ঢাকা ১১:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo রাবিতে মারধরের ঘটনায় আম্মারসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হত্যাচেষ্টা মামলা Logo ময়মনসিংহে পানিতে ডুবে চাচা-ভাতিজির মৃত্যু Logo হতাশা নয়, ছোট সুযোগেই গড়ুন ক্যারিয়ার: তরুণদের জন্য বার্তা Logo ওজন কমাতে দিনে কত কদম হাঁটা দরকার? জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ Logo জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির নবগঠিত উপদেষ্টা ও কার্যকরী কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত Logo মাদকাসক্তি সংকট: চট্টগ্রামে সোয়া লাখের বেশি আসক্ত, চিকিৎসা শয্যা বাড়ানোর জোরালো দাবি Logo যুক্তরাষ্ট্র হামলা থামালেও কেন আবার সংঘাতে জড়ালো ইরান? Logo ‘ফাঁসি দিয়ে দেন, মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত’—কাঠগড়ায় লতিফ সিদ্দিকী Logo অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশের লক্ষ্য কী? জানালেন শান্ত Logo এশিয়ান গেমস হকি ক্যাম্পে জিমি, নতুন ৬ খেলোয়াড়ের ডাক

ইলন মাস্ক ও ওপেনএআই দ্বন্দ্ব: মঙ্গল গ্রহের স্বপ্নের নেপথ্য কাহিনি

ইলন মাস্ক ও ওপেনএআই দ্বন্দ্ব

ইলন মাস্ক ও ওপেনএআইয়ের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিরোধ এবার নতুন মোড় নিয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালতে চলমান মামলায় ওপেনএআইয়ের প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান এমন কিছু তথ্য দিয়েছেন, যা প্রযুক্তি বিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তাঁর দাবি, ওপেনএআইয়ের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে চেয়েছিলেন ইলন মাস্ক, আর সেই পরিকল্পনার পেছনে ছিল মঙ্গল গ্রহে স্বয়ংসম্পূর্ণ শহর গড়ার স্বপ্ন।

মঙ্গলবার আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে ব্রকম্যান বলেন, ২০১৭ সালেই মাস্ক ওপেনএআইকে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান থেকে লাভজনক কোম্পানিতে রূপান্তরের পক্ষে অবস্থান নেন। কারণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিকে আরও শক্তিশালী করতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন ছিল, যা একটি নন-প্রফিট প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছিল।

ব্রকম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, মাস্ক তখন স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন যে তিনি ওপেনএআইয়ের নেতৃত্ব ও সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা চান। এমনকি তিনি বলেছিলেন, এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করে তিনি মঙ্গল গ্রহে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ শহর নির্মাণ করবেন। আদালতে ব্রকম্যান দাবি করেন, মাস্কের ভাষায় সেই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় আট হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন ছিল।

বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক ওপেনএআই এবং এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে অলাভজনক একটি মানবকল্যাণমূলক এআই প্রতিষ্ঠান গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওপেনএআইয়ে বিনিয়োগ করানো হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের মূল আদর্শ থেকে সরে গিয়ে মুনাফাকেন্দ্রিক কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে।

মাস্ক এই মামলায় ১৫ হাজার কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। পাশাপাশি তিনি স্যাম অল্টম্যান ও গ্রেগ ব্রকম্যানকে ওপেনএআইয়ের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার আবেদনও জানিয়েছেন।

আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে ব্রকম্যান আরও বলেন, ২০১৭ সালের আগস্টে মাস্কের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছিল। শুরুতে বৈঠকের পরিবেশ ইতিবাচক ছিল। এর কয়েক দিন আগে মাস্ক ওপেনএআইয়ের কয়েকজন কর্মীকে তাঁদের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে টেসলা গাড়ি উপহার দিয়েছিলেন। ওপেনএআইয়ের সাবেক প্রধান বিজ্ঞানী ইলিয়া সাৎস্কেভার কৃতজ্ঞতার নিদর্শন হিসেবে মাস্ককে দেওয়ার জন্য একটি টেসলার ছবি এঁকেছিলেন।

তবে ওপেনএআইয়ের সম্ভাব্য শেয়ার কাঠামো নিয়ে আলোচনা শুরু হলে পরিস্থিতি বদলে যায়। ব্রকম্যানের দাবি, মাস্ক প্রস্তাবিত কাঠামো পছন্দ করেননি এবং রেগে যান। তিনি নাকি বৈঠকের মধ্যে দাঁড়িয়ে বলেন, “আমি এটা প্রত্যাখ্যান করছি।”

ব্রকম্যান আদালতে আরও দাবি করেন, ওই সময় মাস্ক এত দ্রুত তাঁর দিকে এগিয়ে আসেন যে তিনি ভয় পেয়ে যান। যদিও শেষ পর্যন্ত কোনো শারীরিক সংঘর্ষ হয়নি। পরে মাস্ক ইলিয়া সাৎস্কেভারের আঁকা ছবিটি নিয়ে বৈঠক কক্ষ ত্যাগ করেন এবং নতুন অর্থায়ন বন্ধ রাখার হুমকি দেন।

