের যোগাযোগ করতেও সমস্যা হচ্ছে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রীর সংকট দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন  ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত: জরুরি ঝড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস সমুদ্রবন্দরে

সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য পরিবহনেও স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হলে বাজারে প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহে সংকট দেখা দিতে পারে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার কাজও অব্যাহত রয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত এলাকার মানুষের জন্য ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা পরিবারগুলোর জন্য শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পাহাড়ধসের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন  চকবাজারের আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের রেকর্ড ৬ ইউনিটের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান

বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিংপ্রু জেরী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রশাসনের সমন্বয়ে বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, দুর্গত মানুষের পাশে সরকার রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনও ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। এ কারণে প্রশাসন সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছে।

দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টানা বর্ষণের কারণে পাহাড়ের মাটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাই পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ। একই সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য নিয়মিত অনুসরণ করারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।