ঢাকা ১১:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আসছে ‘প্রতিভার সন্ধানে’, বদলে যাবে রিয়েলিটি শোর ধারণা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৮:০৬:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৩

প্রতিভার সন্ধানে রিয়েলিটি শো (সংগৃহীত)

দেশের তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে থাকা বৈচিত্র্যময় প্রতিভাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে নতুন রিয়েলিটি শো ‘প্রতিভার সন্ধানে’ আয়োজন করতে যাচ্ছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। প্রচলিত গান, নাচ কিংবা কমেডি নির্ভর প্রতিযোগিতার বাইরে গিয়ে যেকোনো ব্যতিক্রমী প্রতিভাকে এক মঞ্চে তুলে আনার লক্ষ্যেই এই আয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি দেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিভা অনুসন্ধানমূলক আয়োজন হতে যাচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লোকজ সংস্কৃতি থেকে শুরু করে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন—সব ধরনের প্রতিভার জন্য এই প্রতিযোগিতা উন্মুক্ত থাকবে। লাঠিখেলা, পুতুলনাচ, বহুরূপী, জাদুবিদ্যা, অ্যাক্রোবেটিক্স, স্যান্ড আর্ট, রোবটিক্স, ড্রোন শো এবং অন্যান্য সৃজনশীল দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পাবেন প্রতিযোগীরা। ফলে প্রচলিত রিয়েলিটি শোর বাইরেও নতুন ধরনের প্রতিভা দেশের মানুষের সামনে আসবে।

এক বছর মেয়াদি এই রিয়েলিটি শোতে মোট ৫২টি পর্ব থাকবে এবং প্রতিটি পর্বের দৈর্ঘ্য হবে ৪৫ থেকে ৬০ মিনিট। অনুষ্ঠানটি একই সঙ্গে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এবং বিভিন্ন ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সম্প্রচার করা হবে। এতে দেশের পাশাপাশি বিদেশে থাকা দর্শকরাও অনুষ্ঠানটি উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য প্রথমে ডিজিটাল নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে। আগ্রহীরা ঘরে বসেই মোবাইল অ্যাপ বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। এরপর দেশের আটটি বিভাগে সরাসরি অডিশন ক্যাম্প আয়োজন করা হবে, যেখানে প্রতিযোগীদের দক্ষতা যাচাই করা হবে।

বিভাগীয় অডিশন শেষে নির্বাচিত প্রতিযোগীরা অংশ নেবেন স্টুডিও অডিশনে। এরপর নকআউট রাউন্ড, সেমিফাইনাল এবং পাবলিক ভোটিংয়ের মাধ্যমে সেরা প্রতিযোগীদের বাছাই করা হবে। সবশেষে গ্র্যান্ড ফিনালের মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারণ করে পুরস্কার প্রদান করা হবে।

অনুষ্ঠানের বিচারক প্যানেলে দেশের সঙ্গীত, নৃত্য ও অভিনয় জগতের তিনজন কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব থাকবেন। পাশাপাশি দুইজন জনপ্রিয় উপস্থাপক প্রতিযোগীদের ব্যাকস্টেজ গল্প, প্রস্তুতি এবং সংগ্রামের নানা দিক দর্শকদের সামনে তুলে ধরবেন, যা অনুষ্ঠানটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।

রিয়েলিটি শোটির অন্যতম আকর্ষণ হবে ‘রেড বাটন’ এবং ‘গোল্ডেন বাটন’। বিচারকদের কাছে কোনো পরিবেশনা মানসম্মত না হলে তারা রেড বাটনের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে পারফরম্যান্স থামিয়ে দিতে পারবেন। অন্যদিকে অসাধারণ ও আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশনা হলে গোল্ডেন বাটনের মাধ্যমে প্রতিযোগী সরাসরি দুই ধাপ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। এছাড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে বিচারকদের নম্বরের পাশাপাশি দর্শকদের ভোটও বিজয়ী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (এফডিসি) এই আয়োজন বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে। এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান তানি বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অসংখ্য প্রতিভাবান মানুষ রয়েছেন, যারা শুধু উপযুক্ত মঞ্চের অভাবে নিজেদের তুলে ধরতে পারেন না। ‘প্রতিভার সন্ধানে’ সেই স্বপ্ন পূরণের সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, এই উদ্যোগ কেবল একটি বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি দেশের তরুণদের মেধা বিকাশ, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং লোকসংস্কৃতির পুনর্জাগরণের একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম। মন্ত্রণালয়ের প্রত্যাশা, ‘প্রতিভার সন্ধানে’ দেশের প্রান্তিক প্রতিভাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করে তুলবে এবং নতুন প্রজন্মকে আত্মবিশ্বাসী ও সৃজনশীল ভবিষ্যৎ গড়তে অনুপ্রাণিত করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আসছে ‘প্রতিভার সন্ধানে’, বদলে যাবে রিয়েলিটি শোর ধারণা

