ঢাকা ১২:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনায় নতুন ঝড়, ফুটবলার নিষিদ্ধের দাবিতে ফিফাকে চিঠি Logo আন্তোনেলা রোকুজ্জো: মেসির স্ত্রী থেকে বিশ্বজুড়ে ফিটনেস আইকন Logo বোয়িং ও এয়ারবাস কিনবে বিমান বাংলাদেশ Logo হালান্ডের বিলাসী ব্যাগ সংগ্রহ, দাম প্রায় ১১ কোটি টাকা Logo চিয়া সিডের উপকারিতা: শক্তিশালী গবেষণায় মিলল নতুন তথ্য Logo বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া, ইতিহাসে নতুন রেকর্ড Logo জাহ্নবী কাপুরের অল গোল্ড লুক: ২৪ ক্যারেট বাস্টিয়ারে নজর কাড়লেন Logo বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮, সাত জেলায় বন্যা Logo ভয়াবহ মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ৩ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু Logo ডিএনসিসির নতুন বাজেট, সড়ক-ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব

ওপেনএআইয়ের নতুন এআই মডেল নিয়ে কেন বাড়ছে তথ্য নিরাপত্তার উদ্বেগ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৮:৫৭:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • ৫২৩

ওপেনএআইয়ের নতুন মডেল নিয়ে উদ্বেগ

ওপেনএআইয়ের নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল জিপিটি–৫.৬ সল  উন্মুক্ত হওয়ার পর থেকেই প্রযুক্তি অঙ্গনে তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) ও রেডিটে একাধিক ব্যবহারকারী অভিযোগ করেছেন, কোডিং-সংক্রান্ত কাজ করার সময় মডেলটি তাঁদের অনুমতি ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ ফাইল, ডেটাবেজ ও অন্যান্য তথ্য মুছে ফেলেছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি এবং ওপেনএআইও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করেনি।

ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিপিটি–৫.৬ সল মূলত কোডিং ও সাইবার নিরাপত্তাভিত্তিক উন্নত এআই মডেল। মডেলটি প্রকাশের পর থেকেই কয়েকজন ডেভেলপার দাবি করেন, এটি কাজ সম্পন্ন করার সময় প্রয়োজনের অতিরিক্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও ডেটা মুছে ফেলেছে। অভিযোগগুলোর কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে সক্ষম এআই এজেন্ট ব্যবহারের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।

এআই স্টার্টআপ আদারসাইডএআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাট শুমার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, জিপিটি–৫.৬ সল ভুলবশত তাঁর ম্যাক কম্পিউটারের প্রায় সব ফাইল মুছে ফেলেছে। পোস্টটির সঙ্গে তিনি একটি স্ক্রিনশটও শেয়ার করেন, যেখানে মডেলটি একটি ভুল কমান্ড চালানোর কথা স্বীকার করেছে বলে দেখা যায়। তাঁর এই পোস্ট প্রযুক্তি অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

আরেক ডেভেলপার জোয়ি কুডিশও অভিযোগ করেন, মডেলটি প্রয়োজনের বাইরে গিয়ে এমন কিছু ফাইল মুছে ফেলেছে, যেগুলো মুছে ফেলার কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। যদিও তাঁর ব্যাকআপ থাকায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি, তবুও তিনি মডেলটির আচরণকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন। একই সময়ে ব্রুনো লেমোস নামের আরেক ডেভেলপার অভিযোগ করেন, জিপিটি–৫.৬ সল তাঁর প্রোডাকশন ডেটাবেজও মুছে ফেলেছে।

অভিযোগের পাশাপাশি আরেকটি বিষয় নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। কয়েকজন ব্যবহারকারীর দাবি, মডেলটি এমন কিছু তথ্য বা অ্যাক্সেস ব্যবহার করেছে, যা তাঁরা সরাসরি অনুমোদন দেননি। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন প্রযুক্তিগত তদন্ত বা নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশ হয়নি। ফলে প্রকৃত কারণ জানতে আরও বিশদ বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে।

এদিকে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) স্যাম অল্টম্যান এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, জিপিটি–৫.৬ সলের ব্যবহার অত্যন্ত দ্রুত বাড়ছে এবং বাড়তি চাহিদা সামাল দিতে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, দ্রুত সম্প্রসারণের এই সময়ে কিছু সাময়িক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে ব্যবহারকারীদের উত্থাপিত নির্দিষ্ট অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

ওপেনএআই প্রকাশিত সিস্টেম কার্ডেও উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে মডেলটি ব্যবহারকারীর উদ্দেশ্যের চেয়ে বেশি সক্রিয় (overly agentic) আচরণ করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে সেখানে দেখানো হয়েছে, অস্পষ্ট নির্দেশনা পেলে মডেলটি কখনও প্রয়োজনের অতিরিক্ত পদক্ষেপ নিতে পারে বা ভুল সিদ্ধান্তের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ঘটাতে পারে। যদিও প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এমন ঘটনা বিরল এবং ঝুঁকি কমাতে একাধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো এআই মডেলের আচরণ শুধু মডেলের ওপর নির্ভর করে না; ব্যবহারকারীর দেওয়া অনুমতি, সফটওয়্যারের কনফিগারেশন, অপারেটিং পরিবেশ এবং স্বয়ংক্রিয় অ্যাক্সেসের মাত্রাও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই অভিযোগগুলোর জন্য শুধুমাত্র এআই মডেলকে দায়ী করার আগে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের নিয়মিত ব্যাকআপ রাখা, প্রোডাকশন সার্ভারে সরাসরি এআইকে পূর্ণ অনুমতি না দেওয়া এবং মানব তদারকি নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

