ঢাকা ১২:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চবিতে দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন চালু Logo রাশিয়ায় এক লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা বাংলাদেশের, দ্রুত সম্মতি দিল রাশিয়া Logo মোবাইলে বিশ্বকাপ দেখবেন যেভাবে, জেনে নিন লাইভ স্ট্রিমিং গাইড Logo মেসির প্রত্যাবর্তন ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে Logo বন্যপ্রাণী পাচারকারী গ্রেপ্তার: কক্সবাজারে উদ্ধার ক্যাপড ল্যাঙ্গুর ও ১২ কচ্ছপ Logo ওয়ালটন চাকরি: আরএসএম পদে আবেদন চলছে Logo নোয়াখালীতে প্রকাশ্যে রাজমিস্ত্রিকে গুলি, হাসপাতালে ভর্তি Logo রাশিয়ায় কর্মী পাঠানো বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ Logo মার্তিনেজকে দলে চায় জুভেন্তাস, বিশ্বকাপের আগে জোর গুঞ্জন Logo অনার্স কোর্স: উচ্চশিক্ষায় নতুন সংস্কার পরিকল্পনা

ইরান মুদ্রাস্ফীতি: ভয়াবহ সংকটে সাধারণ মানুষের জীবন

তেহরানের বাজারে নিত্যপণ্যের দাম যাচাই করছেন ক্রেতারা। ছবি: সংগৃহীত

ইরান মুদ্রাস্ফীতি বর্তমানে দেশটির সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের বাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম প্রতিদিনই নতুন রেকর্ড গড়ছে। এক সময় যে বাজারগুলো ক্রেতাদের ভিড়ে মুখর থাকত, এখন সেখানে মানুষ পণ্য দেখছে বেশি, কিনছে কম। সাধারণ মানুষের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান দ্রুত বাড়তে থাকায় জীবনযাত্রার খরচ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

তেহরানের অনেক অবসরপ্রাপ্ত নাগরিক ও চাকরিজীবী জানিয়েছেন, তাদের স্থির আয় দিয়ে মাসের প্রয়োজনীয় খরচও মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। চাল, ভোজ্যতেল, ডিম, মাংসসহ প্রায় সব খাদ্যপণ্যের দাম কয়েক মাসের ব্যবধানে কয়েক গুণ বেড়েছে। ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে দৈনন্দিন কেনাকাটায় নতুন করে হিসাব কষতে হচ্ছে। অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় খাদ্যতালিকাও কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।

ইরান মুদ্রাস্ফীতি শুধু ভোক্তাদের নয়, ব্যবসায়ীদেরও চাপে ফেলেছে। পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। বাজারে পণ্যের সরবরাহ থাকলেও ক্রেতার সংখ্যা কমে গেছে। অনেক ব্যবসায়ী এখন লাভের চিন্তা না করে কেবল ব্যবসা টিকিয়ে রাখার লড়াই করছেন।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ইরানে বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতির হার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ভর্তুকি নীতির পরিবর্তন, বাজারে অস্থিরতা, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যাঘাত এবং আন্তর্জাতিক উত্তেজনা একসঙ্গে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এর ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে এবং সেই প্রভাব সরাসরি ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান সংকট কেবল সাময়িক নয়; এটি দীর্ঘদিনের কাঠামোগত অর্থনৈতিক সমস্যার ফল। তেলের রাজস্বের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, বিনিয়োগের ঘাটতি এবং উৎপাদন খাতে চ্যালেঞ্জ ইরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করে তুলেছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সেই দুর্বলতাগুলোকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে, যার প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় পড়ছে।

ইরান মুদ্রাস্ফীতি পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে থামবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সংকট আরও গভীর হতে পারে। বাজারে পণ্যের দাম, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা—সবকিছুই এখন বড় এক পরীক্ষার মুখে। ফলে ইরানের লাখো পরিবার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই দিন কাটাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চবিতে দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন চালু

ইরান মুদ্রাস্ফীতি: ভয়াবহ সংকটে সাধারণ মানুষের জীবন

Update Time : ১০:৫২:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

ইরান মুদ্রাস্ফীতি বর্তমানে দেশটির সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের বাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম প্রতিদিনই নতুন রেকর্ড গড়ছে। এক সময় যে বাজারগুলো ক্রেতাদের ভিড়ে মুখর থাকত, এখন সেখানে মানুষ পণ্য দেখছে বেশি, কিনছে কম। সাধারণ মানুষের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান দ্রুত বাড়তে থাকায় জীবনযাত্রার খরচ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

তেহরানের অনেক অবসরপ্রাপ্ত নাগরিক ও চাকরিজীবী জানিয়েছেন, তাদের স্থির আয় দিয়ে মাসের প্রয়োজনীয় খরচও মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। চাল, ভোজ্যতেল, ডিম, মাংসসহ প্রায় সব খাদ্যপণ্যের দাম কয়েক মাসের ব্যবধানে কয়েক গুণ বেড়েছে। ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে দৈনন্দিন কেনাকাটায় নতুন করে হিসাব কষতে হচ্ছে। অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় খাদ্যতালিকাও কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।

আরও পড়ুন  ফ্রি বাসা ও চাকরির সুযোগ দিচ্ছে স্পেনের গ্রাম, তবে সবার জন্য নয়

ইরান মুদ্রাস্ফীতি শুধু ভোক্তাদের নয়, ব্যবসায়ীদেরও চাপে ফেলেছে। পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। বাজারে পণ্যের সরবরাহ থাকলেও ক্রেতার সংখ্যা কমে গেছে। অনেক ব্যবসায়ী এখন লাভের চিন্তা না করে কেবল ব্যবসা টিকিয়ে রাখার লড়াই করছেন।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ইরানে বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতির হার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ভর্তুকি নীতির পরিবর্তন, বাজারে অস্থিরতা, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যাঘাত এবং আন্তর্জাতিক উত্তেজনা একসঙ্গে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এর ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে এবং সেই প্রভাব সরাসরি ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন  হজ পালনে শুধু হজ ভিসাই বৈধ, জানালো সৌদি কর্তৃপক্ষ

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান সংকট কেবল সাময়িক নয়; এটি দীর্ঘদিনের কাঠামোগত অর্থনৈতিক সমস্যার ফল। তেলের রাজস্বের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, বিনিয়োগের ঘাটতি এবং উৎপাদন খাতে চ্যালেঞ্জ ইরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করে তুলেছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সেই দুর্বলতাগুলোকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে, যার প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় পড়ছে।

ইরান মুদ্রাস্ফীতি পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে থামবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সংকট আরও গভীর হতে পারে। বাজারে পণ্যের দাম, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা—সবকিছুই এখন বড় এক পরীক্ষার মুখে। ফলে ইরানের লাখো পরিবার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই দিন কাটাচ্ছে।

আরও পড়ুন  তেহরানের বিপণিকেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত বেড়ে উদ্বেগ