পেপ গার্দিওলা ইতালির কোচ হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত সেই গুঞ্জনের ইতি টেনেছেন স্প্যানিশ এই কিংবদন্তি কোচ। ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) আনুষ্ঠানিক আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও তিনি জাতীয় দলের দায়িত্ব নিতে রাজি হননি। ফলে নতুন কোচ খোঁজার দৌড়ে এখন সবচেয়ে আলোচিত নাম হয়ে উঠেছেন সাবেক তারকা মিডফিল্ডার আন্দ্রেয়া পিরলো।
ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে এক দশকের সফল অধ্যায় শেষ করেছেন পেপ গার্দিওলা। ক্লাবটির ইতিহাসে সবচেয়ে সফল কোচদের একজন হিসেবে তিনি প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, এফএ কাপ, লিগ কাপসহ প্রায় সব বড় শিরোপাই জিতেছেন। তাঁর অধীনে সিটির ট্রফি কেবিনেটে যুক্ত হয়েছে ২০টি শিরোপা। দায়িত্ব ছাড়ার সময়ই তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, কিছুদিন ফুটবল থেকে দূরে থেকে পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনকে সময় দিতে চান।
ইতালির জাতীয় দল টানা তিনটি বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষ। জাতীয় দলকে নতুন করে গড়ে তুলতে তারা এমন একজন কোচ চাইছিল, যিনি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় দলকে আবার ইউরোপ ও বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে ফিরিয়ে নিতে পারবেন। সেই ভাবনা থেকেই প্রথম পছন্দ ছিলেন পেপ গার্দিওলা।
ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যমের দাবি, গার্দিওলাকে আকৃষ্ট করতে আর্থিক দিক থেকেও কোনো সীমাবদ্ধতা রাখতে চায়নি এফআইজিসি। এমনকি তাঁকে পুরো ফুটবল কাঠামো পুনর্গঠনের স্বাধীনতা দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছিল। তবে সব প্রস্তাব বিবেচনা করার পরও তিনি দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত বদলাননি। তাঁর মতে, দীর্ঘ সময়ের চাপের পর এখন বিশ্রাম, ভ্রমণ এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে ইতালি ব্রাজিল জাতীয় দলের বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তির সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিল। কিন্তু আনচেলত্তি ব্রাজিলেই নিজের দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর গার্দিওলার দিকে ঝুঁকলেও সেখান থেকেও ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন নতুন বিকল্প খুঁজতে বাধ্য হয়েছে।
সবশেষ খবর অনুযায়ী, ইতালির জাতীয় দলের নতুন কোচ হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন দেশটির সাবেক বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার আন্দ্রেয়া পিরলো। বর্তমানে তিনি দুবাইভিত্তিক ইউনাইটেড এফসির দায়িত্বে আছেন। সামনে উয়েফা নেশনস লিগ ও ইউরো ২০২৮ বাছাইপর্বকে সামনে রেখে খুব দ্রুত নতুন কোচ নিয়োগ দিতে চায় ইতালি। যদি সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয়, তাহলে খুব শিগগিরই আজ্জুরিদের ডাগআউটে দেখা যেতে পারে পিরলোকে।


























