ঢাকা ১০:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ৫ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবাসহ টেকনাফে মিয়ানমারের ২ নাগরিক আটক Logo দেশের ৫ জেলায় বন্যার শঙ্কা Logo রাবিতে যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিতদের ছবি সম্বলিত বিলবোর্ড, সমালোচনা Logo ঠাকুরগাঁওয়ে বজ্রাঘাতে একই দিনে তিনজনের মৃত্যু, আহত ২ Logo বাংলাদেশে EO G2 অফ-গ্রিড ইনভার্টার উন্মোচন করল গুডউই Logo দোহারে শিক্ষা, বিজ্ঞান, নারীর ক্ষমতায়ন ও সবুজায়নে জেলা প্রশাসনের বহুমুখী উদ্যোগ Logo যোগদানের ৬ দিন পর বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন প্রত্যাহার Logo গবেষণা প্রত্যাহার: বাংলাদেশি গবেষণায় বড় সতর্কবার্তা Logo আদালত প্রাঙ্গণে আসামিকে স্বজনের দেওয়া পাউরুটিতে ইয়াবা-গাঁজা Logo সীমান্তে কেনাকাটা চলছে নার্কো-কারেন্সিতে : নিত্যপণ্যের বিনিময়ে আসছে মাদক

হত্যাচেষ্টা মামলায় শিশুকে আসামি করার কারণ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৩:২৭:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৪৮

হত্যাচেষ্টা মামলায় সাত বছরের শিশুকে জামিন দিয়েছেন শিশু আদালত। ছবি: সংগৃহীত

হত্যাচেষ্টা মামলা ঘিরে নাটোরের গুরুদাসপুরে একটি অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছে। সাত বছরের এক শিশুকে ২১ বছর বয়সী দেখিয়ে মামলার আসামি করা হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে শিশুটিকে আদালতে হাজির করা হলে বিষয়টি সামনে আসে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শিশুটির নাম হোসেন আলী। সে ধারাবারিষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মামলার কাগজপত্রে তাকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দেখানো হয়েছিল বলে জানা গেছে। পরে আদালতে প্রকৃত বয়সের তথ্য উপস্থাপন করা হলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়। হত্যাচেষ্টা মামলা নিয়ে রোববার গুরুদাসপুরের শিশু আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

শিশু আদালতের বিচারক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম মামলার নথি ও প্রমাণ পর্যালোচনা করেন। আদালতে শিশুর প্রকৃত বয়সের প্রমাণ তুলে ধরেন বিবাদীপক্ষের আইনজীবীরা। এরপর বিচারক শিশুটিকে জামিন দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার বাদীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন আদালত।

হত্যাচেষ্টা মামলাটির সূত্রপাত ঘটে গত ৯ এপ্রিল। সেদিন ধারাবারিষা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী শ্রাবণ সরকারের সঙ্গে কয়েকজন শিশু-কিশোরের মারামারির ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর শ্রাবণের বাবা শাহানুর রহমান বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়। সেই তালিকায় সাত বছরের শিশু হোসেন আলীকেও আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

বিবাদীপক্ষের আইনজীবী শামীম উদ্দিন জানান, মামলার কাগজে শিশুটির বয়স ভুলভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল।  প্রকৃতপক্ষে সে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং তার বয়স মাত্র সাত বছর। আইনজীবী বলেন, আদালতে তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপনের পর বিচারক বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন। এ কারণে শিশুটিকে জামিন দেওয়া হয়েছে।একই সঙ্গে বাদীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

আইনজীবীদের মতে, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিশুটিকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। শিশু আইনের অধীনে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিষয়ে আলাদা বিচারিক প্রক্রিয়া রয়েছে। এ কারণে আদালত বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করছেন। স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকে বলছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল এড়াতে তদন্তে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

জনপ্রিয় সংবাদ

৫ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবাসহ টেকনাফে মিয়ানমারের ২ নাগরিক আটক

হত্যাচেষ্টা মামলায় শিশুকে আসামি করার কারণ

Update Time : ০৩:২৭:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

হত্যাচেষ্টা মামলা ঘিরে নাটোরের গুরুদাসপুরে একটি অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছে। সাত বছরের এক শিশুকে ২১ বছর বয়সী দেখিয়ে মামলার আসামি করা হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে শিশুটিকে আদালতে হাজির করা হলে বিষয়টি সামনে আসে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শিশুটির নাম হোসেন আলী। সে ধারাবারিষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মামলার কাগজপত্রে তাকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দেখানো হয়েছিল বলে জানা গেছে। পরে আদালতে প্রকৃত বয়সের তথ্য উপস্থাপন করা হলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়। হত্যাচেষ্টা মামলা নিয়ে রোববার গুরুদাসপুরের শিশু আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন  নদী-খাল পুনঃখননে কঠোর অবস্থান, দখলমুক্ত করেই এগোবে প্রকল্প

শিশু আদালতের বিচারক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম মামলার নথি ও প্রমাণ পর্যালোচনা করেন। আদালতে শিশুর প্রকৃত বয়সের প্রমাণ তুলে ধরেন বিবাদীপক্ষের আইনজীবীরা। এরপর বিচারক শিশুটিকে জামিন দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার বাদীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন আদালত।

হত্যাচেষ্টা মামলাটির সূত্রপাত ঘটে গত ৯ এপ্রিল। সেদিন ধারাবারিষা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী শ্রাবণ সরকারের সঙ্গে কয়েকজন শিশু-কিশোরের মারামারির ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর শ্রাবণের বাবা শাহানুর রহমান বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়। সেই তালিকায় সাত বছরের শিশু হোসেন আলীকেও আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন  কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যা মামলায় কী বলল আসামিরা

বিবাদীপক্ষের আইনজীবী শামীম উদ্দিন জানান, মামলার কাগজে শিশুটির বয়স ভুলভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল।  প্রকৃতপক্ষে সে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং তার বয়স মাত্র সাত বছর। আইনজীবী বলেন, আদালতে তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপনের পর বিচারক বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন। এ কারণে শিশুটিকে জামিন দেওয়া হয়েছে।একই সঙ্গে বাদীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির নবগঠিত উপদেষ্টা ও কার্যকরী কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

আইনজীবীদের মতে, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিশুটিকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। শিশু আইনের অধীনে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিষয়ে আলাদা বিচারিক প্রক্রিয়া রয়েছে। এ কারণে আদালত বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করছেন। স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকে বলছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল এড়াতে তদন্তে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।