ঢাকা ০২:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একাদশের পর পড়াশোনা না করার আক্ষেপ কারিনা কাপুরের

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কারিনা কাপুর খান। ছবি: সংগৃহীত

কারিনা কাপুর খান বলিউডের বিনোদন জগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম। ২০০০ সালে ‘রিফিউজি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সিলভার স্ক্রিনে পা রেখে খুব অল্প সময়েই দর্শকদের মনে বিশেষ জায়গা করে নেন এই অভিনেত্রী। পরবর্তীতে ‘জাব উই মেট’, ‘থ্রি ইডিয়টস’ ও ‘চামেলি’-র মতো কালজয়ী সিনেমা উপহার দিয়ে নিজেকে হিন্দি সিনেমার অন্যতম সেরা তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ২০২৪ সালে তার অভিনীত সর্বশেষ সিনেমা ‘সিংহাম এগেইন’ মুক্তির পর কিছুটা বিরতি নিলেও রূপালী পর্দায় কারিনা কাপুর খান এর জনপ্রিয়তা এখনও তুঙ্গে।

সম্প্রতি এক আবেগঘন সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের নানা অজানা অধ্যায় ও ভেতরের এক চাপা কষ্টের কথা ভক্তদের সামনে উন্মোচন করেছেন জনপ্রিয় এই তারকা। বিনোদন জগতের বর্ণিল আলোর পেছনে কারিনা কাপুর খান এর মনে যে গভীর আক্ষেপ লুকিয়ে ছিল, তা হলো তার অসমাপ্ত পড়াশোনা। মাত্র একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় অভিনয়ের সুযোগ আসায় তিনি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তৎকালীন সময়ে নিজেকে বিনোদন জগতে প্রমাণ করার তাড়না থাকলেও, আজ প্রাপ্তবয়সে এসে সেই সিদ্ধান্তকে জীবনের অন্যতম বড় ভুল বলে মনে করেন তিনি।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ করতে না পারার এই অতীত যন্ত্রণা থেকে শিক্ষা নিয়ে কারিনা কাপুর খান এখন তার দুই ছেলে তৈমুর আলী খান ও জাহাঙ্গীর আলী খানের পড়াশোনার বিষয়ে ভীষণ কড়া। ২০১২ সালে বলিউড তারকা সাইফ আলী খানের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর তাদের সংসারে দুই সন্তানের আগমন ঘটে। তারকা পরিবারে জন্ম নেওয়া সত্ত্বেও দুই ছেলেকে আগে পড়াশোনা শেষ করার কঠোর পরামর্শ দেন তিনি। তার মতে, নিজের ভুল থেকে পাওয়া শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে সন্তানদের সঠিকভাবে গড়ে তোলা এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার শক্তি দেওয়াটাই একজন মায়ের প্রধান দায়িত্ব।

বোন কারিশমা কাপুরের সাথে বড় হওয়ায় দুই ছেলের শৈশব কাটানোর এই অভিজ্ঞতাকে কারিনা কাপুর খান এক অলৌকিক ও নতুন শেখার অধ্যায় বলে মনে করেন। কারণ কোনো ভাইয়ের সঙ্গে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা না থাকায় দুই ছেলেকে একসাথে বড় হতে দেখা তাকে প্রতিনিয়ত নতুন অভিজ্ঞতা দান করছে। ছেলেদের ভবিষ্যৎ পছন্দ প্রসঙ্গে তিনি জানান যে, গ্ল্যামার জগতে জন্মগ্রহণ করলেও তাদের ওপর অভিনয়ে আসার কোনো জোরজবরদস্তি নেই। প্রতিটি দিনই তিনি দুই সন্তানের পছন্দ-অপছন্দ বুঝতে চেষ্টা করছেন এবং তাদের স্বাধীন ইচ্ছাকে সম্মান জানান।

বড় ছেলে তৈমুরের কথা বলতে গিয়ে কারিনা কাপুর খান স্পষ্ট জানান যে, তৈমুরের মনোযোগ আপাতত বলিউডের ঝলমলে আলোর দিকে নেই। ক্রিকেট এবং ফুটবলের মতো খেলার প্রতি তার তীব্র ঝোঁক রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে নিজের নাম উজ্জ্বল করার স্বপ্ন দেখে সে। চলচ্চিত্রে প্রতিষ্ঠিত পরিবারের সন্তান হলেই যে তাকে লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের দুনিয়ায় আসতে হবে, সেই ধারণাকে ভেঙে দিয়ে ছেলের এই খেলার স্বপ্নকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন তিনি। ভবিষ্যতের পরিবর্তনকে মেনে নিতেও তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত।

বিনোদন জগতে দু দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজত্ব করা কারিনা কাপুর খান প্রমাণ করেছেন যে জীবনের সাফল্য ও আক্ষেপের গল্প পাশাপাশি চলতেই পারে। একদিকে অসংখ্য সফল সিনেমার ইতিহাস, আর অন্যদিকে পড়াশোনা শেষ না করার প্রাতিষ্ঠানিক আফসোস—এই দুইয়ের সমন্বয়েই আজকের পরিপক্ক মানুষটি গড়ে উঠেছেন। ভক্তদের ভালোবাসায় সিক্ত এই অভিনেত্রী নিজের জীবনের আক্ষেপ থেকে শিক্ষা নিয়ে সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যতের পথ দেখাচ্ছেন, যা সত্যিই অনুসরণীয় ও প্রশংসনীয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