জনপ্রিয় সংবাদ

ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনায় নতুন ঝড়, ফুটবলার নিষিদ্ধের দাবিতে ফিফাকে চিঠি

ওপেনএআইয়ের নতুন এআই মডেল নিয়ে কেন বাড়ছে তথ্য নিরাপত্তার উদ্বেগ

Update Time : ০৮:৫৭:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

ওপেনএআইয়ের নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল জিপিটি–৫.৬ সল  উন্মুক্ত হওয়ার পর থেকেই প্রযুক্তি অঙ্গনে তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) ও রেডিটে একাধিক ব্যবহারকারী অভিযোগ করেছেন, কোডিং-সংক্রান্ত কাজ করার সময় মডেলটি তাঁদের অনুমতি ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ ফাইল, ডেটাবেজ ও অন্যান্য তথ্য মুছে ফেলেছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি এবং ওপেনএআইও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করেনি।

ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিপিটি–৫.৬ সল মূলত কোডিং ও সাইবার নিরাপত্তাভিত্তিক উন্নত এআই মডেল। মডেলটি প্রকাশের পর থেকেই কয়েকজন ডেভেলপার দাবি করেন, এটি কাজ সম্পন্ন করার সময় প্রয়োজনের অতিরিক্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও ডেটা মুছে ফেলেছে। অভিযোগগুলোর কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে সক্ষম এআই এজেন্ট ব্যবহারের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।

আরও পড়ুন  সাবমেরিন ক্যাবল রক্ষণাবেক্ষণে ৪ দিন ধীরগতির ইন্টারনেটের আশঙ্কা

এআই স্টার্টআপ আদারসাইডএআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাট শুমার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, জিপিটি–৫.৬ সল ভুলবশত তাঁর ম্যাক কম্পিউটারের প্রায় সব ফাইল মুছে ফেলেছে। পোস্টটির সঙ্গে তিনি একটি স্ক্রিনশটও শেয়ার করেন, যেখানে মডেলটি একটি ভুল কমান্ড চালানোর কথা স্বীকার করেছে বলে দেখা যায়। তাঁর এই পোস্ট প্রযুক্তি অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

আরেক ডেভেলপার জোয়ি কুডিশও অভিযোগ করেন, মডেলটি প্রয়োজনের বাইরে গিয়ে এমন কিছু ফাইল মুছে ফেলেছে, যেগুলো মুছে ফেলার কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। যদিও তাঁর ব্যাকআপ থাকায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি, তবুও তিনি মডেলটির আচরণকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন। একই সময়ে ব্রুনো লেমোস নামের আরেক ডেভেলপার অভিযোগ করেন, জিপিটি–৫.৬ সল তাঁর প্রোডাকশন ডেটাবেজও মুছে ফেলেছে।

আরও পড়ুন  এজিআই ও ডিজাইনারদের ভবিষ্যৎ: এআই কি চাকরি কেড়ে নেবে?

অভিযোগের পাশাপাশি আরেকটি বিষয় নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। কয়েকজন ব্যবহারকারীর দাবি, মডেলটি এমন কিছু তথ্য বা অ্যাক্সেস ব্যবহার করেছে, যা তাঁরা সরাসরি অনুমোদন দেননি। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন প্রযুক্তিগত তদন্ত বা নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশ হয়নি। ফলে প্রকৃত কারণ জানতে আরও বিশদ বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে।

এদিকে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) স্যাম অল্টম্যান এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, জিপিটি–৫.৬ সলের ব্যবহার অত্যন্ত দ্রুত বাড়ছে এবং বাড়তি চাহিদা সামাল দিতে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, দ্রুত সম্প্রসারণের এই সময়ে কিছু সাময়িক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে ব্যবহারকারীদের উত্থাপিত নির্দিষ্ট অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

ওপেনএআই প্রকাশিত সিস্টেম কার্ডেও উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে মডেলটি ব্যবহারকারীর উদ্দেশ্যের চেয়ে বেশি সক্রিয় (overly agentic) আচরণ করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে সেখানে দেখানো হয়েছে, অস্পষ্ট নির্দেশনা পেলে মডেলটি কখনও প্রয়োজনের অতিরিক্ত পদক্ষেপ নিতে পারে বা ভুল সিদ্ধান্তের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ঘটাতে পারে। যদিও প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এমন ঘটনা বিরল এবং ঝুঁকি কমাতে একাধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  টেলিকম ডাটা সাইবার বিল নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো এআই মডেলের আচরণ শুধু মডেলের ওপর নির্ভর করে না; ব্যবহারকারীর দেওয়া অনুমতি, সফটওয়্যারের কনফিগারেশন, অপারেটিং পরিবেশ এবং স্বয়ংক্রিয় অ্যাক্সেসের মাত্রাও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই অভিযোগগুলোর জন্য শুধুমাত্র এআই মডেলকে দায়ী করার আগে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের নিয়মিত ব্যাকআপ রাখা, প্রোডাকশন সার্ভারে সরাসরি এআইকে পূর্ণ অনুমতি না দেওয়া এবং মানব তদারকি নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস