ঢাকা ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বোয়িং-এয়ারবাস দুটোই কিনছে বাংলাদেশ, জানালেন শামা ওবায়েদ Logo ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনায় নতুন ঝড়, ফুটবলার নিষিদ্ধের দাবিতে ফিফাকে চিঠি Logo আন্তোনেলা রোকুজ্জো: মেসির স্ত্রী থেকে বিশ্বজুড়ে ফিটনেস আইকন Logo বোয়িং ও এয়ারবাস কিনবে বিমান বাংলাদেশ Logo হালান্ডের বিলাসী ব্যাগ সংগ্রহ, দাম প্রায় ১১ কোটি টাকা Logo চিয়া সিডের উপকারিতা: শক্তিশালী গবেষণায় মিলল নতুন তথ্য Logo বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া, ইতিহাসে নতুন রেকর্ড Logo জাহ্নবী কাপুরের অল গোল্ড লুক: ২৪ ক্যারেট বাস্টিয়ারে নজর কাড়লেন Logo বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮, সাত জেলায় বন্যা Logo ভয়াবহ মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ৩ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু

এআইয়ের ফাঁদে চাকরি! মেটার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:২২:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • ৫৪৫

মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ।ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাতৃত্বকালীন ও অসুস্থতাজনিত ছুটিতে থাকা কর্মীদের পরিকল্পিতভাবে ছাঁটাই করার অভিযোগে প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ২৬ জন বর্তমান ও সাবেক কর্মী। তাঁদের দাবি, এআই-নির্ভর মূল্যায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে ছুটিতে থাকা কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ছাঁটাইয়ের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই অভিযোগ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি খাতের কর্মী অধিকার ও এআই ব্যবহারের নৈতিকতা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।

গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় জেলা ফেডারেল আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা চলতি বছরের শুরুতে যে কর্মী ছাঁটাই কার্যক্রম চালায়, সেখানে নির্দিষ্ট কর্মীদের বেছে নিতে একটি অভ্যন্তরীণ এআই-ভিত্তিক ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছিল।

৭১ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, কর্মীদের কাজের মান মূল্যায়নে সরাসরি ব্যবস্থাপকদের মতামতের পরিবর্তে এআই-নির্ভর স্কোরিং ও র‍্যাঙ্কিং ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, কর্মীদের কিবোর্ড ব্যবহার, কম্পিউটারে সক্রিয় থাকার সময়, উৎপাদনশীলতা এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে ছাঁটাইয়ের তালিকা প্রস্তুত করা হয়।

বাদী কর্মীদের দাবি, এই এআই ব্যবস্থা কর্মীদের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নেয়নি। বিশেষ করে মাতৃত্বকালীন ছুটি, অসুস্থতাজনিত ছুটি কিংবা শারীরিক অক্ষমতার কারণে কর্মীরা স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে না পারলেও সিস্টেম তাঁদের কম স্কোর দিয়েছে। ফলে বৈধ ছুটি নেওয়া কর্মীরাই বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ছুটিতে থাকায় অনেক কর্মীর কাজসংক্রান্ত তথ্য সিস্টেমে জমা পড়েনি। এর ফলে তাঁদের উৎপাদনশীলতা কম দেখানো হয়েছে এবং এআই তাঁদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে কম পারফরম্যান্সের কর্মী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বাদীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কার্যত আইনি অধিকার ব্যবহারকারীদের শাস্তি দেওয়ার শামিল।

মামলার অন্যতম বাদী একজন বিজ্ঞানী, যিনি সন্তান জন্ম দেওয়ার মাত্র দুই দিন আগে চাকরি হারানোর নোটিশ পান। আরেকজন প্রকৌশলী চোটের কারণে চিকিৎসাজনিত ছুটিতে ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, ছুটিতে থাকার কারণেই এআই সিস্টেম তাঁর কর্মক্ষমতার রেটিং কমিয়ে দেয় এবং পরে তাঁকে ছাঁটাই করা হয়।

আরেকজন ব্যবস্থাপক জানান, অসুস্থতার কারণে ছুটিতে যাওয়ার মাত্র ১৬ দিনের মাথায় তাঁকে চাকরিচ্যুতির নোটিশ দেওয়া হয়। বাদীদের মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এআই ব্যবস্থার ত্রুটিপূর্ণ মূল্যায়নের কারণে একই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন একাধিক কর্মী।