একাদশের পর পড়াশোনা না করার আক্ষেপ কারিনা কাপুরের

Update Time : ০১:২৮:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কারিনা কাপুর খান বলিউডের বিনোদন জগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম। ২০০০ সালে ‘রিফিউজি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সিলভার স্ক্রিনে পা রেখে খুব অল্প সময়েই দর্শকদের মনে বিশেষ জায়গা করে নেন এই অভিনেত্রী। পরবর্তীতে ‘জাব উই মেট’, ‘থ্রি ইডিয়টস’ ও ‘চামেলি’-র মতো কালজয়ী সিনেমা উপহার দিয়ে নিজেকে হিন্দি সিনেমার অন্যতম সেরা তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ২০২৪ সালে তার অভিনীত সর্বশেষ সিনেমা ‘সিংহাম এগেইন’ মুক্তির পর কিছুটা বিরতি নিলেও রূপালী পর্দায় কারিনা কাপুর খান এর জনপ্রিয়তা এখনও তুঙ্গে।

সম্প্রতি এক আবেগঘন সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের নানা অজানা অধ্যায় ও ভেতরের এক চাপা কষ্টের কথা ভক্তদের সামনে উন্মোচন করেছেন জনপ্রিয় এই তারকা। বিনোদন জগতের বর্ণিল আলোর পেছনে কারিনা কাপুর খান এর মনে যে গভীর আক্ষেপ লুকিয়ে ছিল, তা হলো তার অসমাপ্ত পড়াশোনা। মাত্র একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় অভিনয়ের সুযোগ আসায় তিনি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তৎকালীন সময়ে নিজেকে বিনোদন জগতে প্রমাণ করার তাড়না থাকলেও, আজ প্রাপ্তবয়সে এসে সেই সিদ্ধান্তকে জীবনের অন্যতম বড় ভুল বলে মনে করেন তিনি।

আরও পড়ুন  জহির-সোনাক্ষীর প্রেমের কথা আগেই জানতেন সালমান খান

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ করতে না পারার এই অতীত যন্ত্রণা থেকে শিক্ষা নিয়ে কারিনা কাপুর খান এখন তার দুই ছেলে তৈমুর আলী খান ও জাহাঙ্গীর আলী খানের পড়াশোনার বিষয়ে ভীষণ কড়া। ২০১২ সালে বলিউড তারকা সাইফ আলী খানের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর তাদের সংসারে দুই সন্তানের আগমন ঘটে। তারকা পরিবারে জন্ম নেওয়া সত্ত্বেও দুই ছেলেকে আগে পড়াশোনা শেষ করার কঠোর পরামর্শ দেন তিনি। তার মতে, নিজের ভুল থেকে পাওয়া শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে সন্তানদের সঠিকভাবে গড়ে তোলা এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার শক্তি দেওয়াটাই একজন মায়ের প্রধান দায়িত্ব।

আরও পড়ুন  শাকিরার ছেলে! ভাইরাল ভিডিও ঘিরে ১ বড় ভুল ধারণা

বোন কারিশমা কাপুরের সাথে বড় হওয়ায় দুই ছেলের শৈশব কাটানোর এই অভিজ্ঞতাকে কারিনা কাপুর খান এক অলৌকিক ও নতুন শেখার অধ্যায় বলে মনে করেন। কারণ কোনো ভাইয়ের সঙ্গে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা না থাকায় দুই ছেলেকে একসাথে বড় হতে দেখা তাকে প্রতিনিয়ত নতুন অভিজ্ঞতা দান করছে। ছেলেদের ভবিষ্যৎ পছন্দ প্রসঙ্গে তিনি জানান যে, গ্ল্যামার জগতে জন্মগ্রহণ করলেও তাদের ওপর অভিনয়ে আসার কোনো জোরজবরদস্তি নেই। প্রতিটি দিনই তিনি দুই সন্তানের পছন্দ-অপছন্দ বুঝতে চেষ্টা করছেন এবং তাদের স্বাধীন ইচ্ছাকে সম্মান জানান।

বড় ছেলে তৈমুরের কথা বলতে গিয়ে কারিনা কাপুর খান স্পষ্ট জানান যে, তৈমুরের মনোযোগ আপাতত বলিউডের ঝলমলে আলোর দিকে নেই। ক্রিকেট এবং ফুটবলের মতো খেলার প্রতি তার তীব্র ঝোঁক রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে নিজের নাম উজ্জ্বল করার স্বপ্ন দেখে সে। চলচ্চিত্রে প্রতিষ্ঠিত পরিবারের সন্তান হলেই যে তাকে লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের দুনিয়ায় আসতে হবে, সেই ধারণাকে ভেঙে দিয়ে ছেলের এই খেলার স্বপ্নকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন তিনি। ভবিষ্যতের পরিবর্তনকে মেনে নিতেও তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত।

আরও পড়ুন  কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ সিনেমা মৌসুমী নিয়ে বিতর্ক, ক্ষোভে ওমর সানী

বিনোদন জগতে দু দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজত্ব করা কারিনা কাপুর খান প্রমাণ করেছেন যে জীবনের সাফল্য ও আক্ষেপের গল্প পাশাপাশি চলতেই পারে। একদিকে অসংখ্য সফল সিনেমার ইতিহাস, আর অন্যদিকে পড়াশোনা শেষ না করার প্রাতিষ্ঠানিক আফসোস—এই দুইয়ের সমন্বয়েই আজকের পরিপক্ক মানুষটি গড়ে উঠেছেন। ভক্তদের ভালোবাসায় সিক্ত এই অভিনেত্রী নিজের জীবনের আক্ষেপ থেকে শিক্ষা নিয়ে সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যতের পথ দেখাচ্ছেন, যা সত্যিই অনুসরণীয় ও প্রশংসনীয়।