Update Time : ০৮:০৬:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

দেশের তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে থাকা বৈচিত্র্যময় প্রতিভাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে নতুন রিয়েলিটি শো ‘প্রতিভার সন্ধানে’ আয়োজন করতে যাচ্ছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। প্রচলিত গান, নাচ কিংবা কমেডি নির্ভর প্রতিযোগিতার বাইরে গিয়ে যেকোনো ব্যতিক্রমী প্রতিভাকে এক মঞ্চে তুলে আনার লক্ষ্যেই এই আয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি দেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিভা অনুসন্ধানমূলক আয়োজন হতে যাচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লোকজ সংস্কৃতি থেকে শুরু করে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন—সব ধরনের প্রতিভার জন্য এই প্রতিযোগিতা উন্মুক্ত থাকবে। লাঠিখেলা, পুতুলনাচ, বহুরূপী, জাদুবিদ্যা, অ্যাক্রোবেটিক্স, স্যান্ড আর্ট, রোবটিক্স, ড্রোন শো এবং অন্যান্য সৃজনশীল দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পাবেন প্রতিযোগীরা। ফলে প্রচলিত রিয়েলিটি শোর বাইরেও নতুন ধরনের প্রতিভা দেশের মানুষের সামনে আসবে।

এক বছর মেয়াদি এই রিয়েলিটি শোতে মোট ৫২টি পর্ব থাকবে এবং প্রতিটি পর্বের দৈর্ঘ্য হবে ৪৫ থেকে ৬০ মিনিট। অনুষ্ঠানটি একই সঙ্গে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এবং বিভিন্ন ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সম্প্রচার করা হবে। এতে দেশের পাশাপাশি বিদেশে থাকা দর্শকরাও অনুষ্ঠানটি উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য প্রথমে ডিজিটাল নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে। আগ্রহীরা ঘরে বসেই মোবাইল অ্যাপ বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। এরপর দেশের আটটি বিভাগে সরাসরি অডিশন ক্যাম্প আয়োজন করা হবে, যেখানে প্রতিযোগীদের দক্ষতা যাচাই করা হবে।

বিভাগীয় অডিশন শেষে নির্বাচিত প্রতিযোগীরা অংশ নেবেন স্টুডিও অডিশনে। এরপর নকআউট রাউন্ড, সেমিফাইনাল এবং পাবলিক ভোটিংয়ের মাধ্যমে সেরা প্রতিযোগীদের বাছাই করা হবে। সবশেষে গ্র্যান্ড ফিনালের মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারণ করে পুরস্কার প্রদান করা হবে।

অনুষ্ঠানের বিচারক প্যানেলে দেশের সঙ্গীত, নৃত্য ও অভিনয় জগতের তিনজন কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব থাকবেন। পাশাপাশি দুইজন জনপ্রিয় উপস্থাপক প্রতিযোগীদের ব্যাকস্টেজ গল্প, প্রস্তুতি এবং সংগ্রামের নানা দিক দর্শকদের সামনে তুলে ধরবেন, যা অনুষ্ঠানটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।

রিয়েলিটি শোটির অন্যতম আকর্ষণ হবে ‘রেড বাটন’ এবং ‘গোল্ডেন বাটন’। বিচারকদের কাছে কোনো পরিবেশনা মানসম্মত না হলে তারা রেড বাটনের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে পারফরম্যান্স থামিয়ে দিতে পারবেন। অন্যদিকে অসাধারণ ও আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশনা হলে গোল্ডেন বাটনের মাধ্যমে প্রতিযোগী সরাসরি দুই ধাপ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। এছাড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে বিচারকদের নম্বরের পাশাপাশি দর্শকদের ভোটও বিজয়ী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (এফডিসি) এই আয়োজন বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে। এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান তানি বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অসংখ্য প্রতিভাবান মানুষ রয়েছেন, যারা শুধু উপযুক্ত মঞ্চের অভাবে নিজেদের তুলে ধরতে পারেন না। ‘প্রতিভার সন্ধানে’ সেই স্বপ্ন পূরণের সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, এই উদ্যোগ কেবল একটি বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি দেশের তরুণদের মেধা বিকাশ, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং লোকসংস্কৃতির পুনর্জাগরণের একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম। মন্ত্রণালয়ের প্রত্যাশা, ‘প্রতিভার সন্ধানে’ দেশের প্রান্তিক প্রতিভাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করে তুলবে এবং নতুন প্রজন্মকে আত্মবিশ্বাসী ও সৃজনশীল ভবিষ্যৎ গড়তে অনুপ্রাণিত করবে।