পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে শ্রমিকদের যাতায়াত সহজ করতে দেশের সব রুটে জাহাজ ও লঞ্চের ভাড়া ১০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের এক সভায় এ তথ্য জানিয়েছে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি। বৃহস্পতিবার ঢাকার সিরড্যাপ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টার-এ অনুষ্ঠিত সভায় শ্রমিকদের ঈদযাত্রা, বেতন-বোনাস এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আব্দুর রহমান তরফদার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরিফুল হক চৌধুরী।
সভায় জানানো হয়, শ্রমিকদের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে জাহাজ ও লঞ্চের ভাড়া কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে দূরপাল্লার যাত্রীদের যাতায়াত ব্যয় কিছুটা কমে আসে। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি জানান, দেশের সব রুটে এই ভাড়া কমানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। বিশেষ করে ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো শ্রমজীবী মানুষের সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সভায় আরও জানানো হয়, শ্রমিকদের বেতন ও ঈদ বোনাস যথাসময়ে পরিশোধ নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, জেলা পুলিশ এবং শিল্প পুলিশকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। শিল্পাঞ্চলসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারিও বাড়ানো হবে। সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন-এর সভাপতি ফজলে শামীম এহসান এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল-এর সভাপতি আনোয়ার হোসাইনসহ বিভিন্ন শ্রমিক ও মালিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আগামী ২১ মে’র মধ্যে দেশের সব কারখানায় শ্রমিকদের ঈদ বোনাস এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাসিক বেতন পরিশোধের নির্দেশ দেন।
মন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। সড়কে যানজট কমাতে পর্যায়ক্রমে কারখানাগুলো ছুটি দেওয়ার জন্য মালিক ও শ্রমিক পক্ষকে সমঝোতার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। শ্রমিক নেতারা সভায় বলেন, সময়মতো বেতন ও বোনাস পরিশোধ করা হলে শিল্পাঞ্চলে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি হবে না। তবে যেসব কারখানায় এখনো বকেয়া বেতন রয়েছে, সেখানে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মত দেন তারা।
একই সঙ্গে শ্রমিক প্রতিনিধিরা ঈদযাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক করতে বিশেষ বাস, ট্রেন ও লঞ্চ সার্ভিস চালুর আহ্বান জানান। তাদের মতে, অতিরিক্ত যাত্রীচাপ সামাল দিতে পরিবহন ব্যবস্থায় বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতি বছর ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাত্রীচাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ফলে আগেভাগে সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হলে যাত্রী দুর্ভোগ অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।




























