নুরুল আফছার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন এক সম্মান অর্জন করেছেন। ইলেক্ট্রো মার্ট গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. নুরুল আফছার ‘এশিয়া প্রেস্টিজ ৫০ আন্ডার ৫০ সিইও এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ অর্জন করেছেন। ব্যবসায়িক নেতৃত্ব, উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা এবং শিল্পখাতের উন্নয়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এই মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। এ অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বাংলাদেশের করপোরেট খাতের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সম্প্রতি কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে নুরুল আফছারের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। শাংরি-লা হোটেলে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে এশিয়ার ২৮টি দেশের প্রায় ২৮০ জন করপোরেট নেতা, উদ্যোক্তা ও সিইও অংশ নেন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কম্বোডিয়ার শিল্প, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনমন্ত্রী হেম ভান্দি। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের তরুণ ও উদীয়মান করপোরেট নেতাদের সম্মান জানাতেই প্রতিবছর এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
ইলেক্ট্রো মার্ট গ্রুপ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ব্যবসা, উদ্ভাবন, নেতৃত্ব এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য এ বছর এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে ৫০ জন সিইওকে এই সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যেই জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে ইলেক্ট্রো মার্ট গ্রুপের সিইও মো. নুরুল আফছার। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই স্বীকৃতি দেশের ব্যবসায়িক নেতৃত্বের সক্ষমতা ও সম্ভাবনাকেও নতুনভাবে তুলে ধরেছে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নুরুল আফছার দেশের ইলেকট্রনিকস ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স খাতের উন্নয়ন, আধুনিকায়ন এবং সম্প্রসারণে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর নেতৃত্বে ইলেক্ট্রো মার্ট গ্রুপ নতুন বিপণন কৌশল গ্রহণ, পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, বাজার গবেষণা, গ্রাহকসেবার উন্নয়ন এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে। এসব উদ্যোগের ফলে প্রতিষ্ঠানটি দেশের বাজারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলা, নতুন প্রযুক্তি সংযোজন এবং স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন নুরুল আফছার। তাঁর নেতৃত্বে ইলেক্ট্রো মার্ট শুধু ব্যবসার পরিধি বাড়ায়নি, বরং দেশের ইলেকট্রনিকস শিল্পে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন এবং গ্রাহককেন্দ্রিক সেবা নিশ্চিত করার দিকেও গুরুত্ব দিয়েছে। ব্যবসায়িক দক্ষতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কারণে প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছে।
নুরুল আফছারের এই অর্জনে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ইলেক্ট্রো মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, নুরুল আফছারের দূরদর্শী, উদ্ভাবনী ও ফলপ্রসূ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠানটির সাফল্য ও সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আন্তর্জাতিক এই স্বীকৃতি তাঁর নেতৃত্বের গুণাবলি এবং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের সফল কর্মকাণ্ডেরই প্রতিফলন। ভবিষ্যতেও তাঁর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পুরস্কার গ্রহণের পর নিজের প্রতিক্রিয়ায় নুরুল আফছার বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এমন একটি সম্মান অর্জন করা তাঁর জন্য অত্যন্ত গর্বের ও অনুপ্রেরণার। তিনি মনে করেন, এই স্বীকৃতি শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং ইলেক্ট্রো মার্টের পুরো টিম এবং বাংলাদেশের ইলেকট্রনিকস শিল্পের জন্যও একটি বড় অর্জন। ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার পাশাপাশি দেশের শিল্পখাতকে আন্তর্জাতিক মানে এগিয়ে নিতে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলেও জানান।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ইলেকট্রনিকস ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স শিল্পের সামনে এখন অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে সরকার, শিল্প উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই ইলেক্ট্রো মার্ট ভবিষ্যতেও নতুন বিনিয়োগ, উদ্ভাবন এবং মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের শিল্পখাতকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করে যাবে।
ব্যবসা বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের করপোরেট নেতাদের এমন স্বীকৃতি দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। এটি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোক্তাদেরও নতুনভাবে উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণে উৎসাহিত করবে। নুরুল আফছারের এই সম্মাননা তাই কেবল একজন সিইওর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বাংলাদেশের করপোরেট নেতৃত্ব ও শিল্পখাতের সক্ষমতার একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।