বাদীপক্ষ আদালতের কাছে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা চেয়েছেন, যাতে ছাঁটাই প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পাশাপাশি চাকরি পুনর্বহাল, বকেয়া বেতন, ক্ষতিপূরণ এবং হারানো অন্যান্য কর্মী সুবিধা ফিরিয়ে দেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, কর্মীদের সম্মতি ছাড়াই অত্যন্ত গোপনে এআই-নির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা চালু করেছিল মেটা। কর্মীদের কিবোর্ডে কোন বোতাম চাপা হচ্ছে, মাউস কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, কোন ব্রাউজার ব্যবহার করা হচ্ছে—এসব তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করা হতো। এমনকি অফিসের ডিভাইসে পাঠানো বার্তা, ই-মেইল ও অবস্থানসংক্রান্ত তথ্যও পর্যবেক্ষণের আওতায় ছিল।

বাদীপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, কর্মীদের অধিকাংশই জানতেন না যে তাঁদের প্রতিদিনের কার্যক্রম এভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নয়, বরং একজন সাধারণ প্রকৌশলীর অভ্যন্তরীণ পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। অনেক টিমের কর্মীদের কাছ থেকে কোনো ধরনের পূর্বানুমতিও নেওয়া হয়নি।

মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ এর আগে এক অভ্যন্তরীণ বৈঠকে বলেছিলেন, কোম্পানির এআই মডেল উন্নত করতে কর্মীদের কাজের ধরন বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ থেকেই ভবিষ্যতের এআই আরও কার্যকরভাবে শেখার সুযোগ পাবে।

তবে মেটার এক মুখপাত্র এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, কর্মী ব্যবস্থাপনা ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত মানুষের মাধ্যমেই নেওয়া হয়েছে। ছাঁটাই প্রক্রিয়ায় এআই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি এবং মামলায় উত্থাপিত অভিযোগের বাস্তব ভিত্তি নেই।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের ফলে কর্মীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, বৈষম্য এবং স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো ও ইলিনয়সহ বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ইতোমধ্যে এআই-নির্ভর পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত ঠেকাতে নতুন আইন ও বিধিমালা কার্যকর করেছে।

মেটার এই নজরদারি প্রকল্প ঘিরে কয়েক মাস ধরেই কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। একপর্যায়ে কোম্পানির ১ হাজার ৬০০-এর বেশি কর্মী গণস্বাক্ষর দিয়ে প্রকল্পটি বন্ধের দাবি জানান। তাঁদের অভিযোগ ছিল, এই কর্মসূচি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করেছে এবং কর্মীদের ওপর অযৌক্তিক নজরদারি চালিয়েছে।

কর্মীদের চাপের মুখে গত জুনে মার্ক জাকারবার্গ নজরদারি প্রকল্পটি সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দেন। তবে বর্তমান মামলায় বাদীপক্ষের দাবি, ততদিনে অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে এবং এআই-ভিত্তিক মূল্যায়নের কারণে বহু কর্মী চাকরি হারানোর মুখে পড়েছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবীরা আদালতের কাছে মেটার এআই ব্যবস্থার স্বাধীন নিরীক্ষারও আবেদন করেছেন। তাঁদের মতে, নিরপেক্ষ তদন্ত হলে স্পষ্ট হবে কেন ছুটিতে থাকা ২৬ কর্মীকে ছাঁটাইয়ের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল এবং এআই ব্যবস্থাটি আদৌ বৈষম্যমুক্ত ছিল কি না।

আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, চাকরিচ্যুত কর্মীরা আগামী ২২ জুলাই পর্যন্ত মেটার তালিকাভুক্ত কর্মী হিসেবে বহাল থাকবেন। এরপর ছাঁটাই কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তাই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কর্মীদের বহাল রাখা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বাদীপক্ষ।

বাদীপক্ষের মতে, একবার ছাঁটাই কার্যকর হয়ে গেলে সেই ক্ষতি আর পূরণ করা সম্ভব হবে না। চাকরির পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিমা, মাতৃত্বকালীন সুবিধা, শেয়ার মালিকানার অধিকার এবং অনেকের ক্ষেত্রে অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি অবস্থানও গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই তাঁরা দ্রুত আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

