স্পেসএক্স শেয়ার দর কমে যাওয়ায় বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের একজন ইলন মাস্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। মাত্র এক মাস আগে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া স্পেসএক্সের শেয়ার এখন আইপিও মূল্যেরও নিচে নেমে এসেছে। ফলে শুধু কোম্পানির বাজারমূল্যই নয়, কমেছে মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণও। প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ জগতে বিষয়টি এখন অন্যতম আলোচিত ঘটনা।
বুধবার বাজার বন্ধ হওয়ার সময় স্পেসএক্সের প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ছিল ১৩২.৬২ ডলার। অথচ জুন মাসে আইপিওর সময় প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ১৩৫ ডলার। তালিকাভুক্তির পর একসময় শেয়ারটি ২২৫ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। সেই সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে এখন শেয়ারের মূল্য প্রায় ৪১ শতাংশ কমেছে। এতে শুরুতে বিনিয়োগ করা অনেকেই এখন লোকসানের ঝুঁকিতে রয়েছেন।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শুরুতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে স্পেসএক্সের সম্প্রসারণ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। এক্সএআই অধিগ্রহণের পর কোম্পানিটি ডেটা সেন্টার ব্যবসাতেও প্রবেশ করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রত্যাশামতো ইতিবাচক অগ্রগতি না থাকায় বাজারে আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি স্টারলিংক সেবার মূল্য কমানোর ঘোষণাও শেয়ারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
শুধু শেয়ারের দামই নয়, এর প্রভাব পড়েছে ইলন মাস্কের সম্পদমূল্যেও। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, এক দিনেই তাঁর সম্পদ প্রায় ৪.৮ বিলিয়ন ডলার কমেছে। বর্তমানে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৮৬০ বিলিয়ন ডলার। কিছুদিন আগেই বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার রেকর্ড গড়লেও শেয়ারের এই পতনের কারণে সেই অবস্থান থেকে অনেকটাই পিছিয়ে গেছেন তিনি।
বিশ্লেষকদের ধারণা, আগস্টে প্রকাশিত হতে যাওয়া স্পেসএক্সের প্রথম ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদনই নির্ধারণ করবে কোম্পানিটির পরবর্তী গতিপথ। যদি আয় ও ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক চিত্র উঠে আসে, তাহলে শেয়ারের দাম আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে। অন্যদিকে প্রত্যাশা পূরণ না হলে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে।
বর্তমানে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারবাজারে অস্থিরতা থাকলেও স্পেসএক্সের পতন তুলনামূলকভাবে বেশি নজর কাড়ছে। বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে তাদের ব্যবসায়িক ফলাফল, এআই খাতের অগ্রগতি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের ওপর।























