ঢাকা ১২:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৃত্যু নিয়ে এই গায়কের ভাবনা অবাক করবে, সঙ্গে রাখেন কাফনের কাপড়

ভ্রমণের সময় ইহরাম সঙ্গে রাখার কথা জানিয়েছেন লাকি আলী। ছবি: সংগৃহীত

লাকি আলী মৃত্যুর জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত। জনপ্রিয় ভারতীয় সংগীতশিল্পী সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে জীবন ও মৃত্যুর অনিবার্যতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জানান, ভ্রমণের সময় তিনি সঙ্গে ইহরামের পোশাক রাখেন। মৃত্যুর পর সেটিকেই কাফনের কাপড় হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি। প্রিয় শিল্পীর এমন আধ্যাত্মিক ও নির্লিপ্ত বক্তব্য শুনে আবেগাপ্লুত হয়েছেন তাঁর বহু ভক্ত।

লাকি আলীর এমন মন্তব্য সামনে এসেছে দুবাইয়ে তাঁর একটি কনসার্টের আগে। আগামী ১৬ আগস্ট সেখানে গান পরিবেশন করার কথা রয়েছে এই শিল্পীর। অনুষ্ঠানে দর্শকদের সঙ্গে আলাপের সময় তিনি বলেন, একদিন সবাইকে পৃথিবী ছেড়ে যেতে হবে এবং সেই বাস্তবতার জন্য তিনি নিজেকে প্রস্তুত রেখেছেন। তাঁর বক্তব্যে মৃত্যুকে ভয় পাওয়ার বদলে সেটিকে জীবনের স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবে গ্রহণ করার মানসিকতার প্রকাশ পেয়েছে।

নিজের সঙ্গে ইহরাম রাখার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লাকি আলী জানান, তিনি যখনই ভ্রমণ করেন, সঙ্গে ওই পোশাক রাখেন। তাঁর ভাবনা হলো, যেখানে তাঁর মৃত্যু হবে, সেখান থেকেই যেন তাঁকে শেষ যাত্রায় নিয়ে যাওয়া যায়। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তাঁর ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক চিন্তার বিষয়টিও সামনে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ভক্তরা শিল্পীর দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা করেছেন।

লাকি আলীর গান বহু মানুষের শৈশব, কৈশোর ও ব্যক্তিগত স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে। তাঁর কণ্ঠে ‘ও সনম’, ‘এক পল কা জিনা’, ‘না তুম জানো না হাম’ ও ‘সফরনামা’সহ বেশ কিছু গান শ্রোতাদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়। বলিউডের বিভিন্ন চলচ্চিত্রেও তাঁর কণ্ঠ শোনা গেছে। ফলে প্রিয় শিল্পীর মুখে মৃত্যুর প্রসঙ্গ আসায় স্বাভাবিকভাবেই আবেগী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তাঁর অনুরাগীরা।

অভিনেতা মেহমুদের ছেলে লাকি আলী শুরুতে অভিনয়ের পরিবেশে বড় হলেও শেষ পর্যন্ত সংগীতকেই নিজের প্রধান পরিচয় হিসেবে বেছে নেন। নব্বইয়ের দশকে স্বাধীন সংগীতের ধারায় তাঁর আবির্ভাব ছিল বেশ আলাদা। একসময় তিনি নিজেকে কর্মহীন বলেও উল্লেখ করেছিলেন। খামারে কাজ করা, পশুপালন ও ঘোড়ার প্রতি আগ্রহের মতো ভিন্ন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তাঁর জীবন এগিয়েছে। পরে নিজের স্বতন্ত্র গায়কির মাধ্যমে ভারতীয় সংগীতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন তিনি।

সংগীতের পাশাপাশি প্রযুক্তির পরিবর্তন নিয়েও নিজের মত জানিয়েছেন লাকি আলী। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে শিল্পীদের কণ্ঠস্বর নকল করার বিষয়ে তাঁর আপত্তি রয়েছে। তাঁর মতে, প্রযুক্তি কণ্ঠের অনুকরণ করতে পারলেও একজন শিল্পীর অনুভূতি ও আত্মিক প্রকাশকে পুনরায় তৈরি করতে পারে না। জীবন, মৃত্যু ও শিল্প নিয়ে লাকি আলীর এমন নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে রেখেছে। সামনে দুবাইয়ের কনসার্টে আবারও প্রিয় শিল্পীকে মঞ্চে দেখার অপেক্ষায় তাঁর ভক্তরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

