ঢাকা ০৩:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ৭ জুন

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ৭ জুন

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় আগামী ৭ জুন ঘোষণা করা হবে। ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন উভয় পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে রায় ঘোষণার এই দিন ধার্য করেন। বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১২টা থেকে শুরু করে বেলা ১টা ৩৬ মিনিট পর্যন্ত আদালতে এই যুক্তিতর্ক পর্ব চলে।

আজ সকাল ৯টার দিকে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে আদালতের হাজতখানায় নিয়ে আসা হয়। এরপর বেলা ১১টা ২৪ মিনিটে কড়া পুলিশি পাহারায় তাঁকে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় হাজির করা হয় বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। অন্য আসামি স্বপ্না আক্তার অসুস্থ থাকায় বেলা ১১টা ৩৯ মিনিটে হাসপাতাল থেকে সরাসরি আদালতে এসে পৌঁছান।

দুপুরে আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে জোরালোভাবে তাঁদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। উভয় পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শেষে আদালত আসামিদের উপস্থিতিতেই আগামী সপ্তাহের রবিবার রায় প্রদানের জন্য চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পিটার গোমেজ গণমাধ্যমকে মামলার এই সর্বশেষ অগ্রগতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের সূচনা ঘটেছিল গত ১৯ মে, যখন পল্লবীর একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই ওই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা ও প্রধান আসামি সোহেল বাসার শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তবে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে বাসা থেকে তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করতে সক্ষম হয়।

পলাতক প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ধরতে পুলিশ এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে দ্রুত অভিযান চালানো শুরু করে। অবশেষে ওই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রযুক্তিগত সহায়তায় সোহেলকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই নৃশংস ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় নিহত শিশুটির বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর পুলিশ দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিলে আইনি প্রক্রিয়া আরও গতি পায়। গত ১ জুন ট্রাইব্যুনাল প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন। অভিযোগ গঠনের পর মামলার বিচার শুরুর আদেশ দিয়ে আদালত দ্রুততম সময়ে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেন।

বিচারকাজে গতি এনে গত ২ জুন আদালতে নিহত শিশুটির মা–বাবাসহ মোট ১০ জন সাক্ষী তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য প্রদান করেন। এর আগে গত ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন আসামি সোহেল। সেই জবানবন্দিতে তিনি শিশুটিকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করার কথা নিজের মুখে স্বীকার করেছিলেন।

তবে তদন্তের একপর্যায়ে আদালতে হাজির করা হলে আসামি সোহেল রানা হঠাৎ করেই তাঁর আগের অবস্থান পরিবর্তন করেন। গত ১ জুন তিনি আদালতে দাবি করেন যে, ডলার নামের অন্য এক ব্যক্তি শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যা করেছে। ডলারের পরিচয় সম্পর্কে তিনি আদালতকে জানান যে, ওই ব্যক্তির বাড়ি মিরপুরে এবং সে অনেক প্রভাবশালী।

নিজেকে ও স্ত্রীকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে ১ জুন সোহেল রানা বিচারকের সামনে বলেন, ‘আমি মারিনি, ধর্ষণও করিনি’। তবে এর পরদিনই অর্থাৎ ২ জুন আদালতে দাঁড়িয়ে তিনি আবার সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিতে শুরু করেন। সেদিন তিনি বলেন, ‘আমার সাথে ডলার ছিল, তারে আপনারা ধরেন; আমিও দোষ করেছি, ডলারও করেছে’।

আসামিপক্ষের এই দ্বিমুখী বক্তব্যের বিপরীতে সরকার নিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্লাহ সম্পূর্ণ ভিন্ন এক তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, আইনি পরামর্শ নেওয়ার সময় আসামিরা তাঁর কাছে ‘ডলার’ নামের কোনো ব্যক্তির অস্তিত্বের কথা কখনোই বলেনি। এমনকি পুলিশের দাপ্তরিক তদন্ত রিপোর্টেও ডলার নামের অন্য কোনো ব্যক্তির নাম বা সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ৭ জুন

