খেলাধুলা ডেস্ক: ফুটবল বিশ্বে ব্রাজিল এমন একটি নাম, যা শুধু একটি দল নয়, বরং ফুটবল ইতিহাসের এক বিশাল স্তম্ভ। যেকোনো বড় টুর্নামেন্ট বা আন্তর্জাতিক ম্যাচ এলেই সেলেসাওদের নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা এবং ট্রোল শুরু হয়ে যায় প্রতিপক্ষ শিবিরে। বিশেষ করে দলের সাময়িক কোনো অফ-ফর্ম বা ইনজুরি নিয়ে মিম তৈরিতে মেতে ওঠে অনেকেই। কিন্তু ফুটবল বোদ্ধা এবং আসল পরিসংখ্যান যা বলে, তা প্রতিপক্ষের জন্য বেশ তেতো সত্য—ব্রাজিলের ‘খারাপ সময়ও’ অনেক দলের ইতিহাসের ‘সেরা সময়ের’ চেয়ে অনেক বেশি বড় এবং গৌরবময়।
ইতিহাস ও ট্রফির রাজত্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর বিশ্বকাপে ব্রাজিলের চেয়ে সফল কোনো দল আজ পর্যন্ত তৈরি হয়নি। পাঁচ-পাঁচটি সোনালী ট্রফি নিয়ে তারা এককভাবে বিশ্বফুটবলের চূড়ায় বসে আছে। অনেক বড় বড় দল দশকের পর দশক পার করে দেয় একটি মাত্র ট্রফির খোঁজে, কিংবা যুগের পর যুগ কেটে যায় শুধু বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্নে। সেখানে ব্রাজিল প্রতি বিশ্বকাপে অন্যতম ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামে। সাময়িকভাবে কোনো টুর্নামেন্টে ব্রাজিল ট্রফি না জিতলেও, তাদের সেই ‘ব্যর্থ’ অধ্যায়গুলোও অন্য অনেক দলের পুরো ফুটবল ইতিহাসের চেয়ে সমৃদ্ধ।
অপপ্রচার বনাম বাস্তবতা সম্প্রতি মাঠে নেইমারের মতো তারকাদের ফাউল বা ইনজুরি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানামুখী খোঁচাখুঁচি করতে দেখা যাচ্ছে প্রতিপক্ষ সমর্থকদের। মাঠের খেলায় যারা পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ফুটবল শৈলী ও ঐতিহ্যের কাছে পৌঁছাতে পারে না, তাদের একমাত্র সান্ত্বনা হলো এই ধরণের ট্রোল। অথচ ফুটবল আইনের ‘সিমুলেশন’ বা কার্ডের নিয়ম সবার জন্যই সমান। কিন্তু ট্রোলাররা এমনভাবে দেখায় যেন এটি শুধু ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের জন্যই প্রযোজ্য। মূলত ব্রাজিলের ব্র্যান্ড ভ্যালু এবং শ্রেষ্ঠত্বকে হিংসা করেই এই ধরণের অপপ্রচার চালানো হয়।
সেরারাই সবসময় টার্গেট ফুটবল দুনিয়ায় একটা প্রবাদ আছে—”আকাশের চাঁদকেই সবাই নিশানা করে, মাটির কাদা নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না।” ব্রাজিল ফুটবল দলও ঠিক তেমনি। তাদের খারাপ সময় নিয়েও ট্রোল করাটা প্রমাণ করে যে ফুটবল বিশ্বে সেলেসাওদের প্রভাব কতটা গভীর। ট্রোল দিয়ে সাময়িক বিনোদন পাওয়া গেলেও মাঠের ভেতরের ৫ তারকার অহংকার এবং ইতিহাস কখনো মুছে ফেলা যাবে না। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা যখনই ঘুরে দাঁড়ায়, তখনই প্রতিপক্ষের সব সমালোচনা স্তব্ধ হয়ে যায়।



























