চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট মৃত্যু আবারও সবাইকে শোকাহত করেছে। সদর উপজেলার বারঘোরিয়া-বাদুড়তলা এলাকায় বৃষ্টির কারণে বিদ্যুতায়িত একটি লোহার মই স্পর্শ করতে গিয়ে মা-মেয়েসহ তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে ঘটে যাওয়া এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতরা হলেন বাদুড়তলা এলাকার মোহাম্মদ ভিখুর স্ত্রী হাসিনা বেগম, তাঁর ভাতিজি আশা খাতুন এবং আশার শিশুকন্যা মিম। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃষ্টির পানিতে ভিজে থাকা একটি লোহার মই বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ে ছিল। বিষয়টি বুঝতে না পেরে আশা খাতুন মই ব্যবহার করতে গেলে তিনি ও তাঁর মেয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
স্বজনদের বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে হাসিনা বেগমও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই তিনজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে এলেও তাঁদের আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। একসঙ্গে তিনজনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের মাতম শুরু হয়।
বারঘোরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদ জানান, বৃষ্টির সময় লোহার বস্তু ব্যবহার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে মইটি বিদ্যুতায়িত হয়েছিল। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু করে।
সদর থানার কর্তব্যরত উপপরিদর্শক (এসআই) খুরশিদা বেগম ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, কীভাবে মইটি বিদ্যুতায়িত হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের বিদ্যুৎ নিরাপত্তা বিষয়ে আরও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে বিদ্যুতের লাইন, ভেজা লোহার বস্তু কিংবা বৈদ্যুতিক সংযোগের আশপাশে অতিরিক্ত সতর্ক থাকা জরুরি। সামান্য অসাবধানতাও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই যেকোনো অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক পরিস্থিতি দেখা দিলে দ্রুত বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে জানানো এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখাই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা।





