বোয়িং-এয়ারবাস দুটোই কিনছে বাংলাদেশ, জানালেন শামা ওবায়েদ

এআইয়ের ফাঁদে চাকরি! মেটার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলা

Update Time : ১০:২২:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাতৃত্বকালীন ও অসুস্থতাজনিত ছুটিতে থাকা কর্মীদের পরিকল্পিতভাবে ছাঁটাই করার অভিযোগে প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ২৬ জন বর্তমান ও সাবেক কর্মী। তাঁদের দাবি, এআই-নির্ভর মূল্যায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে ছুটিতে থাকা কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ছাঁটাইয়ের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই অভিযোগ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি খাতের কর্মী অধিকার ও এআই ব্যবহারের নৈতিকতা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।

গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় জেলা ফেডারেল আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা চলতি বছরের শুরুতে যে কর্মী ছাঁটাই কার্যক্রম চালায়, সেখানে নির্দিষ্ট কর্মীদের বেছে নিতে একটি অভ্যন্তরীণ এআই-ভিত্তিক ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছিল।

৭১ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, কর্মীদের কাজের মান মূল্যায়নে সরাসরি ব্যবস্থাপকদের মতামতের পরিবর্তে এআই-নির্ভর স্কোরিং ও র‍্যাঙ্কিং ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, কর্মীদের কিবোর্ড ব্যবহার, কম্পিউটারে সক্রিয় থাকার সময়, উৎপাদনশীলতা এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে ছাঁটাইয়ের তালিকা প্রস্তুত করা হয়।

বাদী কর্মীদের দাবি, এই এআই ব্যবস্থা কর্মীদের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নেয়নি। বিশেষ করে মাতৃত্বকালীন ছুটি, অসুস্থতাজনিত ছুটি কিংবা শারীরিক অক্ষমতার কারণে কর্মীরা স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে না পারলেও সিস্টেম তাঁদের কম স্কোর দিয়েছে। ফলে বৈধ ছুটি নেওয়া কর্মীরাই বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন।

আরও পড়ুন  বিদ্যুৎচালিত এয়ার ট্যাক্সি: নিউইয়র্কে পরীক্ষামূলক উড়ান, ১০ মিনিটে বিমানবন্দর যাত্রা সম্ভব

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ছুটিতে থাকায় অনেক কর্মীর কাজসংক্রান্ত তথ্য সিস্টেমে জমা পড়েনি। এর ফলে তাঁদের উৎপাদনশীলতা কম দেখানো হয়েছে এবং এআই তাঁদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে কম পারফরম্যান্সের কর্মী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বাদীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কার্যত আইনি অধিকার ব্যবহারকারীদের শাস্তি দেওয়ার শামিল।

মামলার অন্যতম বাদী একজন বিজ্ঞানী, যিনি সন্তান জন্ম দেওয়ার মাত্র দুই দিন আগে চাকরি হারানোর নোটিশ পান। আরেকজন প্রকৌশলী চোটের কারণে চিকিৎসাজনিত ছুটিতে ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, ছুটিতে থাকার কারণেই এআই সিস্টেম তাঁর কর্মক্ষমতার রেটিং কমিয়ে দেয় এবং পরে তাঁকে ছাঁটাই করা হয়।

আরেকজন ব্যবস্থাপক জানান, অসুস্থতার কারণে ছুটিতে যাওয়ার মাত্র ১৬ দিনের মাথায় তাঁকে চাকরিচ্যুতির নোটিশ দেওয়া হয়। বাদীদের মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এআই ব্যবস্থার ত্রুটিপূর্ণ মূল্যায়নের কারণে একই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন একাধিক কর্মী।

