ঢাকা ০৬:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আল্লাহ ছাড়া কারো নামে কসম কাটা যায়? কসমের কাফফারা কী? Logo জামানত ছাড়াই ১০ লাখ টাকা ঋণ পাবেন নতুন উদ্যোক্তারা: অর্থমন্ত্রী Logo ডেঙ্গুতে একজনের প্রাণহানি, হাসপাতালে ভর্তি ৩৫০ Logo ডেঙ্গুতে আরও ১ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৩৫০ Logo বাংলাদেশে বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সমবেদনা Logo জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo প্রধানমন্ত্রী বন্যা পরিস্থিতি মনিটর করছেন: মাহদী আমিন Logo ফিফা বিশ্বকাপ গোল্ডেন বল ২০২৬ জিতবেন কে? Logo বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অফিসার ক্যাডেট নিয়োগ-বিস্তারিত জানুন। Logo এশিয়া প্রেস্টিজ সিইও এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেলেন ইলেকট্রো মার্টের নুরুল আফছার

অবসেশন সিনেমা : ১২ কোটি বাজেটে ৪ হাজার কোটি আয়

অবসেশন সিনেমার একটি দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

অবসেশন সিনেমা রিভিউ এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। মাত্র ১ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১২ কোটি টাকা) বাজেটে নির্মিত এই স্বাধীন হরর সিনেমা বক্স অফিসে আয় করেছে ৩৭৭ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এমন সাফল্যের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—কী আছে এই ছবিতে, যা দর্শকদের এতটা আকৃষ্ট করেছে?

সিনেমার গল্প শুরু হয় এক সাধারণ তরুণকে ঘিরে। সে নিজের সহকর্মীকে ভালোবাসলেও কখনো সাহস করে মনের কথা বলতে পারে না। হঠাৎ এক রহস্যময় জাদুকাঠি হাতে পেয়ে সে এমন একটি ইচ্ছা প্রকাশ করে, যা তার জীবনকে মুহূর্তেই বদলে দেয়। কিন্তু সেই ইচ্ছাই ধীরে ধীরে ভয়ংকর অভিশাপে পরিণত হয়।

নির্মাতা ক্যারি বার্কার পরিচিত হরর ফর্মুলাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন। জাম্প স্কেয়ার, মনস্তাত্ত্বিক ভয়, ডার্ক হিউমার এবং সম্পর্কের জটিলতাকে একসঙ্গে মিশিয়ে তৈরি করেছেন এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা। শুরুতে এটি রোমান্টিক গল্প মনে হলেও পরে তা রক্তাক্ত হরর থ্রিলারে রূপ নেয়।

ছবির সবচেয়ে বড় শক্তি অভিনয়। মাইকেল জনস্টন সংযত অভিনয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। তবে ইন্দে নাভারেটের অভিনয়ই সিনেমার প্রাণ। ভালোবাসা, ভয়, উন্মাদনা ও অসহায়ত্ব—সবকিছুই তিনি দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

অবসেশন সিনেমা রিভিউ-এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর নির্মাণশৈলী। সীমিত বাজেটেও সিনেমাটোগ্রাফি, সম্পাদনা এবং ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এমনভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা দর্শককে পুরো সময় পর্দার সঙ্গে আটকে রাখে। প্রতিটি দৃশ্যে উত্তেজনা ধীরে ধীরে তৈরি হয়, ফলে ভয় আরও বাস্তব মনে হয়।

ছবির গল্প শুধু অতিপ্রাকৃত শক্তিকে ঘিরে নয়, বরং মানুষের আকাঙ্ক্ষা, একতরফা ভালোবাসা এবং নিয়ন্ত্রণের ইচ্ছা কীভাবে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, সেটিও তুলে ধরে। এই কারণেই সাধারণ হরর সিনেমার বাইরে গিয়ে এটি মনস্তাত্ত্বিক নাটক হিসেবেও দর্শকদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

তবে সিনেমাটির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। কিছু জায়গায় গতি ধীর মনে হতে পারে এবং কয়েকটি চরিত্রের গভীরতা আরও বাড়ানো যেত। পাশাপাশি কিছু সহিংস দৃশ্য সংবেদনশীল দর্শকদের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে।

সব মিলিয়ে অবসেশন সিনেমা রিভিউ বলছে, এটি শুধু ভয় দেখানোর জন্য নির্মিত কোনো সাধারণ হরর ছবি নয়। শক্তিশালী গল্প, অসাধারণ অভিনয় এবং চমৎকার নির্মাণশৈলীর কারণে এটি চলতি বছরের অন্যতম আলোচিত সিনেমায় পরিণত হয়েছে।

যাঁরা মনস্তাত্ত্বিক হরর, ডার্ক কমেডি এবং টানটান থ্রিলার পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য ‘অবসেশন’ হতে পারে দারুণ একটি পছন্দ। কম বাজেটেও যে বিশ্বমানের সিনেমা তৈরি করা সম্ভব, সেটিই আবারও প্রমাণ করেছে এই ছবি।

জনপ্রিয় সংবাদ

আল্লাহ ছাড়া কারো নামে কসম কাটা যায়? কসমের কাফফারা কী?

