ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়া Microsoft আবারও তাদের বিতর্কিত ‘রিকল’ ফিচার চালু করেছে। নতুন কিছু নিরাপত্তা ব্যবস্থা যোগ করা হলেও ব্যবহারকারীদের উদ্বেগ পুরোপুরি দূর হয়নি। ফলে ফিচারটি ফিরে এলেও আলোচনা-সমালোচনা থামেনি।
প্রথমবার ২০২৪ সালে চালুর পর থেকেই ‘রিকল’ ফিচারটি বেশ বিতর্ক সৃষ্টি করে। কারণ, এটি ব্যবহারকারীর কম্পিউটারে চলমান প্রায় সব কাজের স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করে রাখে। এতে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, যার কারণে শেষ পর্যন্ত ফিচারটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় মাইক্রোসফট।
পরবর্তীতে নতুনভাবে ডিজাইন করে ২০২৫ সালে আবার ফিচারটি চালু করা হয়। এবার এতে যুক্ত করা হয়েছে ‘Windows Hello’ ভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অর্থাৎ, সংরক্ষিত তথ্য দেখতে হলে ব্যবহারকারীকে আঙুলের ছাপ বা মুখের পরিচয়ের মাধ্যমে যাচাই করতে হবে।
তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একাংশ এখনও এই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে যথেষ্ট মনে করছেন না। তাদের মতে, উন্নত নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও ফিচারটি পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। বিশেষ করে তৃতীয় পক্ষের সফটওয়্যার ব্যবহার করে এই সিস্টেমকে বাইপাস করার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
একজন গবেষকের তৈরি ‘TotalRecall Reloaded’ নামের একটি সফটওয়্যার নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, এটি ব্যবহারকারীর অজান্তেই ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করে যাচাই প্রক্রিয়া এড়িয়ে তথ্য বের করে আনতে সক্ষম হতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে পাসওয়ার্ড, ব্যাংক তথ্যসহ সংবেদনশীল ডেটা ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে মাইক্রোসফট এবং তারা জানিয়েছে, তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি নেই।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ‘রিকল’ ফিচারটি ব্যবহার বাধ্যতামূলক নয়। ব্যবহারকারী চাইলে এটি বন্ধ রাখতে পারেন। তবুও যারা এই ফিচারটি ব্যবহার করছেন, তাদের জন্য নতুন করে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক কিছুটা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।





























