সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন বহাল রেখেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে দায়ের করা ১২টি মামলার সবকটিতেই জামিন নিশ্চিত হওয়ায় তার কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। রোববার (১৭ মে) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত সিদ্ধিরগঞ্জ থানার দুটি মামলায় তার জামিন বহাল রাখার আদেশ দেন।
এর আগে গত ১০ মে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় করা হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ পৃথক ১০টি মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ। এরপর নতুন করে আরও দুটি মামলায় সাবেক মেয়র আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সেই মামলাগুলোতেও গত ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট তাকে জামিন দেন। সর্বশেষ আজ চেম্বার আদালতের আদেশের মাধ্যমে মোট ১২টি মামলার সবকটিতেই তার জামিন চূড়ান্তভাবে বহাল থাকলো।
আইভীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, আদালতের এই আদেশের ফলে সেলিনা হায়াৎ আইভীর কারামুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর অবশেষে সব মামলায় জামিন নিশ্চিত হওয়ায় তার পরিবার ও সমর্থকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। আদালতের রায়ের পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতিতে এই সিদ্ধান্ত নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনায় প্রথমে পাঁচটি এবং পরে আরও পাঁচটি মামলায় সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলার মধ্যে ফতুল্লা ও সদর মডেল থানায় দায়ের করা হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন হাইকোর্ট বেঞ্চ থেকে জামিন পেলেও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর চেম্বার আদালত সেসব জামিন স্থগিত করেছিলেন। তবে দীর্ঘ শুনানি ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সব মামলায় তার জামিন বহাল রাখলেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ আদালতের ধারাবাহিক এই আদেশ দেশের বিচারব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। কারণ একাধিক মামলায় দীর্ঘ সময় ধরে চলা শুনানির পর আদালত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জামিন বহাল রেখেছেন। এতে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও আলোচিত মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনেও বড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে আদালতের আদেশের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেলিনা হায়াৎ আইভীর সমর্থকরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। অনেকে এটিকে আইনের জয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আবার বিরোধী পক্ষের নেতাকর্মীরাও আদালতের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানানোর কথা বলেছেন। সব মিলিয়ে সাবেক মেয়র আইভীর জামিনের বিষয়টি এখন জাতীয় পর্যায়ের আলোচনায় পরিণত হয়েছে।





















