স্কিনকেয়ার করার পরও ব্রণ অনেকের জন্য একটি সাধারণ কিন্তু বিরক্তিকর সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। নিয়মিত ফেসওয়াশ, সিরাম বা ক্রিম ব্যবহার করার পরও যখন ত্বকে ব্রণ বাড়তে থাকে, তখন অনেকেই চিন্তায় পড়ে যান। আসলে শুধু স্কিনকেয়ার করলেই সব সমস্যা দূর হয়ে যায় না। এর পেছনে হরমোন, লাইফস্টাইল এবং ত্বকের অভ্যন্তরীণ নানা কারণ কাজ করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্কিনকেয়ার করার পরও ব্রণ না কমার মূল কারণ বুঝতে হলে আগে জানতে হবে ব্রণ কেন হয়।
হরমোনের প্রভাব বড় কারণ
স্কিনকেয়ার করার পরও ব্রণ না কমার একটি বড় কারণ হলো হরমোনের পরিবর্তন। শরীরে টেস্টোস্টেরন নামক হরমোন সেবাসিয়াস গ্ল্যান্ডকে বেশি সক্রিয় করে তোলে, যার ফলে ত্বকে অতিরিক্ত তেল বা সেবাম তৈরি হয়।
এই অতিরিক্ত তেল যদি পোরসের ভেতরে আটকে যায়, তাহলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া জন্ম নেয় এবং প্রদাহ সৃষ্টি হয়। এভাবেই ব্রণ তৈরি হয়। নারীদের ক্ষেত্রে হরমোনাল ইমব্যালেন্স, বিশেষ করে PCOS থাকলে ব্রণের সমস্যা বেশি দেখা যায়।
স্ট্রেস বা কর্টিসল হরমোনও ত্বকের তেল উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়, যা ব্রণকে আরও খারাপ করে তোলে।
লাইফস্টাইলের ভুল অভ্যাস
স্কিনকেয়ার করার পরও ব্রণ না কমার আরেকটি বড় কারণ হলো অনিয়মিত জীবনযাপন। বেশি তেলযুক্ত খাবার, ফাস্টফুড, অতিরিক্ত চিনি এবং কম পানি পান করা ব্রণের সমস্যা বাড়ায়।
এছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, মানসিক চাপ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবও ত্বকের অবস্থাকে খারাপ করে দেয়।
অনেক সময় মোবাইল, বালিশের কভার, তোয়ালে বা মেকআপ ব্রাশ পরিষ্কার না রাখার কারণে ব্যাকটেরিয়া ত্বকে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্রণ বাড়িয়ে দেয়।
স্কিনকেয়ার ভুল করলে উল্টো ক্ষতি
অনেকে মনে করেন বেশি প্রোডাক্ট ব্যবহার করলে দ্রুত ফল পাওয়া যাবে। কিন্তু অতিরিক্ত প্রোডাক্ট ব্যবহার করলে ত্বকের স্বাভাবিক ব্যালেন্স নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্কিনকেয়ার করার পরও ব্রণ থাকলে স্কিন রুটিন সহজ রাখা উচিত। দিনে দুইবার ফেসওয়াশ, হালকা ময়েশ্চারাইজার এবং সানস্ক্রিন যথেষ্ট।
সপ্তাহে ১–২ দিন স্যালিসাইলিক অ্যাসিড ব্যবহার করলে পোরস পরিষ্কার থাকে এবং ব্রণ কমে। ক্লে মাস্ক অতিরিক্ত তেল শোষণ করতে সাহায্য করে।

ব্রণের ধরন বোঝা জরুরি
ব্রণ এক ধরনের নয়। সাধারণত চার ধরনের ব্রণ বেশি দেখা যায়—
- ব্ল্যাকহেডস
- হোয়াইটহেডস
- প্যাপিউল
- পাস্টিউল
প্রতিটি ধরনের জন্য আলাদা যত্ন প্রয়োজন। তাই স্কিনকেয়ার করার পরও ব্রণ না কমলে বুঝতে হবে সমস্যার ধরন সঠিকভাবে চিহ্নিত হয়নি।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
স্কিনকেয়ার করার পরও ব্রণ দীর্ঘদিন না কমলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষ করে সিস্টিক একনে, ফাঙ্গাল একনে বা ব্যথাযুক্ত বড় ব্রণ হলে দেরি করা উচিত নয়।
টিনএজে অনেক সময় ব্রণ নিজে থেকেই কমে যায়। তবে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ব্রণ হলে হরমোন বা অন্য স্বাস্থ্য সমস্যা থাকতে পারে।

সহজ সমাধান কী হতে পারে
স্কিনকেয়ার করার পরও ব্রণ কমাতে হলে শুধু প্রোডাক্ট নয়, লাইফস্টাইলও পরিবর্তন করতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, পর্যাপ্ত পানি পান করা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং মানসিক চাপ কমানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ত্বকের ধরন অনুযায়ী প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে হবে এবং অযথা একাধিক প্রোডাক্ট ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
স্কিনকেয়ার করার পরও ব্রণ একটি সাধারণ সমস্যা হলেও এর পেছনে গভীর কারণ থাকতে পারে। হরমোন, লাইফস্টাইল এবং ভুল স্কিনকেয়ার রুটিন একসাথে কাজ করে এই সমস্যা তৈরি করে।
সঠিক নিয়ম মেনে যত্ন নিলে এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে ধীরে ধীরে ত্বক হয়ে উঠতে পারে স্বাস্থ্যকর, পরিষ্কার এবং উজ্জ্বল।



