বাদীপক্ষ আদালতের কাছে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা চেয়েছেন, যাতে ছাঁটাই প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পাশাপাশি চাকরি পুনর্বহাল, বকেয়া বেতন, ক্ষতিপূরণ এবং হারানো অন্যান্য কর্মী সুবিধা ফিরিয়ে দেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, কর্মীদের সম্মতি ছাড়াই অত্যন্ত গোপনে এআই-নির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা চালু করেছিল মেটা। কর্মীদের কিবোর্ডে কোন বোতাম চাপা হচ্ছে, মাউস কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, কোন ব্রাউজার ব্যবহার করা হচ্ছে—এসব তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করা হতো। এমনকি অফিসের ডিভাইসে পাঠানো বার্তা, ই-মেইল ও অবস্থানসংক্রান্ত তথ্যও পর্যবেক্ষণের আওতায় ছিল।

আরও পড়ুন  হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না ইরান: বিবিসিকে আইআরজিসি সাবেক কমান্ডার

বাদীপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, কর্মীদের অধিকাংশই জানতেন না যে তাঁদের প্রতিদিনের কার্যক্রম এভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নয়, বরং একজন সাধারণ প্রকৌশলীর অভ্যন্তরীণ পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। অনেক টিমের কর্মীদের কাছ থেকে কোনো ধরনের পূর্বানুমতিও নেওয়া হয়নি।

মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ এর আগে এক অভ্যন্তরীণ বৈঠকে বলেছিলেন, কোম্পানির এআই মডেল উন্নত করতে কর্মীদের কাজের ধরন বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ থেকেই ভবিষ্যতের এআই আরও কার্যকরভাবে শেখার সুযোগ পাবে।

তবে মেটার এক মুখপাত্র এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, কর্মী ব্যবস্থাপনা ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত মানুষের মাধ্যমেই নেওয়া হয়েছে। ছাঁটাই প্রক্রিয়ায় এআই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি এবং মামলায় উত্থাপিত অভিযোগের বাস্তব ভিত্তি নেই।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের ফলে কর্মীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, বৈষম্য এবং স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো ও ইলিনয়সহ বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ইতোমধ্যে এআই-নির্ভর পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত ঠেকাতে নতুন আইন ও বিধিমালা কার্যকর করেছে।

মেটার এই নজরদারি প্রকল্প ঘিরে কয়েক মাস ধরেই কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। একপর্যায়ে কোম্পানির ১ হাজার ৬০০-এর বেশি কর্মী গণস্বাক্ষর দিয়ে প্রকল্পটি বন্ধের দাবি জানান। তাঁদের অভিযোগ ছিল, এই কর্মসূচি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করেছে এবং কর্মীদের ওপর অযৌক্তিক নজরদারি চালিয়েছে।

আরও পড়ুন  ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর তৈরি রেটিনামাইন্ড, চোখের স্ক্যানেই অটিজম ও এডিএইচডি শনাক্তের সম্ভাবনা

কর্মীদের চাপের মুখে গত জুনে মার্ক জাকারবার্গ নজরদারি প্রকল্পটি সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দেন। তবে বর্তমান মামলায় বাদীপক্ষের দাবি, ততদিনে অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে এবং এআই-ভিত্তিক মূল্যায়নের কারণে বহু কর্মী চাকরি হারানোর মুখে পড়েছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবীরা আদালতের কাছে মেটার এআই ব্যবস্থার স্বাধীন নিরীক্ষারও আবেদন করেছেন। তাঁদের মতে, নিরপেক্ষ তদন্ত হলে স্পষ্ট হবে কেন ছুটিতে থাকা ২৬ কর্মীকে ছাঁটাইয়ের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল এবং এআই ব্যবস্থাটি আদৌ বৈষম্যমুক্ত ছিল কি না।

আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, চাকরিচ্যুত কর্মীরা আগামী ২২ জুলাই পর্যন্ত মেটার তালিকাভুক্ত কর্মী হিসেবে বহাল থাকবেন। এরপর ছাঁটাই কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তাই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কর্মীদের বহাল রাখা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বাদীপক্ষ।

বাদীপক্ষের মতে, একবার ছাঁটাই কার্যকর হয়ে গেলে সেই ক্ষতি আর পূরণ করা সম্ভব হবে না। চাকরির পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিমা, মাতৃত্বকালীন সুবিধা, শেয়ার মালিকানার অধিকার এবং অনেকের ক্ষেত্রে অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি অবস্থানও গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই তাঁরা দ্রুত আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।