মৃত্যু নিয়ে এই গায়কের ভাবনা অবাক করবে, সঙ্গে রাখেন কাফনের কাপড়

Update Time : ১১:০০:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

লাকি আলী মৃত্যুর জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত। জনপ্রিয় ভারতীয় সংগীতশিল্পী সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে জীবন ও মৃত্যুর অনিবার্যতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জানান, ভ্রমণের সময় তিনি সঙ্গে ইহরামের পোশাক রাখেন। মৃত্যুর পর সেটিকেই কাফনের কাপড় হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি। প্রিয় শিল্পীর এমন আধ্যাত্মিক ও নির্লিপ্ত বক্তব্য শুনে আবেগাপ্লুত হয়েছেন তাঁর বহু ভক্ত।

লাকি আলীর এমন মন্তব্য সামনে এসেছে দুবাইয়ে তাঁর একটি কনসার্টের আগে। আগামী ১৬ আগস্ট সেখানে গান পরিবেশন করার কথা রয়েছে এই শিল্পীর। অনুষ্ঠানে দর্শকদের সঙ্গে আলাপের সময় তিনি বলেন, একদিন সবাইকে পৃথিবী ছেড়ে যেতে হবে এবং সেই বাস্তবতার জন্য তিনি নিজেকে প্রস্তুত রেখেছেন। তাঁর বক্তব্যে মৃত্যুকে ভয় পাওয়ার বদলে সেটিকে জীবনের স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবে গ্রহণ করার মানসিকতার প্রকাশ পেয়েছে।

আরও পড়ুন  জাইমা রহমান কি ব্রাজিল সমর্থক? এক স্টোরিতে তুমুল আলোচনা

নিজের সঙ্গে ইহরাম রাখার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লাকি আলী জানান, তিনি যখনই ভ্রমণ করেন, সঙ্গে ওই পোশাক রাখেন। তাঁর ভাবনা হলো, যেখানে তাঁর মৃত্যু হবে, সেখান থেকেই যেন তাঁকে শেষ যাত্রায় নিয়ে যাওয়া যায়। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তাঁর ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক চিন্তার বিষয়টিও সামনে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ভক্তরা শিল্পীর দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা করেছেন।

লাকি আলীর গান বহু মানুষের শৈশব, কৈশোর ও ব্যক্তিগত স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে। তাঁর কণ্ঠে ‘ও সনম’, ‘এক পল কা জিনা’, ‘না তুম জানো না হাম’ ও ‘সফরনামা’সহ বেশ কিছু গান শ্রোতাদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়। বলিউডের বিভিন্ন চলচ্চিত্রেও তাঁর কণ্ঠ শোনা গেছে। ফলে প্রিয় শিল্পীর মুখে মৃত্যুর প্রসঙ্গ আসায় স্বাভাবিকভাবেই আবেগী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তাঁর অনুরাগীরা।

আরও পড়ুন  তামান্না ভাটিয়া বিস্ফোরক মন্তব্য, দক্ষিণী সিনেমায় নারীদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন

অভিনেতা মেহমুদের ছেলে লাকি আলী শুরুতে অভিনয়ের পরিবেশে বড় হলেও শেষ পর্যন্ত সংগীতকেই নিজের প্রধান পরিচয় হিসেবে বেছে নেন। নব্বইয়ের দশকে স্বাধীন সংগীতের ধারায় তাঁর আবির্ভাব ছিল বেশ আলাদা। একসময় তিনি নিজেকে কর্মহীন বলেও উল্লেখ করেছিলেন। খামারে কাজ করা, পশুপালন ও ঘোড়ার প্রতি আগ্রহের মতো ভিন্ন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তাঁর জীবন এগিয়েছে। পরে নিজের স্বতন্ত্র গায়কির মাধ্যমে ভারতীয় সংগীতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন তিনি।

আরও পড়ুন  শাকিরার ছেলে! ভাইরাল ভিডিও ঘিরে ১ বড় ভুল ধারণা

সংগীতের পাশাপাশি প্রযুক্তির পরিবর্তন নিয়েও নিজের মত জানিয়েছেন লাকি আলী। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে শিল্পীদের কণ্ঠস্বর নকল করার বিষয়ে তাঁর আপত্তি রয়েছে। তাঁর মতে, প্রযুক্তি কণ্ঠের অনুকরণ করতে পারলেও একজন শিল্পীর অনুভূতি ও আত্মিক প্রকাশকে পুনরায় তৈরি করতে পারে না। জীবন, মৃত্যু ও শিল্প নিয়ে লাকি আলীর এমন নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে রেখেছে। সামনে দুবাইয়ের কনসার্টে আবারও প্রিয় শিল্পীকে মঞ্চে দেখার অপেক্ষায় তাঁর ভক্তরা।