ঢাকা ০১:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

আসমানের দরজা খোলার জিকির, পড়ুন এই আমল

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:২৬:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০১

সহিহ হাদিসে বর্ণিত জিকিরের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল।

আসমানের দরজা খোলার জিকির হিসেবে হাদিসে একটি ছোট কিন্তু অর্থবহ আমলের কথা এসেছে। এতে আল্লাহর বড়ত্ব, তাঁর প্রশংসা এবং পবিত্রতা ঘোষণা করা হয়। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে নামাজ আদায়ের সময় বলেন:

اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا، وَسُبْحَانَ اللَّهِ بُكْرَةً وَأَصِيلًا

উচ্চারণ: আল্লাহু আকবারু কাবিরা, ওয়ালহামদু লিল্লাহি কাছিরা, ওয়া সুবহানাল্লাহি বুকরাতাও ওয়া আসিলা।

অর্থ: আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, মহান। আল্লাহর জন্য অগণিত প্রশংসা। সকাল ও সন্ধ্যায় আমি আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি।

এই জিকির শুনে রাসুলুল্লাহ (সা.) জানতে চান, কে এই কথাগুলো বলেছেন। ওই সাহাবি নিজের পরিচয় দিলে নবীজি (সা.) বলেন, তিনি এই কথাগুলো শুনে বিস্মিত হয়েছেন এবং এর কারণে আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি সহিহ মুসলিমের ৬০১ নম্বর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

হাদিসটির শিক্ষা হলো, আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা প্রকাশের জিকির অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ আমল। এখানে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। তাই এটিকে নির্দিষ্ট সংখ্যায় পড়তেই হবে এমন দাবি না করে, আন্তরিকতার সঙ্গে আল্লাহকে স্মরণ করা উচিত। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) জানিয়েছেন, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছ থেকে এই ফজিলতের কথা শোনার পর জিকিরটি আর ছেড়ে দেননি।

ইসলামে জিকির শুধু দীর্ঘ দোয়া বা বড় কোনো আমলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অল্প কয়েকটি বাক্যের মধ্যেও আল্লাহর বড়ত্ব স্বীকার, তাঁর প্রশংসা এবং পবিত্রতা ঘোষণা করা যায়। তবে কোনো জিকিরের ফজিলত বর্ণনার ক্ষেত্রে সহিহ সূত্রের বক্তব্যের মধ্যেই থাকা জরুরি। এই জিকিরের ক্ষেত্রে সহিহ মুসলিমে সরাসরি আসমানের দরজা খুলে দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। তাই এটি মুসলিমদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক একটি আমল হতে পারে।

আল্লাহর জিকিরের পাশাপাশি নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া, তওবা এবং ভালো কাজের মাধ্যমে একজন মুমিন নিজের জীবনকে আরও সুন্দর করতে পারেন। এই জিকিরটি পড়ার সময় এর অর্থ মনে রাখা এবং আল্লাহর বড়ত্ব ও মহিমা অন্তরে অনুভব করার চেষ্টা করা ভালো। শুধু মুখে উচ্চারণের পাশাপাশি অন্তরের একাগ্রতাও গুরুত্বপূর্ণ।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সহিহ হাদিসের শিক্ষা অনুযায়ী আমল করার এবং নিয়মিত তাঁর জিকির করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

হাদিসের সূত্র: সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৬০১।

জনপ্রিয় সংবাদ

আসমানের দরজা খোলার জিকির, পড়ুন এই আমল

Update Time : ০১:২৬:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

আসমানের দরজা খোলার জিকির হিসেবে হাদিসে একটি ছোট কিন্তু অর্থবহ আমলের কথা এসেছে। এতে আল্লাহর বড়ত্ব, তাঁর প্রশংসা এবং পবিত্রতা ঘোষণা করা হয়। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে নামাজ আদায়ের সময় বলেন:

اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا، وَسُبْحَانَ اللَّهِ بُكْرَةً وَأَصِيلًا

উচ্চারণ: আল্লাহু আকবারু কাবিরা, ওয়ালহামদু লিল্লাহি কাছিরা, ওয়া সুবহানাল্লাহি বুকরাতাও ওয়া আসিলা।

অর্থ: আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, মহান। আল্লাহর জন্য অগণিত প্রশংসা। সকাল ও সন্ধ্যায় আমি আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি।

আরও পড়ুন  রহমতের দরজা খুলে যায় যে দোয়ায়

এই জিকির শুনে রাসুলুল্লাহ (সা.) জানতে চান, কে এই কথাগুলো বলেছেন। ওই সাহাবি নিজের পরিচয় দিলে নবীজি (সা.) বলেন, তিনি এই কথাগুলো শুনে বিস্মিত হয়েছেন এবং এর কারণে আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি সহিহ মুসলিমের ৬০১ নম্বর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

হাদিসটির শিক্ষা হলো, আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা প্রকাশের জিকির অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ আমল। এখানে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। তাই এটিকে নির্দিষ্ট সংখ্যায় পড়তেই হবে এমন দাবি না করে, আন্তরিকতার সঙ্গে আল্লাহকে স্মরণ করা উচিত। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) জানিয়েছেন, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছ থেকে এই ফজিলতের কথা শোনার পর জিকিরটি আর ছেড়ে দেননি।

আরও পড়ুন  সুদভিত্তিক ব্যাংকে চাকরি করা ব্যক্তিকে বিয়ে করা কি জায়েজ?

ইসলামে জিকির শুধু দীর্ঘ দোয়া বা বড় কোনো আমলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অল্প কয়েকটি বাক্যের মধ্যেও আল্লাহর বড়ত্ব স্বীকার, তাঁর প্রশংসা এবং পবিত্রতা ঘোষণা করা যায়। তবে কোনো জিকিরের ফজিলত বর্ণনার ক্ষেত্রে সহিহ সূত্রের বক্তব্যের মধ্যেই থাকা জরুরি। এই জিকিরের ক্ষেত্রে সহিহ মুসলিমে সরাসরি আসমানের দরজা খুলে দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। তাই এটি মুসলিমদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক একটি আমল হতে পারে।

আরও পড়ুন  নামাজে সালাম ফেরানোর সঠিক নিয়ম ও সুন্নাহ পদ্ধতি

আল্লাহর জিকিরের পাশাপাশি নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া, তওবা এবং ভালো কাজের মাধ্যমে একজন মুমিন নিজের জীবনকে আরও সুন্দর করতে পারেন। এই জিকিরটি পড়ার সময় এর অর্থ মনে রাখা এবং আল্লাহর বড়ত্ব ও মহিমা অন্তরে অনুভব করার চেষ্টা করা ভালো। শুধু মুখে উচ্চারণের পাশাপাশি অন্তরের একাগ্রতাও গুরুত্বপূর্ণ।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সহিহ হাদিসের শিক্ষা অনুযায়ী আমল করার এবং নিয়মিত তাঁর জিকির করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

হাদিসের সূত্র: সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৬০১।