এই মামলায় মাস্কের আইনজীবীরা গ্রেগ ব্রকম্যানকে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন, যিনি ওপেনএআই থেকে আর্থিক লাভকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। সোমবার আদালতে ব্রকম্যান স্বীকার করেন, ওপেনএআইয়ে তাঁর শেয়ারের মূল্য প্রায় তিন হাজার কোটি ডলার। এছাড়া স্যাম অল্টম্যান-সমর্থিত দুটি স্টার্টআপেও তাঁর বিনিয়োগ রয়েছে।

আদালতে জমা দেওয়া নথির মধ্যে ২০১৭ সালের একটি ব্যক্তিগত ডায়েরির অংশও রয়েছে। সেখানে ব্রকম্যান লিখেছিলেন, “আর্থিকভাবে কোনটি আমাকে ১০০ কোটি ডলারে পৌঁছে দিতে পারে?”

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের আগে ওপেনএআই পুরোপুরি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হতো। পরে মার্চ ২০১৯ সালে এটি একটি মুনাফাসন্ধানী ইউনিট গঠন করে নতুন কাঠামোয় পরিচালিত হতে শুরু করে। এরপর থেকে কোম্পানিটি গবেষণা, কম্পিউটিং শক্তি এবং এআই অবকাঠামো তৈরির জন্য প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে।

২০২২ সালের শেষ দিকে চ্যাটজিপিটি চালুর পর ওপেনএআই বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের সবচেয়ে প্রভাবশালী কোম্পানিগুলোর একটি। আদালতে ব্রকম্যান জানান, শুধুমাত্র ২০২৬ সালেই ওপেনএআই কম্পিউটিং রিসোর্সে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি ডলার ব্যয় করার পরিকল্পনা করছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ওপেনএআই শিগগিরই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে কোম্পানিটির বাজারমূল্য প্রায় এক লাখ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে।

অন্যদিকে ওপেনএআই কর্তৃপক্ষের দাবি, কোম্পানির সাফল্যের আগেই বোর্ড ছাড়ার কারণে এখন আফসোস করছেন ইলন মাস্ক। তাই তিনি পুনরায় নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে আইনি লড়াইয়ে নেমেছেন।

এছাড়া প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, মাস্কের নিজস্ব এআই কোম্পানি এক্সএআইকে শক্তিশালী করতেই এই মামলার পেছনে কৌশলগত উদ্দেশ্য থাকতে পারে। সম্প্রতি এক্সএআই ও স্পেসএক্সের কার্যক্রম ঘিরেও নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনার খবর সামনে এসেছে।

সব মিলিয়ে ওপেনএআই ও ইলন মাস্কের এই আইনি সংঘাত এখন শুধু একটি ব্যবসায়িক বিরোধ নয়; বরং এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ, প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ এবং মানবজাতির মহাকাশ স্বপ্ন—সবকিছুর সঙ্গেই জড়িয়ে পড়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাবিতে মারধরের ঘটনায় আম্মারসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হত্যাচেষ্টা মামলা

ইলন মাস্ক ও ওপেনএআই দ্বন্দ্ব: মঙ্গল গ্রহের স্বপ্নের নেপথ্য কাহিনি

Update Time : ০২:০১:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

ইলন মাস্ক ও ওপেনএআইয়ের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিরোধ এবার নতুন মোড় নিয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালতে চলমান মামলায় ওপেনএআইয়ের প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান এমন কিছু তথ্য দিয়েছেন, যা প্রযুক্তি বিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তাঁর দাবি, ওপেনএআইয়ের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে চেয়েছিলেন ইলন মাস্ক, আর সেই পরিকল্পনার পেছনে ছিল মঙ্গল গ্রহে স্বয়ংসম্পূর্ণ শহর গড়ার স্বপ্ন।

মঙ্গলবার আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে ব্রকম্যান বলেন, ২০১৭ সালেই মাস্ক ওপেনএআইকে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান থেকে লাভজনক কোম্পানিতে রূপান্তরের পক্ষে অবস্থান নেন। কারণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিকে আরও শক্তিশালী করতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন ছিল, যা একটি নন-প্রফিট প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছিল।

ব্রকম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, মাস্ক তখন স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন যে তিনি ওপেনএআইয়ের নেতৃত্ব ও সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা চান। এমনকি তিনি বলেছিলেন, এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করে তিনি মঙ্গল গ্রহে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ শহর নির্মাণ করবেন। আদালতে ব্রকম্যান দাবি করেন, মাস্কের ভাষায় সেই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় আট হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন ছিল।

বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক ওপেনএআই এবং এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে অলাভজনক একটি মানবকল্যাণমূলক এআই প্রতিষ্ঠান গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওপেনএআইয়ে বিনিয়োগ করানো হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের মূল আদর্শ থেকে সরে গিয়ে মুনাফাকেন্দ্রিক কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে।

আরও পড়ুন  ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আবেদন নিউইয়র্ক টাইমসের

