লক্ষ্মীপুরে একটি সরকারি দিঘি থেকে গভীর রাতে মাছ ধরার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দুইজন সহকারী কমিশনারের উপস্থিতিতেই এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত ২টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে রায়পুর-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে দালাল বাজার সংলগ্ন খোয়াসাগর দিঘিতে মাছ ধরা হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিডিও ধারণ করেন, যা পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (জেনারেল সার্টিফিকেট, রেকর্ডরুম ও ফ্রন্ট ডেস্ক শাখা) হাসান মুহাম্মদ নাহিদ শেখ সুমন এবং সহকারী কমিশনার (জেএম শাখা) হাবিবুর রহমানকে সেখানে উপস্থিত দেখা যায়। এ সময় ভিডিও বক্তব্য চাইলে শেখ সুমনকে এড়িয়ে যেতে দেখা যায়।

হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, দিঘি থেকে ধরা মাছগুলো জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নেওয়া হচ্ছে। পরে মাপজোক করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। পরবর্তীতে মাছগুলো দুটি সরকারি গাড়িতে করে সরিয়ে নেওয়া হয়।
প্রায় আড়াইশ বছরের পুরোনো খোয়াসাগর দিঘি প্রায় ২৫ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। আগে এটি পৌরসভা থেকে ইজারা দেওয়া হলেও প্রায় এক দশক আগে জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর থেকে ইজারা সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দিঘির মাছ বিভিন্নভাবে লুট হয়েছে। এর মধ্যেই প্রশাসনের উপস্থিতিতে মাছ ধরার ঘটনাটি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কাতল, রুই, চিতল, আইড় ও পাঙ্গাসসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ ধরা হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি চিতলের ওজন ৭-৮ কেজি পর্যন্ত ছিল।

তবে স্থানীয় দুই ব্যবসায়ীর কাছে মোট ১১২ কেজি তেলাপিয়া মাছ বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। দালাল বাজারের ব্যবসায়ী তুহিন জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডেকে তাকে ৪২ কেজি এবং আরেক ব্যবসায়ী সিরাজকে ৭০ কেজি তেলাপিয়া মাছ দেওয়া হয়েছে। অন্য মাছ বিক্রি করা হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।
শুক্রবার সকালে সহকারী কমিশনার শেখ সুমন মোবাইলে জানান, ধরা মাছের একটি অংশ এতিমখানায় দেওয়া হয়েছে এবং কিছু বিক্রিও করা হয়েছে। তবে মোট কত টাকার মাছ বিক্রি হয়েছে বা কত পরিমাণ মাছ বিতরণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাছ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।





























