ধর্মমন্ত্রীর তহবিল অনুদান কর্মসূচির আওতায় কুমিল্লার মুরাদনগরে ৪৭ জন ব্যক্তি ও বিভিন্ন সামাজিক-ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাঝে মোট ১০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। অসচ্ছল মানুষ, দুস্থ পরিবার এবং জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে সহায়তা করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মুরাদনগর উপজেলার কবি নজরুল মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুদানের চেক ও সহায়তার কাগজপত্র উপকারভোগীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
মানবিক সহায়তায় সরকারের উদ্যোগ
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ বি এম সারোয়ার রাব্বী। প্রধান অতিথির পক্ষে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ)-এর স্বেচ্ছাধীন তহবিলের সহায়তা কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
বক্তারা বলেন, সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পাশাপাশি স্বেচ্ছাধীন তহবিলের অনুদান অসহায় মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজ করছে। এই সহায়তা অনেক পরিবারের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী কাজী জুন্নুন বসরী।
তিনি বলেন, সমাজের বিত্তবান ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের উচিত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। সরকারের পাশাপাশি সমাজের সবাই যদি মানবিক দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান আরও উন্নত হবে।
আরও যাঁরা বক্তব্য দেন
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বরুণ চন্দ্র দে অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন।
এ সময় বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খান এবং উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. সফিকুল ইসলাম।
বক্তারা বলেন, সমাজকল্যাণমূলক এই উদ্যোগ শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং অসহায় মানুষের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী আরও উপকৃত হবে।
রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিদের উপস্থিতি
অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন, সদস্যসচিব মোল্লা মজিবুল হক, উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব সৈয়দ হাসান আহমেদ, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি নায়েব আলী, উপজেলা যুবদলের সদস্য মাসুম মুন্সিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সুধীজন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
৪৭ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাঝে ১০ লাখ টাকা
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ধর্মমন্ত্রীর স্বেচ্ছাধীন তহবিল থেকে মোট ১০ লাখ টাকা ৪৭ জন ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
এ সহায়তার আওতায় অসচ্ছল ব্যক্তি, দরিদ্র পরিবার, মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আর্থিক অনুদান পেয়েছে।
উপকারভোগীদের কৃতজ্ঞতা
অনুদান পাওয়া ব্যক্তিরা সরকারের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তাদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এমন সহায়তা পরিবার পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মানবিক রাষ্ট্র গঠনে সহায়ক উদ্যোগ
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, স্বেচ্ছাধীন তহবিলের মাধ্যমে অসহায় মানুষ ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের পাশে দাঁড়ানোর এ ধরনের উদ্যোগ সামাজিক বৈষম্য কমাতে এবং মানবিক রাষ্ট্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।




