অবসেশন সিনেমা : ১২ কোটি বাজেটে ৪ হাজার কোটি আয়

Update Time : ০৪:১৭:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

অবসেশন সিনেমা রিভিউ এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। মাত্র ১ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১২ কোটি টাকা) বাজেটে নির্মিত এই স্বাধীন হরর সিনেমা বক্স অফিসে আয় করেছে ৩৭৭ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এমন সাফল্যের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—কী আছে এই ছবিতে, যা দর্শকদের এতটা আকৃষ্ট করেছে?

সিনেমার গল্প শুরু হয় এক সাধারণ তরুণকে ঘিরে। সে নিজের সহকর্মীকে ভালোবাসলেও কখনো সাহস করে মনের কথা বলতে পারে না। হঠাৎ এক রহস্যময় জাদুকাঠি হাতে পেয়ে সে এমন একটি ইচ্ছা প্রকাশ করে, যা তার জীবনকে মুহূর্তেই বদলে দেয়। কিন্তু সেই ইচ্ছাই ধীরে ধীরে ভয়ংকর অভিশাপে পরিণত হয়।

আরও পড়ুন  মাস্তুল প্রচারণা গানে বাবুর হৃদয়ছোঁয়া চমক, জানুন বিশেষ কারণ

নির্মাতা ক্যারি বার্কার পরিচিত হরর ফর্মুলাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন। জাম্প স্কেয়ার, মনস্তাত্ত্বিক ভয়, ডার্ক হিউমার এবং সম্পর্কের জটিলতাকে একসঙ্গে মিশিয়ে তৈরি করেছেন এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা। শুরুতে এটি রোমান্টিক গল্প মনে হলেও পরে তা রক্তাক্ত হরর থ্রিলারে রূপ নেয়।

ছবির সবচেয়ে বড় শক্তি অভিনয়। মাইকেল জনস্টন সংযত অভিনয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। তবে ইন্দে নাভারেটের অভিনয়ই সিনেমার প্রাণ। ভালোবাসা, ভয়, উন্মাদনা ও অসহায়ত্ব—সবকিছুই তিনি দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

অবসেশন সিনেমা রিভিউ-এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর নির্মাণশৈলী। সীমিত বাজেটেও সিনেমাটোগ্রাফি, সম্পাদনা এবং ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এমনভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা দর্শককে পুরো সময় পর্দার সঙ্গে আটকে রাখে। প্রতিটি দৃশ্যে উত্তেজনা ধীরে ধীরে তৈরি হয়, ফলে ভয় আরও বাস্তব মনে হয়।

আরও পড়ুন  ফিফার বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের ছোঁয়া, আলোচনায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পী সঞ্জয় দেব

ছবির গল্প শুধু অতিপ্রাকৃত শক্তিকে ঘিরে নয়, বরং মানুষের আকাঙ্ক্ষা, একতরফা ভালোবাসা এবং নিয়ন্ত্রণের ইচ্ছা কীভাবে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, সেটিও তুলে ধরে। এই কারণেই সাধারণ হরর সিনেমার বাইরে গিয়ে এটি মনস্তাত্ত্বিক নাটক হিসেবেও দর্শকদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

তবে সিনেমাটির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। কিছু জায়গায় গতি ধীর মনে হতে পারে এবং কয়েকটি চরিত্রের গভীরতা আরও বাড়ানো যেত। পাশাপাশি কিছু সহিংস দৃশ্য সংবেদনশীল দর্শকদের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে।

আরও পড়ুন  সুপারগার্ল সিনেমা মুক্তি | চার দশক পর ফিরেই ডিসির সবচেয়ে বড় চমক

সব মিলিয়ে অবসেশন সিনেমা রিভিউ বলছে, এটি শুধু ভয় দেখানোর জন্য নির্মিত কোনো সাধারণ হরর ছবি নয়। শক্তিশালী গল্প, অসাধারণ অভিনয় এবং চমৎকার নির্মাণশৈলীর কারণে এটি চলতি বছরের অন্যতম আলোচিত সিনেমায় পরিণত হয়েছে।

যাঁরা মনস্তাত্ত্বিক হরর, ডার্ক কমেডি এবং টানটান থ্রিলার পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য ‘অবসেশন’ হতে পারে দারুণ একটি পছন্দ। কম বাজেটেও যে বিশ্বমানের সিনেমা তৈরি করা সম্ভব, সেটিই আবারও প্রমাণ করেছে এই ছবি।