ঢাকা ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
একটি ছোট উদ্যোগ থেকেই সফল কৃষক—তরুণ উদ্যোক্তার আঙুর বাগানে এখন নতুন সম্ভাবনা

একটি চারা থেকে ১৫০ জাতের আঙুর

  • Admin 2.O
  • Update Time : ০৩:৫৪:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৫৫

বাংলাদেশে কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার নাম এখন আঙুর চাষ। অল্প পুঁজি ও সঠিক পরিকল্পনায় এই খাতে সফলতা পাওয়া সম্ভব—এরই বাস্তব উদাহরণ চাঁদপুরের তরুণ Ikram Khan। মাত্র একটি চারা দিয়ে শুরু করা তাঁর যাত্রা আজ রূপ নিয়েছে বড় একটি আঙুর বাগানে।

২০২১ সালে প্রবাসী বড় ভাইয়ের কাছ থেকে পাওয়া একটি আঙুরের চারা তিনি প্রথমে নিজের বাড়ির ছাদে রোপণ করেন। এক বছরের মধ্যেই গাছে ফল আসে, যা তাঁর আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে তোলে। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি পরিকল্পনা করেন বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষের।

পরবর্তীতে বিদেশ থেকে উন্নত জাতের চারা সংগ্রহ করে পৈতৃক জমিতে গড়ে তোলেন একটি আধুনিক বাগান। বর্তমানে তাঁর বাগানে প্রায় ১৫০ জাতের আঙুর চাষ হচ্ছে। লাল, সবুজসহ বিভিন্ন রঙের থোকায় থোকায় আঙুর বাগানজুড়ে শোভা পাচ্ছে। আধুনিক মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করে তিনি বিষমুক্ত ফল উৎপাদন করছেন, যা বাজারে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

এই বাগান থেকে ইতোমধ্যে ৬০০ কেজির বেশি আঙুর উৎপাদন হয়েছে। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাকি ফল বিক্রি করে ভালো আয় করছেন তিনি। শুধু ফল নয়, চারা বিক্রিও তাঁর আয়ের বড় একটি উৎস। সব মিলিয়ে বছরে প্রায় ৯ লাখ টাকা আয় করছেন এই তরুণ উদ্যোক্তা।

তাঁর এই সফলতা স্থানীয় তরুণদেরও অনুপ্রাণিত করছে। অনেকেই এখন আঙুর চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন, যা গ্রামাঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে। কৃষি কর্মকর্তারাও তাঁকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন।

ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আঙুর চাষের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। দেশে আঙুরের উৎপাদন বাড়লে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে—এমনটাই আশা করছেন তিনি।

এই গল্প প্রমাণ করে, সঠিক পরিকল্পনা, পরিশ্রম এবং আগ্রহ থাকলে কৃষিতেও গড়া যায় সফলতার নতুন দিগন্ত।

জনপ্রিয় সংবাদ

একটি ছোট উদ্যোগ থেকেই সফল কৃষক—তরুণ উদ্যোক্তার আঙুর বাগানে এখন নতুন সম্ভাবনা

একটি চারা থেকে ১৫০ জাতের আঙুর

Update Time : ০৩:৫৪:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশে কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার নাম এখন আঙুর চাষ। অল্প পুঁজি ও সঠিক পরিকল্পনায় এই খাতে সফলতা পাওয়া সম্ভব—এরই বাস্তব উদাহরণ চাঁদপুরের তরুণ Ikram Khan। মাত্র একটি চারা দিয়ে শুরু করা তাঁর যাত্রা আজ রূপ নিয়েছে বড় একটি আঙুর বাগানে।

২০২১ সালে প্রবাসী বড় ভাইয়ের কাছ থেকে পাওয়া একটি আঙুরের চারা তিনি প্রথমে নিজের বাড়ির ছাদে রোপণ করেন। এক বছরের মধ্যেই গাছে ফল আসে, যা তাঁর আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে তোলে। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি পরিকল্পনা করেন বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষের।

আরও পড়ুন  ভয়াবহ বন্যার মাঝেও বিদেশি সহায়তায় নেপালের ‘না’, কেন?

পরবর্তীতে বিদেশ থেকে উন্নত জাতের চারা সংগ্রহ করে পৈতৃক জমিতে গড়ে তোলেন একটি আধুনিক বাগান। বর্তমানে তাঁর বাগানে প্রায় ১৫০ জাতের আঙুর চাষ হচ্ছে। লাল, সবুজসহ বিভিন্ন রঙের থোকায় থোকায় আঙুর বাগানজুড়ে শোভা পাচ্ছে। আধুনিক মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করে তিনি বিষমুক্ত ফল উৎপাদন করছেন, যা বাজারে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

এই বাগান থেকে ইতোমধ্যে ৬০০ কেজির বেশি আঙুর উৎপাদন হয়েছে। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাকি ফল বিক্রি করে ভালো আয় করছেন তিনি। শুধু ফল নয়, চারা বিক্রিও তাঁর আয়ের বড় একটি উৎস। সব মিলিয়ে বছরে প্রায় ৯ লাখ টাকা আয় করছেন এই তরুণ উদ্যোক্তা।

আরও পড়ুন  চন্দনাইশে গোয়াল ঘরে দুর্বৃত্তের আগুন, পুড়ে গেছে ৭গরু

তাঁর এই সফলতা স্থানীয় তরুণদেরও অনুপ্রাণিত করছে। অনেকেই এখন আঙুর চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন, যা গ্রামাঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে। কৃষি কর্মকর্তারাও তাঁকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন।

ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আঙুর চাষের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। দেশে আঙুরের উৎপাদন বাড়লে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে—এমনটাই আশা করছেন তিনি।

এই গল্প প্রমাণ করে, সঠিক পরিকল্পনা, পরিশ্রম এবং আগ্রহ থাকলে কৃষিতেও গড়া যায় সফলতার নতুন দিগন্ত।

আরও পড়ুন  নারায়ণগঞ্জে পানির ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু