ঢাকা ০৮:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বুড়িচংয়ে ভাড়াবাসা থেকে চালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার,পলাতক স্ত্রী

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ভাড়াবাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

বুড়িচং মরদেহ উদ্ধার ঘটনাকে ঘিরে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের নিমসার এলাকার একটি ভাড়াবাসা থেকে পিকআপ চালক মোহাম্মদ ইব্রাহিমের (৩৫) অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (১৩ জুলাই) বিকেলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের ভেতর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী রেহেনা বেগম নিখোঁজ রয়েছেন, যার কারণে তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা অবস্থায় ইব্রাহিম দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে নিমসার এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। তবে প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের ভরণ-পোষণ, পারিবারিক দায়িত্ব এবং আর্থিক বিষয় নিয়ে দাম্পত্য জীবনে প্রায়ই বিরোধ দেখা দিত। তদন্ত কর্মকর্তারা এসব পারিবারিক বিরোধের বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছেন। যদিও এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন ধরে ঘরটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। ভেতর থেকে কোনো সাড়া-শব্দ না পেলেও বিষয়টি প্রথমে কেউ গুরুত্ব দেননি। পরে রবিবার দুপুরে পাশের ভাড়াটিয়ারা তীব্র দুর্গন্ধ অনুভব করলে বাড়ির মালিককে জানান। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ দরজা খুলে ঘরের ভেতরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলন্ত অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ধারণা, তিন থেকে চার দিন আগেই ইব্রাহিমের মৃত্যু হয়েছে।

বুড়িচং মরদেহ উদ্ধার মামলার তদন্তে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নমুনা নেওয়া হয়েছে এবং নিহতের মোবাইল ফোনের তথ্য, কল রেকর্ড ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের কাজ চলছে। এছাড়া প্রতিবেশী, বাড়ির মালিক এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার আগে-পরে কী ঘটেছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি সন্দেহজনক হওয়ায় হত্যাকাণ্ডের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী রেহেনা বেগমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে এবং তার অবস্থান শনাক্তে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে বুড়িচং মরদেহ উদ্ধার ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং প্রকৃত দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ বলছে, প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং কোনো তথ্যই গুরুত্বহীন হিসেবে দেখা হচ্ছে না। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ বা কারও সম্পৃক্ততা সম্পর্কে চূড়ান্ত মন্তব্য করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আশা, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনাটির প্রকৃত রহস্য দ্রুত উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বুড়িচংয়ে ভাড়াবাসা থেকে চালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার,পলাতক স্ত্রী

Update Time : ০৬:২১:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

বুড়িচং মরদেহ উদ্ধার ঘটনাকে ঘিরে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের নিমসার এলাকার একটি ভাড়াবাসা থেকে পিকআপ চালক মোহাম্মদ ইব্রাহিমের (৩৫) অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (১৩ জুলাই) বিকেলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের ভেতর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী রেহেনা বেগম নিখোঁজ রয়েছেন, যার কারণে তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা অবস্থায় ইব্রাহিম দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে নিমসার এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। তবে প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের ভরণ-পোষণ, পারিবারিক দায়িত্ব এবং আর্থিক বিষয় নিয়ে দাম্পত্য জীবনে প্রায়ই বিরোধ দেখা দিত। তদন্ত কর্মকর্তারা এসব পারিবারিক বিরোধের বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছেন। যদিও এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন  ফুলগাজীতে র‍্যাবের অভিযানে বিদেশি মদ-ইয়াবাসহ আটক ১

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন ধরে ঘরটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। ভেতর থেকে কোনো সাড়া-শব্দ না পেলেও বিষয়টি প্রথমে কেউ গুরুত্ব দেননি। পরে রবিবার দুপুরে পাশের ভাড়াটিয়ারা তীব্র দুর্গন্ধ অনুভব করলে বাড়ির মালিককে জানান। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ দরজা খুলে ঘরের ভেতরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলন্ত অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ধারণা, তিন থেকে চার দিন আগেই ইব্রাহিমের মৃত্যু হয়েছে।

আরও পড়ুন  পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ৭ জুন

বুড়িচং মরদেহ উদ্ধার মামলার তদন্তে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নমুনা নেওয়া হয়েছে এবং নিহতের মোবাইল ফোনের তথ্য, কল রেকর্ড ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের কাজ চলছে। এছাড়া প্রতিবেশী, বাড়ির মালিক এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার আগে-পরে কী ঘটেছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি সন্দেহজনক হওয়ায় হত্যাকাণ্ডের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী রেহেনা বেগমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে এবং তার অবস্থান শনাক্তে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন  দুবাইয়ে গ্রেপ্তার বেনজীরকে শিগগির দেশে আনা হবে

এদিকে বুড়িচং মরদেহ উদ্ধার ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং প্রকৃত দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ বলছে, প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং কোনো তথ্যই গুরুত্বহীন হিসেবে দেখা হচ্ছে না। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ বা কারও সম্পৃক্ততা সম্পর্কে চূড়ান্ত মন্তব্য করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আশা, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনাটির প্রকৃত রহস্য দ্রুত উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে।