ঢাকা ০৫:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ফারিণ স্পেন সফর | দারুণ ছবিতে মুগ্ধ ভক্তরা, ইবিজা ভ্রমণে নতুন চমক Logo সরোয়ারের প্রার্থিতা মামলা: ২৭ জুলাই শুনানির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত Logo ঐতিহাসিক কোটা সংস্কার রায়: হত্যাকাণ্ডেও থামেনি ছাত্র আন্দোলন Logo ‘দ্য ওডিসি’র ঝড়ের মাঝে নোলানের বড় সিদ্ধান্ত,বানাবেন না নতুন সিনেমা Logo আর্লিং হলান্ডের হাঁটা নকল করলেন বিটিএস তারকা জিমিন Logo মার্জিন ঋণে নতুন নিয়ম, ইক্যুইটি ৫০% কমলেই শেয়ার বিক্রি Logo পল্লী উন্নয়ন বোর্ড নিয়োগ: ৯ম-২০তম গ্রেডে ১৮৫ পদে আবেদন শুরু Logo ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল আসছে, আগেই প্রকাশের ইঙ্গিত পিএসসির Logo পাবনার হোসিয়ারিশিল্প সংকটে, ভারত রপ্তানি বন্ধে বন্ধ হচ্ছে কারখানা Logo জয়া আহসানের নতুন সিনেমা | ভারতীয় সমালোচকদের দুর্দান্ত প্রশংসায় ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’

বিকাশে লেনদেন: স্মার্ট ডিজিটাল অর্থনীতির নতুন অধ্যায়

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:১৭:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • ৫১৭

শহর ও গ্রামে সমানভাবে জনপ্রিয় বিকাশ সেবা। ছবি: সংগৃহীত

বিকাশে লেনদেন দেশের মানুষের আর্থিক জীবনকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছে। মাত্র একটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করেই এখন টাকা পাঠানো, বিল পরিশোধ, মোবাইল রিচার্জ, অনলাইন কেনাকাটা, সঞ্চয় কিংবা ক্ষুদ্রঋণের মতো নানা সেবা পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠার ১৫ বছরে প্রায় ৮ কোটি নিবন্ধিত গ্রাহক নিয়ে বিকাশ দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। প্রতি সেকেন্ডে শত শত লেনদেন এবং প্রতি মিনিটে কোটি টাকার বেশি অর্থ স্থানান্তর এখন এই প্ল্যাটফর্মে সম্পন্ন হচ্ছে।

শুরুর সময় বিকাশের সেবা ছিল মাত্র তিনটি—ক্যাশ-ইন, ক্যাশ-আউট ও সেন্ড মানি। বর্তমানে ২০০টিরও বেশি সেবা একই অ্যাপে যুক্ত হয়েছে। ব্যাংকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন কমেছে, কারণ বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন বিল কয়েক সেকেন্ডেই পরিশোধ করা যাচ্ছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট গ্রাহকেরা অ্যাপ থেকেই তাৎক্ষণিক ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণ এবং বিভিন্ন সঞ্চয় প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে আর্থিক সেবা আরও সহজ ও সবার নাগালের মধ্যে এসেছে।

গ্রাহক বৃদ্ধির দিক থেকেও বিকাশ একটি অনন্য উদাহরণ। দেশের অনেক বড় ব্যাংকের তুলনায় এর গ্রাহক সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি। প্রতিটি হিসাব একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকায় নিবন্ধিত ব্যবহারকারীরা ইউনিক গ্রাহক হিসেবে বিবেচিত হন। শহরের পাশাপাশি গ্রামের মানুষও সহজে হিসাব খুলতে পারছেন, কারণ কোনো অতিরিক্ত ফি ছাড়াই স্মার্টফোন বা সাধারণ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে বিকাশ অ্যাকাউন্ট চালু করা সম্ভব। ফলে ধনী-গরিব, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান—সবাই একই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়েছেন।

বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন লাখ এজেন্ট দেশের বিভিন্ন এলাকায় সেবা দিচ্ছেন। তাদের মাধ্যমে প্রবাসী আয় দ্রুত পরিবারে পৌঁছাচ্ছে এবং শহর থেকে গ্রামের অর্থপ্রবাহ আরও সহজ হচ্ছে। তৈরি পোশাক শিল্পের হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা বিকাশের মাধ্যমে বেতন পাচ্ছেন, যার বড় একটি অংশ নারী কর্মী। একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা, বিভিন্ন সরকারি সেবা এবং ডিজিটাল পেমেন্টও বিকাশের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। এসব উদ্যোগ আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে আরও বিস্তৃত করেছে।

বিকাশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীরের মতে, দেশের যেকোনো প্রান্তে বসে মানুষ এখন সহজেই প্রয়োজনীয় আর্থিক লেনদেন করতে পারছেন। তিনি মনে করেন, ক্যাশলেস বা নগদবিহীন অর্থনীতি গড়ে তুলতে শক্তিশালী ডিজিটাল ইকোসিস্টেম তৈরিতে বিকাশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণও বিকাশের প্রতি বৈশ্বিক আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিকাশের বড় সাফল্যের পাশাপাশি সামনে আরও কাজ বাকি রয়েছে। এখনো অনেক লেনদেন ক্যাশ-ইন ও ক্যাশ-আউটের ওপর নির্ভরশীল। মার্চেন্ট পেমেন্ট ও সম্পূর্ণ ডিজিটাল লেনদেন আরও বিস্তৃত করা গেলে নগদ অর্থের ব্যবহার কমবে এবং দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। তবুও গত ১৫ বছরে বিকাশে লেনদেন যে দেশের আর্থিক অভ্যাসে বড় পরিবর্তন এনেছে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই। এটি শুধু একটি মোবাইল আর্থিক সেবা নয়, বরং বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফারিণ স্পেন সফর | দারুণ ছবিতে মুগ্ধ ভক্তরা, ইবিজা ভ্রমণে নতুন চমক

বিকাশে লেনদেন: স্মার্ট ডিজিটাল অর্থনীতির নতুন অধ্যায়

Update Time : ১০:১৭:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

বিকাশে লেনদেন দেশের মানুষের আর্থিক জীবনকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছে। মাত্র একটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করেই এখন টাকা পাঠানো, বিল পরিশোধ, মোবাইল রিচার্জ, অনলাইন কেনাকাটা, সঞ্চয় কিংবা ক্ষুদ্রঋণের মতো নানা সেবা পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠার ১৫ বছরে প্রায় ৮ কোটি নিবন্ধিত গ্রাহক নিয়ে বিকাশ দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। প্রতি সেকেন্ডে শত শত লেনদেন এবং প্রতি মিনিটে কোটি টাকার বেশি অর্থ স্থানান্তর এখন এই প্ল্যাটফর্মে সম্পন্ন হচ্ছে।

শুরুর সময় বিকাশের সেবা ছিল মাত্র তিনটি—ক্যাশ-ইন, ক্যাশ-আউট ও সেন্ড মানি। বর্তমানে ২০০টিরও বেশি সেবা একই অ্যাপে যুক্ত হয়েছে। ব্যাংকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন কমেছে, কারণ বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন বিল কয়েক সেকেন্ডেই পরিশোধ করা যাচ্ছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট গ্রাহকেরা অ্যাপ থেকেই তাৎক্ষণিক ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণ এবং বিভিন্ন সঞ্চয় প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে আর্থিক সেবা আরও সহজ ও সবার নাগালের মধ্যে এসেছে।

আরও পড়ুন  দাম বাড়ার পর আজ সোনার ভরি কত?

গ্রাহক বৃদ্ধির দিক থেকেও বিকাশ একটি অনন্য উদাহরণ। দেশের অনেক বড় ব্যাংকের তুলনায় এর গ্রাহক সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি। প্রতিটি হিসাব একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকায় নিবন্ধিত ব্যবহারকারীরা ইউনিক গ্রাহক হিসেবে বিবেচিত হন। শহরের পাশাপাশি গ্রামের মানুষও সহজে হিসাব খুলতে পারছেন, কারণ কোনো অতিরিক্ত ফি ছাড়াই স্মার্টফোন বা সাধারণ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে বিকাশ অ্যাকাউন্ট চালু করা সম্ভব। ফলে ধনী-গরিব, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান—সবাই একই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়েছেন।

আরও পড়ুন  রেমিট্যান্স প্রবাহে সুখবর: ১২ দিনে দেশে এলো ১৬ হাজার ২৬৪ কোটি টাকা

বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন লাখ এজেন্ট দেশের বিভিন্ন এলাকায় সেবা দিচ্ছেন। তাদের মাধ্যমে প্রবাসী আয় দ্রুত পরিবারে পৌঁছাচ্ছে এবং শহর থেকে গ্রামের অর্থপ্রবাহ আরও সহজ হচ্ছে। তৈরি পোশাক শিল্পের হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা বিকাশের মাধ্যমে বেতন পাচ্ছেন, যার বড় একটি অংশ নারী কর্মী। একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা, বিভিন্ন সরকারি সেবা এবং ডিজিটাল পেমেন্টও বিকাশের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। এসব উদ্যোগ আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে আরও বিস্তৃত করেছে।

বিকাশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীরের মতে, দেশের যেকোনো প্রান্তে বসে মানুষ এখন সহজেই প্রয়োজনীয় আর্থিক লেনদেন করতে পারছেন। তিনি মনে করেন, ক্যাশলেস বা নগদবিহীন অর্থনীতি গড়ে তুলতে শক্তিশালী ডিজিটাল ইকোসিস্টেম তৈরিতে বিকাশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণও বিকাশের প্রতি বৈশ্বিক আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  মিরসরাইয়ে চীনের ৩৬৬ কোটি টাকার বস্ত্র কারখানা, হবে ৫৮০ জনের কর্মসংস্থান

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিকাশের বড় সাফল্যের পাশাপাশি সামনে আরও কাজ বাকি রয়েছে। এখনো অনেক লেনদেন ক্যাশ-ইন ও ক্যাশ-আউটের ওপর নির্ভরশীল। মার্চেন্ট পেমেন্ট ও সম্পূর্ণ ডিজিটাল লেনদেন আরও বিস্তৃত করা গেলে নগদ অর্থের ব্যবহার কমবে এবং দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। তবুও গত ১৫ বছরে বিকাশে লেনদেন যে দেশের আর্থিক অভ্যাসে বড় পরিবর্তন এনেছে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই। এটি শুধু একটি মোবাইল আর্থিক সেবা নয়, বরং বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি।