ঢাকা ১১:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

শিশু আয়েশা হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন: চিলমারীতে দম্পতি গ্রেপ্তার

  • Md Abdur Rahman
  • Update Time : ১০:১৮:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
  • ৫১৫

চিলমারীতে শিশু আয়েশা হত্যার ঘটনায় তদন্ত চলছে। ছবি: সংগৃহীত

শিশু আয়েশা হত্যার রহস্য অবশেষে উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ, যা কুড়িগ্রামের চিলমারী এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। দুই বছরের শিশু আয়েশা সিদ্দিকা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার পেছনে লুকিয়ে ছিল এক হৃদয়বিদারক সত্য। দীর্ঘ তদন্তের পর পুলিশ জানতে পারে, এটি কোনো সাধারণ নিখোঁজ ঘটনা নয় বরং একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাশেদুল ইসলাম আপেল ও তার স্ত্রী কহিনুর বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৭ এপ্রিল সকালে শিশু আয়েশা প্রতিবেশীর বাড়িতে খেলতে যায়। সেখানে সমবয়সী আরেক শিশুর সঙ্গে খেলাধুলার একপর্যায়ে দুর্ঘটনাবশত আয়েশার চোখে গুরুতর আঘাত লাগে। বিষয়টি প্রকাশ পেলে আইনি ঝামেলায় পড়ার আশঙ্কা থেকে অভিযুক্ত দম্পতি ভয় পেয়ে যায়। এরপর তারা অমানবিক সিদ্ধান্ত নেয় এবং আয়েশাকে একটি ড্রামের ভেতর আটকে রেখে মুখ চেপে ধরে। এতে শিশুটি শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায়, যা পুরো ঘটনাকে আরও নির্মম করে তোলে।

পুলিশ জানায়, হত্যার পর অভিযুক্তরা ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে রাতের আঁধারে মরদেহটি পাশের একটি পরিত্যক্ত জমিতে ফেলে দেয়। পরে আয়েশার পরিবার অনেক খোঁজাখুঁজির পর রাতে তার মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় প্রথমে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত চলাকালে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে পুলিশ সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে এবং অবশেষে তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপরাধ স্বীকার করে এবং আদালতেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

চিলমারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ভোরে অভিযুক্ত দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই শিশু আয়েশা হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার সমাধান হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে। তবে এ ধরনের ঘটনা সমাজের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার ও সমাজকে আরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাও প্রশংসিত হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আকিজ গ্রুপে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি : হিসাবরক্ষক পদে চাকরির সুযোগ, সাথে আবাসন সুবিধা

শিশু আয়েশা হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন: চিলমারীতে দম্পতি গ্রেপ্তার

Update Time : ১০:১৮:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

শিশু আয়েশা হত্যার রহস্য অবশেষে উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ, যা কুড়িগ্রামের চিলমারী এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। দুই বছরের শিশু আয়েশা সিদ্দিকা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার পেছনে লুকিয়ে ছিল এক হৃদয়বিদারক সত্য। দীর্ঘ তদন্তের পর পুলিশ জানতে পারে, এটি কোনো সাধারণ নিখোঁজ ঘটনা নয় বরং একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাশেদুল ইসলাম আপেল ও তার স্ত্রী কহিনুর বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ পুলিশের ৬ শীর্ষ কর্মকর্তার একযোগে বদলি

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৭ এপ্রিল সকালে শিশু আয়েশা প্রতিবেশীর বাড়িতে খেলতে যায়। সেখানে সমবয়সী আরেক শিশুর সঙ্গে খেলাধুলার একপর্যায়ে দুর্ঘটনাবশত আয়েশার চোখে গুরুতর আঘাত লাগে। বিষয়টি প্রকাশ পেলে আইনি ঝামেলায় পড়ার আশঙ্কা থেকে অভিযুক্ত দম্পতি ভয় পেয়ে যায়। এরপর তারা অমানবিক সিদ্ধান্ত নেয় এবং আয়েশাকে একটি ড্রামের ভেতর আটকে রেখে মুখ চেপে ধরে। এতে শিশুটি শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায়, যা পুরো ঘটনাকে আরও নির্মম করে তোলে।

আরও পড়ুন  পুলিশে বড় ধরনের রদবদল: একাধিক কর্মকর্তার নতুন দায়িত্ব

পুলিশ জানায়, হত্যার পর অভিযুক্তরা ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে রাতের আঁধারে মরদেহটি পাশের একটি পরিত্যক্ত জমিতে ফেলে দেয়। পরে আয়েশার পরিবার অনেক খোঁজাখুঁজির পর রাতে তার মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় প্রথমে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত চলাকালে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে পুলিশ সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে এবং অবশেষে তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপরাধ স্বীকার করে এবং আদালতেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

আরও পড়ুন  ২ মে ঘিরে উৎসবের আমেজ সিলেটে সফর প্রধানমন্ত্রী

চিলমারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ভোরে অভিযুক্ত দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই শিশু আয়েশা হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার সমাধান হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে। তবে এ ধরনের ঘটনা সমাজের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার ও সমাজকে আরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাও প্রশংসিত হয়েছে।