মাস্ক এই মামলায় ১৫ হাজার কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। পাশাপাশি তিনি স্যাম অল্টম্যান ও গ্রেগ ব্রকম্যানকে ওপেনএআইয়ের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার আবেদনও জানিয়েছেন।

আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে ব্রকম্যান আরও বলেন, ২০১৭ সালের আগস্টে মাস্কের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছিল। শুরুতে বৈঠকের পরিবেশ ইতিবাচক ছিল। এর কয়েক দিন আগে মাস্ক ওপেনএআইয়ের কয়েকজন কর্মীকে তাঁদের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে টেসলা গাড়ি উপহার দিয়েছিলেন। ওপেনএআইয়ের সাবেক প্রধান বিজ্ঞানী ইলিয়া সাৎস্কেভার কৃতজ্ঞতার নিদর্শন হিসেবে মাস্ককে দেওয়ার জন্য একটি টেসলার ছবি এঁকেছিলেন।

তবে ওপেনএআইয়ের সম্ভাব্য শেয়ার কাঠামো নিয়ে আলোচনা শুরু হলে পরিস্থিতি বদলে যায়। ব্রকম্যানের দাবি, মাস্ক প্রস্তাবিত কাঠামো পছন্দ করেননি এবং রেগে যান। তিনি নাকি বৈঠকের মধ্যে দাঁড়িয়ে বলেন, “আমি এটা প্রত্যাখ্যান করছি।”

ব্রকম্যান আদালতে আরও দাবি করেন, ওই সময় মাস্ক এত দ্রুত তাঁর দিকে এগিয়ে আসেন যে তিনি ভয় পেয়ে যান। যদিও শেষ পর্যন্ত কোনো শারীরিক সংঘর্ষ হয়নি। পরে মাস্ক ইলিয়া সাৎস্কেভারের আঁকা ছবিটি নিয়ে বৈঠক কক্ষ ত্যাগ করেন এবং নতুন অর্থায়ন বন্ধ রাখার হুমকি দেন।

আরও পড়ুন  ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেল উদ্ভাবন তথ্য

এই মামলায় মাস্কের আইনজীবীরা গ্রেগ ব্রকম্যানকে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন, যিনি ওপেনএআই থেকে আর্থিক লাভকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। সোমবার আদালতে ব্রকম্যান স্বীকার করেন, ওপেনএআইয়ে তাঁর শেয়ারের মূল্য প্রায় তিন হাজার কোটি ডলার। এছাড়া স্যাম অল্টম্যান-সমর্থিত দুটি স্টার্টআপেও তাঁর বিনিয়োগ রয়েছে।

আদালতে জমা দেওয়া নথির মধ্যে ২০১৭ সালের একটি ব্যক্তিগত ডায়েরির অংশও রয়েছে। সেখানে ব্রকম্যান লিখেছিলেন, “আর্থিকভাবে কোনটি আমাকে ১০০ কোটি ডলারে পৌঁছে দিতে পারে?”

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের আগে ওপেনএআই পুরোপুরি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হতো। পরে মার্চ ২০১৯ সালে এটি একটি মুনাফাসন্ধানী ইউনিট গঠন করে নতুন কাঠামোয় পরিচালিত হতে শুরু করে। এরপর থেকে কোম্পানিটি গবেষণা, কম্পিউটিং শক্তি এবং এআই অবকাঠামো তৈরির জন্য প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে।

আরও পড়ুন  আপনার লোকেশন ট্র্যাক করছে স্মার্টফোন! বন্ধ করবেন যেভাবে

২০২২ সালের শেষ দিকে চ্যাটজিপিটি চালুর পর ওপেনএআই বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের সবচেয়ে প্রভাবশালী কোম্পানিগুলোর একটি। আদালতে ব্রকম্যান জানান, শুধুমাত্র ২০২৬ সালেই ওপেনএআই কম্পিউটিং রিসোর্সে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি ডলার ব্যয় করার পরিকল্পনা করছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ওপেনএআই শিগগিরই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে কোম্পানিটির বাজারমূল্য প্রায় এক লাখ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে।

অন্যদিকে ওপেনএআই কর্তৃপক্ষের দাবি, কোম্পানির সাফল্যের আগেই বোর্ড ছাড়ার কারণে এখন আফসোস করছেন ইলন মাস্ক। তাই তিনি পুনরায় নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে আইনি লড়াইয়ে নেমেছেন।

এছাড়া প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, মাস্কের নিজস্ব এআই কোম্পানি এক্সএআইকে শক্তিশালী করতেই এই মামলার পেছনে কৌশলগত উদ্দেশ্য থাকতে পারে। সম্প্রতি এক্সএআই ও স্পেসএক্সের কার্যক্রম ঘিরেও নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনার খবর সামনে এসেছে।

সব মিলিয়ে ওপেনএআই ও ইলন মাস্কের এই আইনি সংঘাত এখন শুধু একটি ব্যবসায়িক বিরোধ নয়; বরং এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ, প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ এবং মানবজাতির মহাকাশ স্বপ্ন—সবকিছুর সঙ্গেই জড়িয়ে পড়েছে।