ঢাকা ১২:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ডলার রেট আজ: কত টাকায় মিলছে ডলার-ইউরো-রুপি? Logo ১৪ বছরের অভিনয় জীবনের সেরা স্বীকৃতি পেলেন ইয়ামি গৌতম Logo বিকালে বাবার দাফন শেষে রাতে ডিউটি, সকালে এইচএসসি পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থী Logo অলিভ অয়েল কেন স্বাস্থ্যকর? জেনে নিন ব্যবহার ও সংরক্ষণের নিয়ম Logo নিয়মিত তরমুজ খেলে কী হয়? জানুন শরীরের ৭টি উপকারিতা Logo ডিম সংরক্ষণের সঠিক নিয়ম: ফ্রিজে কতদিন নিরাপদ থাকে? Logo লিভার সুস্থ রাখতে যে অভ্যাস বদলানো জরুরি Logo কলা সংরক্ষণের সঠিক উপায়: বেশি দিন টাটকা রাখার সহজ কৌশল Logo ইউক্রেনে সেনাবাহিনীতে বড় রদবদল, সেনাপ্রধানকে সরালেন জেলেনস্কি Logo বিশ্বকাপে চমক দেখানো ছোট দেশগুলো: কুরাসাও থেকে কেপ ভার্দের অবিশ্বাস্য গল্প

বিকালে বাবার দাফন শেষে রাতে ডিউটি, সকালে এইচএসসি পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থী

বাবাকে হারানোর শোক নিয়েই পরীক্ষার প্রস্তুতি ইকনের। ছবি: সংগৃহীত

ইকনের সংগ্রাম এখন বাগেরহাটসহ সারা দেশের মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছে। বাবাকে হারানোর গভীর শোকের মধ্যেও দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াননি এই এইচএসসি পরীক্ষার্থী। বিকেলে বাবার দাফন সম্পন্ন করার পর রাতেই খণ্ডকালীন চাকরির ডিউটিতে যোগ দেন। আর পরদিন সকালে অংশ নেন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায়। কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তাঁর এই অদম্য মানসিক শক্তি ও দায়িত্ববোধ অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

বাগেরহাট শহরের মুনিগঞ্জ মেডিকেল স্কুল রোড এলাকার বাসিন্দা ইকন স্থানীয় খান জাহান আলী ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোরে অসুস্থ হয়ে পড়েন তাঁর বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া। সকাল ৬টার দিকে তাঁকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে জোহরের নামাজের পর জানাজা শেষে গোপালগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরাফিল দাড়িয়া মোটরসাইকেল চালিয়ে সংসারের খরচ চালাতেন। বড় ছেলে ইমন একসময় বাবাকে কাজে সহযোগিতা করলেও সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। ফলে পরিবারের দায়িত্ব অনেকটাই এসে পড়ে ছোট ছেলে ইকনের কাঁধে। পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারের ব্যয় মেটাতে তিনি বাগেরহাট শহরের রেলরোড এলাকায় কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে রাতের শিফটে খণ্ডকালীন চাকরি করেন।

বাবার দাফন শেষ হওয়ার পরও দায়িত্ব থেকে বিরত থাকেননি ইকন। মঙ্গলবার রাতেই তিনি কর্মস্থলে ফিরে যান এবং রাতের শিফটে দায়িত্ব পালন করেন। পরদিন ছিল তাঁর এইচএসসি পরীক্ষার ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের পরীক্ষা। শোক, ক্লান্তি ও মানসিক চাপ সত্ত্বেও ভবিষ্যতের কথা ভেবে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তাঁর এই দৃঢ়তা স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, ইকনের জীবনসংগ্রাম আজকের তরুণদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। ব্যক্তিগত বিপর্যয়ের মধ্যেও দায়িত্ব পালন এবং শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা তাঁর চরিত্রের দৃঢ়তার পরিচয় দেয়। পরিবারের কঠিন পরিস্থিতি, বড় ভাইয়ের অসুস্থতা এবং আর্থিক সংকটের মাঝেও তিনি আশা ছাড়েননি।

বর্তমানে ইকনের পরিবার কঠিন সময় পার করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর ও তাঁর পরিবারের জন্য দোয়া কামনা করেছেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, এমন মেধাবী ও দায়িত্বশীল শিক্ষার্থীর পাশে সমাজ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাঁড়ানো উচিত, যাতে তিনি পড়াশোনা চালিয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডলার রেট আজ: কত টাকায় মিলছে ডলার-ইউরো-রুপি?