Update Time : ০১:৫৫:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় আগামী ৭ জুন ঘোষণা করা হবে। ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন উভয় পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে রায় ঘোষণার এই দিন ধার্য করেন। বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১২টা থেকে শুরু করে বেলা ১টা ৩৬ মিনিট পর্যন্ত আদালতে এই যুক্তিতর্ক পর্ব চলে।

আজ সকাল ৯টার দিকে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে আদালতের হাজতখানায় নিয়ে আসা হয়। এরপর বেলা ১১টা ২৪ মিনিটে কড়া পুলিশি পাহারায় তাঁকে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় হাজির করা হয় বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। অন্য আসামি স্বপ্না আক্তার অসুস্থ থাকায় বেলা ১১টা ৩৯ মিনিটে হাসপাতাল থেকে সরাসরি আদালতে এসে পৌঁছান।

দুপুরে আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে জোরালোভাবে তাঁদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। উভয় পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শেষে আদালত আসামিদের উপস্থিতিতেই আগামী সপ্তাহের রবিবার রায় প্রদানের জন্য চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পিটার গোমেজ গণমাধ্যমকে মামলার এই সর্বশেষ অগ্রগতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন  পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা: সোহেল ও স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড দাবি

ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের সূচনা ঘটেছিল গত ১৯ মে, যখন পল্লবীর একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই ওই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা ও প্রধান আসামি সোহেল বাসার শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তবে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে বাসা থেকে তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করতে সক্ষম হয়।

পলাতক প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ধরতে পুলিশ এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে দ্রুত অভিযান চালানো শুরু করে। অবশেষে ওই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রযুক্তিগত সহায়তায় সোহেলকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই নৃশংস ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় নিহত শিশুটির বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আরও পড়ুন  চব্বিশের আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেবো না, মির্জা ফখরুল

মামলা দায়েরের পর পুলিশ দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিলে আইনি প্রক্রিয়া আরও গতি পায়। গত ১ জুন ট্রাইব্যুনাল প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন। অভিযোগ গঠনের পর মামলার বিচার শুরুর আদেশ দিয়ে আদালত দ্রুততম সময়ে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেন।

বিচারকাজে গতি এনে গত ২ জুন আদালতে নিহত শিশুটির মা–বাবাসহ মোট ১০ জন সাক্ষী তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য প্রদান করেন। এর আগে গত ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন আসামি সোহেল। সেই জবানবন্দিতে তিনি শিশুটিকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করার কথা নিজের মুখে স্বীকার করেছিলেন।

তবে তদন্তের একপর্যায়ে আদালতে হাজির করা হলে আসামি সোহেল রানা হঠাৎ করেই তাঁর আগের অবস্থান পরিবর্তন করেন। গত ১ জুন তিনি আদালতে দাবি করেন যে, ডলার নামের অন্য এক ব্যক্তি শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যা করেছে। ডলারের পরিচয় সম্পর্কে তিনি আদালতকে জানান যে, ওই ব্যক্তির বাড়ি মিরপুরে এবং সে অনেক প্রভাবশালী।

আরও পড়ুন  লক্ষ্মীপুরে মামলা করতে গিয়ে গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা

নিজেকে ও স্ত্রীকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে ১ জুন সোহেল রানা বিচারকের সামনে বলেন, ‘আমি মারিনি, ধর্ষণও করিনি’। তবে এর পরদিনই অর্থাৎ ২ জুন আদালতে দাঁড়িয়ে তিনি আবার সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিতে শুরু করেন। সেদিন তিনি বলেন, ‘আমার সাথে ডলার ছিল, তারে আপনারা ধরেন; আমিও দোষ করেছি, ডলারও করেছে’।

আসামিপক্ষের এই দ্বিমুখী বক্তব্যের বিপরীতে সরকার নিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্লাহ সম্পূর্ণ ভিন্ন এক তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, আইনি পরামর্শ নেওয়ার সময় আসামিরা তাঁর কাছে ‘ডলার’ নামের কোনো ব্যক্তির অস্তিত্বের কথা কখনোই বলেনি। এমনকি পুলিশের দাপ্তরিক তদন্ত রিপোর্টেও ডলার নামের অন্য কোনো ব্যক্তির নাম বা সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।