ঢাকা ১১:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পিএসসি চেয়ারম্যানের পদত্যাগ: বড় প্রশ্নের মুখে সংস্কার

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:৪৯:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০১

পিএসসি চেয়ারম্যানের পদত্যাগ নিয়ে নানা প্রশ্ন। ছবি: সংগৃহীত

পিএসসি চেয়ারম্যানের পদত্যাগ ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে সরকারি চাকরিপ্রার্থী ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট মহলে। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব পেলেও প্রায় দুই বছর না যেতেই পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগপত্রে শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। একই সময়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগে ফিরে যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে প্রকাশ্যে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি অতিরিক্ত কাজের চাপ, বয়সজনিত সমস্যা ও বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার কথা বলেছেন। সাম্প্রতিক একাধিক প্রতিবেদনে তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

মোবাশ্বের মোনেমের নেতৃত্বে পিএসসিতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতা কমানোর উদ্যোগ। বিসিএসের একটি বিজ্ঞপ্তি থেকে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ পর্যন্ত সময় এক বছরের মধ্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়। এই পরিকল্পনা চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে। কারণ বিসিএসের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে দীর্ঘ সময় লাগা দীর্ঘদিনের একটি বড় সমস্যা। দ্রুত পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ হলে প্রার্থীদের অপেক্ষার সময় কমবে, পাশাপাশি একই সময়ে একাধিক পরীক্ষার জটও কমানো সম্ভব হবে। ৫০তম বিসিএসের ক্ষেত্রেও এক বছরের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য সামনে রাখা হয়েছিল। এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতে কতটা বজায় থাকবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

শুধু পরীক্ষার সময় কমানো নয়, পিএসসি চেয়ারম্যানের সময়কালে নিয়োগ পরীক্ষার পদ্ধতিতেও পরিবর্তনের আলোচনা সামনে আসে। লিখিত পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে নতুন পদ্ধতি, মৌখিক পরীক্ষায় দক্ষতাভিত্তিক মূল্যায়ন, প্রশ্ন প্রণয়নে পরিবর্তন এবং কোচিংনির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে নিজস্ব ডিজিটাল প্রেস স্থাপন, পরীক্ষাসংক্রান্ত কাজ ডিজিটাল করা এবং অটোমেশনের মতো বিষয়ও আলোচনায় ছিল। আবেদন ফি কমানোর সিদ্ধান্তও প্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হয়। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরির নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সময়, স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তির ব্যবহার—তিন ক্ষেত্রেই পরিবর্তন আসতে পারে।

এদিকে পিএসসি চেয়ারম্যানের পদত্যাগ নিয়ে আরেকটি আলোচনা তৈরি হয়েছে কমিশনের স্বায়ত্তশাসন ও প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ককে ঘিরে। পিএসসি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এর স্বাধীনভাবে কাজ করার বিষয়টি বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। চেয়ারম্যানের সময়ে কমিশনের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন নিয়ে আলোচনা এবং সংস্কারের বিভিন্ন প্রস্তাব সামনে আসায় প্রশাসনের সঙ্গে কোনো নীতিগত দূরত্ব তৈরি হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সরকারি বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে নিয়োগবাণিজ্য, তদবির বা প্রশ্নফাঁসের মতো অনিয়ম বন্ধের উদ্যোগ কারও জন্য অস্বস্তিকর হয়েছিল কি না, সেটিও এখন পর্যন্ত মূলত আলোচনা ও অনুমানের পর্যায়ে রয়েছে। তাই এসব বিষয়কে নিশ্চিত কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন, মোবাশ্বের মোনেমের পর পিএসসির সংস্কারের গতি কী হবে। তিনি সরে যাওয়ার পর নতুন চেয়ারম্যান কে হবেন এবং চলমান পরীক্ষাগুলো আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে কি না—চাকরিপ্রার্থীদের নজর এখন সেদিকেই। বিশেষ করে যারা বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন, তাদের কাছে সময়মতো পরীক্ষা, দ্রুত ফল এবং স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি কর্ম কমিশনের বর্তমান কার্যক্রম ও কর্মকর্তাদের তথ্য বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে নতুন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সংস্কারের উদ্যোগগুলো বাস্তবে কতটা এগোয়, সেটিই আগামী দিনের বড় পরীক্ষা। কারণ চেয়ারম্যান বদলালেও চাকরিপ্রার্থীদের প্রত্যাশা একই—নিরপেক্ষ, দ্রুত ও স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়া।

