ঢাকা ১০:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশু উদ্ধার: ৩১ হাজার টাকায় বিক্রির ঘটনায় পুলিশের অভিযান

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৮:৩৯:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫১৮

গাইবান্ধায় উদ্ধার হওয়া শিশুকন্যা। ছবি: সংগৃহীত

শিশু উদ্ধার: গাইবান্ধায় মাদকের টাকা জোগাড় করতে নিজের শিশুকন্যাকে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাবা হামিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। প্রায় দুই মাস পর রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরে সোমবার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত জানানো হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা হামিদুল ইসলামসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া শিশুটিকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার মা রোমানা আক্তারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ জুলাই গাইবান্ধা পৌর এলাকার দক্ষিণ ধানঘরা থেকে শিশুটিকে বিস্কুট বা জুস কিনে দেওয়ার কথা বলে বাড়ির বাইরে নিয়ে যান হামিদুল। এরপর তিনি আর শিশুটিকে নিয়ে বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের অভিযোগ, মাদকের টাকা জোগাড় করতেই শিশুটিকে অন্যের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে শিশুটির বয়স ১১ ও ১৩ মাস উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পুলিশি অভিযানের পর শিশুটিকে নিরাপদ অবস্থায় উদ্ধারের বিষয়টি একাধিক সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে

সন্তানকে ফিরে পেতে শিশুটির মা রোমানা আক্তার আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁর আবেদনের পর আদালত শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশের প্রতি নির্দেশ দেন। এরপর গাইবান্ধা সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় অভিযান শুরু করেন। ধারাবাহিক অনুসন্ধানের একপর্যায়ে শিশুটির বাবাকে আটক করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আরও ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। পরে রোববার রাতে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের অভিযানে হামিদুল ইসলামের পাশাপাশি আব্দুল মজিদ সরকার, মোর্শেদা খাতুন ও জেসমিন আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, শিশুটিকে হস্তান্তরের ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি যুক্ত ছিলেন। তবে কীভাবে পুরো লেনদেন সম্পন্ন হয়েছিল এবং এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তের বিষয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

শিশুকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মা রোমানা আক্তার। তিনি মেয়েকে নিজের কোলে ফিরে পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করেন। একই সঙ্গে নিজের ও সন্তানের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগের কথা জানান তিনি। শিশুর নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ঘটনার আইনগত তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শিশুদের সহিংসতা, নির্যাতন, শোষণ ও অবহেলা থেকে সুরক্ষা দেওয়াকে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিশু অধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

গাইবান্ধার এই ঘটনায় আদালতের নির্দেশ, পুলিশের তদন্ত ও শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধারের বিষয়টি সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের মাধ্যমে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।  একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে শিশু নিখোঁজ বা ঝুঁকিতে পড়লে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো জরুরি। এই ঘটনার পর সবচেয়ে স্বস্তির বিষয় হলো—দীর্ঘ অপেক্ষার পর শিশুকন্যাটি মায়ের কাছে ফিরে এসেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শিশু উদ্ধার: ৩১ হাজার টাকায় বিক্রির ঘটনায় পুলিশের অভিযান

Update Time : ০৮:৩৯:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিশু উদ্ধার: গাইবান্ধায় মাদকের টাকা জোগাড় করতে নিজের শিশুকন্যাকে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাবা হামিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। প্রায় দুই মাস পর রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরে সোমবার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত জানানো হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা হামিদুল ইসলামসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া শিশুটিকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার মা রোমানা আক্তারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ জুলাই গাইবান্ধা পৌর এলাকার দক্ষিণ ধানঘরা থেকে শিশুটিকে বিস্কুট বা জুস কিনে দেওয়ার কথা বলে বাড়ির বাইরে নিয়ে যান হামিদুল। এরপর তিনি আর শিশুটিকে নিয়ে বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের অভিযোগ, মাদকের টাকা জোগাড় করতেই শিশুটিকে অন্যের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে শিশুটির বয়স ১১ ও ১৩ মাস উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পুলিশি অভিযানের পর শিশুটিকে নিরাপদ অবস্থায় উদ্ধারের বিষয়টি একাধিক সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে

আরও পড়ুন  মাদক ঠেকাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে শিক্ষার্থী নিহত, আশঙ্কাজনক ১

সন্তানকে ফিরে পেতে শিশুটির মা রোমানা আক্তার আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁর আবেদনের পর আদালত শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশের প্রতি নির্দেশ দেন। এরপর গাইবান্ধা সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় অভিযান শুরু করেন। ধারাবাহিক অনুসন্ধানের একপর্যায়ে শিশুটির বাবাকে আটক করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আরও ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। পরে রোববার রাতে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন  সুন্দরবনে ট্রলারসহ ১২ জেলে অপহরণ, আতঙ্কে উপকূলীয় জনপদ

পুলিশের অভিযানে হামিদুল ইসলামের পাশাপাশি আব্দুল মজিদ সরকার, মোর্শেদা খাতুন ও জেসমিন আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, শিশুটিকে হস্তান্তরের ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি যুক্ত ছিলেন। তবে কীভাবে পুরো লেনদেন সম্পন্ন হয়েছিল এবং এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তের বিষয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

শিশুকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মা রোমানা আক্তার। তিনি মেয়েকে নিজের কোলে ফিরে পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করেন। একই সঙ্গে নিজের ও সন্তানের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগের কথা জানান তিনি। শিশুর নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ঘটনার আইনগত তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শিশুদের সহিংসতা, নির্যাতন, শোষণ ও অবহেলা থেকে সুরক্ষা দেওয়াকে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিশু অধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

আরও পড়ুন  দোহারে ডাকাতদলের সক্রিয় সদস্য গ্রেপ্তার

গাইবান্ধার এই ঘটনায় আদালতের নির্দেশ, পুলিশের তদন্ত ও শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধারের বিষয়টি সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের মাধ্যমে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।  একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে শিশু নিখোঁজ বা ঝুঁকিতে পড়লে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো জরুরি। এই ঘটনার পর সবচেয়ে স্বস্তির বিষয় হলো—দীর্ঘ অপেক্ষার পর শিশুকন্যাটি মায়ের কাছে ফিরে এসেছে।