কাইলি জেনার ২৯ বছরে পা দিয়ে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। ঠোঁটের আকৃতি নিয়ে কিশোরী বয়সের বিতর্ক থেকে শুরু করে প্রসাধনী ব্যবসা, শত শত কোটি টাকার সম্পদ, প্রেম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রভাব—সব মিলিয়ে তাঁর জীবন যেন একের পর এক আলোচিত অধ্যায়ের গল্প। একসময় নিজের চেহারা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভোগা এই তারকাই এখন নিজের নামকে বৈশ্বিক ব্যবসায়িক ব্র্যান্ডে পরিণত করেছেন। ১০ আগস্ট জন্মদিন উপলক্ষে বেভারলি হিলসের বাড়িতে ‘প্রিন্সেস কিটি’ থিমের আয়োজনেও দেখা গেছে তাঁকে। অনুষ্ঠানে ছিলেন কিম কার্ডাশিয়ান, ক্লোয়ি কার্ডাশিয়ান, কেন্ডাল জেনার ও হেইলি বিবারসহ ঘনিষ্ঠরা।
কাইলি জেনারের পরিচিতির শুরু রিয়েলিটি শো ‘কিপিং আপ উইথ দ্য কার্ডাশিয়ানস’-এর মাধ্যমে। ক্যামেরার সামনে বেড়ে ওঠা কাইলি খুব দ্রুত বুঝতে পারেন, শুধু টেলিভিশন তারকা হয়ে থাকলে চলবে না। ২০১৫ সালে নিজের ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করে শুরু করেন কাইলি কসমেটিকস। প্রথম পণ্য ছিল লিপ কিট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বিপুল জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে অল্প সময়েই পণ্যটি ক্রেতাদের মধ্যে সাড়া ফেলে। কাইলির ব্যক্তিগত উপস্থিতিই হয়ে ওঠে ব্র্যান্ডটির অন্যতম প্রধান বিপণন কৌশল। পরে এই মডেল অনুসরণ করেছেন আরও অনেক তারকা ও ইনফ্লুয়েন্সার।
২০২০ সালে কাইলির ব্যবসায় বড় পরিবর্তন আসে। সৌন্দর্যপণ্য প্রতিষ্ঠান কোটির কাছে কাইলি কসমেটিকসের ৫১ শতাংশ অংশীদারত্ব ৬০০ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়। এই চুক্তি তাঁকে বিপুল অর্থ এনে দিলেও তাঁর সম্পদ নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়। ২০১৯ সালে ফোর্বস তাঁকে বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী ‘সেলফ-মেড বিলিয়নিয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। পরের বছর অবশ্য সেই হিসাব সংশোধন করে জানানো হয়, কাইলির প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ বিলিয়ন ডলারের নিচে। ২০২৫ সালের ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬৭০ মিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি। কাইলি অবশ্য তাঁর ব্যবসা নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
ব্যবসার পরিধি এখন কসমেটিকসের বাইরেও বিস্তৃত। কাইলি স্কিনের পাশাপাশি পোশাক ও অন্যান্য পণ্যভিত্তিক উদ্যোগেও যুক্ত হয়েছেন তিনি। ২০২৩ সালে চালু হওয়া তাঁর পোশাক ব্র্যান্ডকে ২০২৬ সালে নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। পণ্যের নকশা, নমুনা ও ব্র্যান্ডের ভাবনা তৈরির বিভিন্ন পর্যায়ে নিজেই যুক্ত থাকার কথা জানিয়েছেন কাইলি। তবে তাঁর জনপ্রিয়তার বড় অংশ এখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর। ইনস্টাগ্রামে প্রায় ৩৯ কোটি অনুসারী থাকায় নতুন পণ্য বা উদ্যোগের প্রচারে তাঁকে আলাদা কোনো প্রচারমাধ্যমের ওপর খুব বেশি নির্ভর করতে হয় না।
কাইলির আলোচিত অধ্যায় শুধু ব্যবসায় সীমাবদ্ধ নয়। কিশোরী বয়সে তাঁর ঠোঁটের আকৃতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে তিনি ঠোঁটে অস্থায়ী ফিলার ব্যবহারের কথা স্বীকার করেন এবং জানান, বিষয়টি তাঁর নিজের অনিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত ছিল। সেই চেহারাই পরে তাঁর ব্যবসার পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে। তবে সৌন্দর্যের নির্দিষ্ট মানদণ্ড জনপ্রিয় করার অভিযোগেও তাঁকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রক সংস্থা কাইলির ছবি ব্যবহার করে তাঁর মতো দেখতে হওয়ার দাবি করা প্রসাধনী চিকিৎসার প্রচারণার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। সময়ের সঙ্গে নিজের সৌন্দর্যবোধ নিয়েও কাইলির অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে।
ব্যক্তিজীবনেও কাইলিকে ঘিরে আগ্রহ কমেনি। টাইগার ও ট্রাভিস স্কটের সঙ্গে সম্পর্কের পর ২০২৩ সালে অভিনেতা টিমোথি শ্যালামের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের খবর সামনে আসে। দুজনকে বিভিন্ন বড় আয়োজনে একসঙ্গে দেখা গেলেও বিয়ের বিষয়ে তাঁরা তাড়াহুড়া করছেন না বলে জানা গেছে। কাইলি এখন দুই সন্তানের মা; ট্রাভিস স্কটের সঙ্গে তাঁর সন্তান স্টর্মি ও আইয়ার। ব্যবসা, পরিবার, প্রেম ও সৌন্দর্য নিয়ে নানা বিতর্ক পেরিয়ে ২৯ বছরে এসে কাইলির পরিচয় তাই আর শুধু কার্ডাশিয়ান পরিবারের সদস্য হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি এখন নিজস্ব ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ে তোলা এক প্রভাবশালী উদ্যোক্তা ও তারকা।