জনপ্রিয় সংবাদ

পিএসসি চেয়ারম্যানের পদত্যাগ: বড় প্রশ্নের মুখে সংস্কার

Update Time : ১১:৪৯:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

পিএসসি চেয়ারম্যানের পদত্যাগ ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে সরকারি চাকরিপ্রার্থী ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট মহলে। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব পেলেও প্রায় দুই বছর না যেতেই পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগপত্রে শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। একই সময়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগে ফিরে যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে প্রকাশ্যে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি অতিরিক্ত কাজের চাপ, বয়সজনিত সমস্যা ও বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার কথা বলেছেন। সাম্প্রতিক একাধিক প্রতিবেদনে তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

মোবাশ্বের মোনেমের নেতৃত্বে পিএসসিতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতা কমানোর উদ্যোগ। বিসিএসের একটি বিজ্ঞপ্তি থেকে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ পর্যন্ত সময় এক বছরের মধ্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়। এই পরিকল্পনা চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে। কারণ বিসিএসের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে দীর্ঘ সময় লাগা দীর্ঘদিনের একটি বড় সমস্যা। দ্রুত পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ হলে প্রার্থীদের অপেক্ষার সময় কমবে, পাশাপাশি একই সময়ে একাধিক পরীক্ষার জটও কমানো সম্ভব হবে। ৫০তম বিসিএসের ক্ষেত্রেও এক বছরের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য সামনে রাখা হয়েছিল। এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতে কতটা বজায় থাকবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

আরও পড়ুন  হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন অভিযোগের জবাব দিলেন এনসিপি নেতা

শুধু পরীক্ষার সময় কমানো নয়, পিএসসি চেয়ারম্যানের সময়কালে নিয়োগ পরীক্ষার পদ্ধতিতেও পরিবর্তনের আলোচনা সামনে আসে। লিখিত পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে নতুন পদ্ধতি, মৌখিক পরীক্ষায় দক্ষতাভিত্তিক মূল্যায়ন, প্রশ্ন প্রণয়নে পরিবর্তন এবং কোচিংনির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে নিজস্ব ডিজিটাল প্রেস স্থাপন, পরীক্ষাসংক্রান্ত কাজ ডিজিটাল করা এবং অটোমেশনের মতো বিষয়ও আলোচনায় ছিল। আবেদন ফি কমানোর সিদ্ধান্তও প্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হয়। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরির নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সময়, স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তির ব্যবহার—তিন ক্ষেত্রেই পরিবর্তন আসতে পারে।

আরও পড়ুন  নিপোর্ট মৌখিক পরীক্ষা সূচি প্রকাশ, গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

এদিকে পিএসসি চেয়ারম্যানের পদত্যাগ নিয়ে আরেকটি আলোচনা তৈরি হয়েছে কমিশনের স্বায়ত্তশাসন ও প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ককে ঘিরে। পিএসসি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এর স্বাধীনভাবে কাজ করার বিষয়টি বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। চেয়ারম্যানের সময়ে কমিশনের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন নিয়ে আলোচনা এবং সংস্কারের বিভিন্ন প্রস্তাব সামনে আসায় প্রশাসনের সঙ্গে কোনো নীতিগত দূরত্ব তৈরি হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সরকারি বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে নিয়োগবাণিজ্য, তদবির বা প্রশ্নফাঁসের মতো অনিয়ম বন্ধের উদ্যোগ কারও জন্য অস্বস্তিকর হয়েছিল কি না, সেটিও এখন পর্যন্ত মূলত আলোচনা ও অনুমানের পর্যায়ে রয়েছে। তাই এসব বিষয়কে নিশ্চিত কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন  পোশাক রপ্তানিতে ধাক্কা, জুলাইয়ে কমল আয়

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন, মোবাশ্বের মোনেমের পর পিএসসির সংস্কারের গতি কী হবে। তিনি সরে যাওয়ার পর নতুন চেয়ারম্যান কে হবেন এবং চলমান পরীক্ষাগুলো আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে কি না—চাকরিপ্রার্থীদের নজর এখন সেদিকেই। বিশেষ করে যারা বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন, তাদের কাছে সময়মতো পরীক্ষা, দ্রুত ফল এবং স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি কর্ম কমিশনের বর্তমান কার্যক্রম ও কর্মকর্তাদের তথ্য বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে নতুন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সংস্কারের উদ্যোগগুলো বাস্তবে কতটা এগোয়, সেটিই আগামী দিনের বড় পরীক্ষা। কারণ চেয়ারম্যান বদলালেও চাকরিপ্রার্থীদের প্রত্যাশা একই—নিরপেক্ষ, দ্রুত ও স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়া।