বিকালে বাবার দাফন শেষে রাতে ডিউটি, সকালে এইচএসসি পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থী

Update Time : ১১:০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ইকনের সংগ্রাম এখন বাগেরহাটসহ সারা দেশের মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছে। বাবাকে হারানোর গভীর শোকের মধ্যেও দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াননি এই এইচএসসি পরীক্ষার্থী। বিকেলে বাবার দাফন সম্পন্ন করার পর রাতেই খণ্ডকালীন চাকরির ডিউটিতে যোগ দেন। আর পরদিন সকালে অংশ নেন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায়। কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তাঁর এই অদম্য মানসিক শক্তি ও দায়িত্ববোধ অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

বাগেরহাট শহরের মুনিগঞ্জ মেডিকেল স্কুল রোড এলাকার বাসিন্দা ইকন স্থানীয় খান জাহান আলী ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোরে অসুস্থ হয়ে পড়েন তাঁর বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া। সকাল ৬টার দিকে তাঁকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে জোহরের নামাজের পর জানাজা শেষে গোপালগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

আরও পড়ুন  এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত, বন্যায় ৫ জেলার পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরাফিল দাড়িয়া মোটরসাইকেল চালিয়ে সংসারের খরচ চালাতেন। বড় ছেলে ইমন একসময় বাবাকে কাজে সহযোগিতা করলেও সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। ফলে পরিবারের দায়িত্ব অনেকটাই এসে পড়ে ছোট ছেলে ইকনের কাঁধে। পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারের ব্যয় মেটাতে তিনি বাগেরহাট শহরের রেলরোড এলাকায় কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে রাতের শিফটে খণ্ডকালীন চাকরি করেন।

আরও পড়ুন  ৩ শর্তে ইসতি মেডিকেলের এমডি ফয়সালের জামিন

বাবার দাফন শেষ হওয়ার পরও দায়িত্ব থেকে বিরত থাকেননি ইকন। মঙ্গলবার রাতেই তিনি কর্মস্থলে ফিরে যান এবং রাতের শিফটে দায়িত্ব পালন করেন। পরদিন ছিল তাঁর এইচএসসি পরীক্ষার ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের পরীক্ষা। শোক, ক্লান্তি ও মানসিক চাপ সত্ত্বেও ভবিষ্যতের কথা ভেবে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তাঁর এই দৃঢ়তা স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, ইকনের জীবনসংগ্রাম আজকের তরুণদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। ব্যক্তিগত বিপর্যয়ের মধ্যেও দায়িত্ব পালন এবং শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা তাঁর চরিত্রের দৃঢ়তার পরিচয় দেয়। পরিবারের কঠিন পরিস্থিতি, বড় ভাইয়ের অসুস্থতা এবং আর্থিক সংকটের মাঝেও তিনি আশা ছাড়েননি।

আরও পড়ুন  অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে এইচএসসি পরীক্ষার্থী, পরীক্ষা দিতে পারলেন না দুই ছাত্রী

বর্তমানে ইকনের পরিবার কঠিন সময় পার করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর ও তাঁর পরিবারের জন্য দোয়া কামনা করেছেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, এমন মেধাবী ও দায়িত্বশীল শিক্ষার্থীর পাশে সমাজ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাঁড়ানো উচিত, যাতে তিনি পড়াশোনা চালিয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন।