ঢাকা ০৯:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আনোয়ারা উপকূলে ভেসে এল অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মরদেহ Logo ‘তোমাকে সব সময় ভালোবাসি’—জন্মদিনে স্বামীর বার্তায় যা লিখলেন পূর্ণিমা Logo ‘ফ্রান্সের উচিত আমাদের ভয় পাওয়া’ Logo বাংলাদেশিদের অভিবাসী ভিসা স্থগিত: কারণ জানাল মার্কিন দূতাবাস Logo মিশরে ৭০০ পবিত্র কোরআন বিতরণ করলেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা Logo পোশাক খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে ঢাকায় বসবে ‘বায়লা ফিউচার সামিট’ Logo পাঠ্যপুস্তকে বড় পরিমার্জন, নতুন কারিকুলামে আনন্দময় শিক্ষায় জোর Logo ইংল্যান্ড বনাম নরওয়ে: অবাক করা ভবিষ্যদ্বাণী দিল সুপার কম্পিউটার Logo সিলেট বিভাগে বন্যা : লাখের অধিক মানুষ পানিবন্দি Logo রেশনের সুবিধা পেতে যাচ্ছেন ১২–২০ গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীরা

ঢাবির ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আলোচনা। ছবি: সংগৃহীত

তারুণ্য স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ শীর্ষক বিশেষ আয়োজন আগামী ১৪ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ এবং উদ্যোক্তা সম্ভাবনাকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠির আয়োজন করেছে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ (আইসিটি বিভাগ)। এতে সহযোগিতা করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ আয়োজন

আয়োজকদের মতে, দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করা এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা সহজলভ্য করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তরুণ উদ্যোক্তা, প্রযুক্তি উদ্ভাবক, বিনিয়োগকারী, নীতিনির্ধারক এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

যাঁরা উপস্থিত থাকবেন

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং প্রধানমন্ত্রীর সংশ্লিষ্ট বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্য দেবেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা।

স্বাগত বক্তব্য রাখবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান।

সমাপনী অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম নিয়ে তথ্যচিত্র

অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম নিয়ে নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে।

এছাড়া দেশের সফল উদ্যোক্তারা তাদের ব্যবসা গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ এবং সাফল্যের গল্প তুলে ধরবেন। তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার পথে অনুপ্রাণিত করাই এর মূল লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মুক্ত আলোচনা

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ থাকবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মুক্ত আলোচনা।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্টার্টআপ, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান এবং ভবিষ্যৎ উদ্যোক্তা উন্নয়ন নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ পাবেন।

এছাড়া নির্বাচিত স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের মধ্যে সরকারি অনুদানের চেকও বিতরণ করা হবে।

উদ্বোধন হবে জাতীয় স্টার্টআপ প্ল্যাটফর্ম

অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম

আয়োজকদের ভাষ্য, এটি উদ্যোক্তাদের জন্য একটি জাতীয় ডিজিটাল লঞ্চপ্যাড হিসেবে কাজ করবে।

এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা এক জায়গা থেকেই জানতে পারবেন—

  1. সরকারি স্টার্টআপ সহায়তা কর্মসূচি
  2. উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ
  3. মেন্টরশিপ ও পরামর্শসেবা
  4. বিনিয়োগ ও ফান্ডিংয়ের সুযোগ
  5. বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও ইনকিউবেশন প্রোগ্রামের তথ্য
  6. সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা কার্যক্রম

এতে দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম আরও সমন্বিত ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ জানিয়েছে, দেশের তরুণদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায়িক উদ্যোগে রূপ দিতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

স্টার্টআপ, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং ডিজিটাল উদ্যোক্তা তৈরিকে সরকারের উন্নয়ন কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারেও স্টার্টআপ উন্নয়ন এবং তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

নতুন প্রজন্মের জন্য সম্ভাবনার নতুন দুয়ার

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক স্টার্টআপ সংস্কৃতি গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিক্ষার্থীরা যদি উদ্ভাবনী ধারণাকে ব্যবসায়িক উদ্যোগে রূপ দিতে পারেন, তবে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশ এবং দেশের জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গঠনে তা বড় অবদান রাখবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আনোয়ারা উপকূলে ভেসে এল অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মরদেহ

ঢাবির ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

Update Time : ০৬:৫৫:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

তারুণ্য স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ শীর্ষক বিশেষ আয়োজন আগামী ১৪ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ এবং উদ্যোক্তা সম্ভাবনাকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠির আয়োজন করেছে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ (আইসিটি বিভাগ)। এতে সহযোগিতা করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ আয়োজন

আয়োজকদের মতে, দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করা এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা সহজলভ্য করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তরুণ উদ্যোক্তা, প্রযুক্তি উদ্ভাবক, বিনিয়োগকারী, নীতিনির্ধারক এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

আরও পড়ুন  যারা ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ বলছে তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী

যাঁরা উপস্থিত থাকবেন

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং প্রধানমন্ত্রীর সংশ্লিষ্ট বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্য দেবেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা।

স্বাগত বক্তব্য রাখবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান।

সমাপনী অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম নিয়ে তথ্যচিত্র

অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম নিয়ে নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে।

এছাড়া দেশের সফল উদ্যোক্তারা তাদের ব্যবসা গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ এবং সাফল্যের গল্প তুলে ধরবেন। তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার পথে অনুপ্রাণিত করাই এর মূল লক্ষ্য।

আরও পড়ুন  দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী, চীন সফর শেষে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মুক্ত আলোচনা

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ থাকবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মুক্ত আলোচনা।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্টার্টআপ, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান এবং ভবিষ্যৎ উদ্যোক্তা উন্নয়ন নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ পাবেন।

এছাড়া নির্বাচিত স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের মধ্যে সরকারি অনুদানের চেকও বিতরণ করা হবে।

উদ্বোধন হবে জাতীয় স্টার্টআপ প্ল্যাটফর্ম

অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম

আয়োজকদের ভাষ্য, এটি উদ্যোক্তাদের জন্য একটি জাতীয় ডিজিটাল লঞ্চপ্যাড হিসেবে কাজ করবে।

এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা এক জায়গা থেকেই জানতে পারবেন—

  1. সরকারি স্টার্টআপ সহায়তা কর্মসূচি
  2. উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ
  3. মেন্টরশিপ ও পরামর্শসেবা
  4. বিনিয়োগ ও ফান্ডিংয়ের সুযোগ
  5. বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও ইনকিউবেশন প্রোগ্রামের তথ্য
  6. সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা কার্যক্রম

এতে দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম আরও সমন্বিত ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  স্মার্ট বাংলাদেশ ব্রডব্যান্ড: ডিজিটাল অগ্রযাত্রায় নতুন সম্ভাবনা

জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ জানিয়েছে, দেশের তরুণদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায়িক উদ্যোগে রূপ দিতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

স্টার্টআপ, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং ডিজিটাল উদ্যোক্তা তৈরিকে সরকারের উন্নয়ন কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারেও স্টার্টআপ উন্নয়ন এবং তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

নতুন প্রজন্মের জন্য সম্ভাবনার নতুন দুয়ার

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক স্টার্টআপ সংস্কৃতি গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিক্ষার্থীরা যদি উদ্ভাবনী ধারণাকে ব্যবসায়িক উদ্যোগে রূপ দিতে পারেন, তবে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশ এবং দেশের জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গঠনে তা বড় অবদান রাখবে।