ঢাকা ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নবাবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নারীর মৃত্যু

চিত্রঃ দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার পর বাসের চাপায় প্রাণ হারান এক নারী।

নবাবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনা আবারও কেড়ে নিল একটি তাজা প্রাণ। দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার বড় চেরাগপুর এলাকায় মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় মোছা. তানবিমা আক্তার লিজা নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। রোববার দুপুরে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নবাবগঞ্জ-আফতাবগঞ্জ সড়কের বড় চেরাগপুর এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত তানবিমা আক্তার লিজা মোটরসাইকেলের আরোহী হিসেবে ওই সড়ক দিয়ে যাত্রা করছিলেন। পথে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।

 

নিহত লিজা দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার পাটিকাঘাট পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গুলজার হোসেনের মেয়ে বলে জানা গেছে। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, সড়কের একটি অংশে খড়ের নিচে গর্ত ছিল। মোটরসাইকেলের চালক ওই গর্তটি দেখতে না পাওয়ায় হঠাৎ করে যানটির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর মোটরসাইকেলের আরোহীরা ছিটকে পড়ে যান। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তানবিমা আক্তার লিজা বাসের চাকার নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন।

 

স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এলেও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ভিড় জমে যায় এবং শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। নবাবগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শামীম আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মোটরসাইকেলটি খড়ের নিচে থাকা গর্তে পড়ে ভারসাম্য হারালে দুর্ঘটনাটি ঘটে। পরে বাসের চাপায় নারী আরোহীর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু করে। নিহত নারীর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনেক সময় সড়কের বিভিন্ন অংশে গর্ত তৈরি হলেও তা দ্রুত সংস্কার করা হয় না। আবার কোনো কোনো স্থানে খড়, বালু বা মাটি পড়ে থাকায় চালকদের জন্য ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। এসব কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামত করা এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি মোটরসাইকেল চালকদেরও সতর্কতার সঙ্গে যানবাহন চালানো উচিত। বিশেষ করে অপরিচিত বা ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে গতি নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

 

বাংলাদেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার সংখ্যা দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সড়কের ত্রুটি, অতিরিক্ত গতি, অসতর্কতা এবং নিরাপত্তাবিধি উপেক্ষা করার কারণে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। নবাবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনার এই ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। একটি পরিবারের স্বপ্ন ও সম্ভাবনাময় জীবন মুহূর্তেই থেমে যাওয়ার এই ঘটনা সবার জন্যই একটি সতর্কবার্তা। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগই হতে পারে এমন দুর্ঘটনা কমিয়ে আনার অন্যতম উপায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

নবাবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নারীর মৃত্যু

Update Time : ০৪:১৪:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

নবাবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনা আবারও কেড়ে নিল একটি তাজা প্রাণ। দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার বড় চেরাগপুর এলাকায় মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় মোছা. তানবিমা আক্তার লিজা নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। রোববার দুপুরে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নবাবগঞ্জ-আফতাবগঞ্জ সড়কের বড় চেরাগপুর এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত তানবিমা আক্তার লিজা মোটরসাইকেলের আরোহী হিসেবে ওই সড়ক দিয়ে যাত্রা করছিলেন। পথে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।

 

নিহত লিজা দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার পাটিকাঘাট পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গুলজার হোসেনের মেয়ে বলে জানা গেছে। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, সড়কের একটি অংশে খড়ের নিচে গর্ত ছিল। মোটরসাইকেলের চালক ওই গর্তটি দেখতে না পাওয়ায় হঠাৎ করে যানটির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর মোটরসাইকেলের আরোহীরা ছিটকে পড়ে যান। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তানবিমা আক্তার লিজা বাসের চাকার নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন।

আরও পড়ুন  ডেঙ্গু হেমোরেজিক ঝুঁকি বাড়ছে, ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

 

স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এলেও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ভিড় জমে যায় এবং শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। নবাবগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শামীম আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মোটরসাইকেলটি খড়ের নিচে থাকা গর্তে পড়ে ভারসাম্য হারালে দুর্ঘটনাটি ঘটে। পরে বাসের চাপায় নারী আরোহীর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু করে। নিহত নারীর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন  নেত্রকোনায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনেক সময় সড়কের বিভিন্ন অংশে গর্ত তৈরি হলেও তা দ্রুত সংস্কার করা হয় না। আবার কোনো কোনো স্থানে খড়, বালু বা মাটি পড়ে থাকায় চালকদের জন্য ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। এসব কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামত করা এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি মোটরসাইকেল চালকদেরও সতর্কতার সঙ্গে যানবাহন চালানো উচিত। বিশেষ করে অপরিচিত বা ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে গতি নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

আরও পড়ুন  নোরার সঙ্গে বিশ্বকাপ মঞ্চ কাঁপালেন সঞ্জয়

 

বাংলাদেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার সংখ্যা দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সড়কের ত্রুটি, অতিরিক্ত গতি, অসতর্কতা এবং নিরাপত্তাবিধি উপেক্ষা করার কারণে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। নবাবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনার এই ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। একটি পরিবারের স্বপ্ন ও সম্ভাবনাময় জীবন মুহূর্তেই থেমে যাওয়ার এই ঘটনা সবার জন্যই একটি সতর্কবার্তা। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগই হতে পারে এমন দুর্ঘটনা কমিয়ে আনার অন্যতম উপায়।