সাভার পৌর এলাকায় ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ১৭১ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. আরমান হোসেন বাবু এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মোশারফ হিমেল খান। নতুন নেতৃত্বকে ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা গেছে।
মঙ্গলবার ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ তমিজ উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ ইকবাল স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সাভার পৌর ছাত্রদলের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার দাবি ছিল তৃণমূল নেতাকর্মীদের। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন এই কমিটি গঠনকে সংগঠনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঘোষিত কমিটিতে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে ৫২ জন সহ-সভাপতি, ৬৯ জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ২২ জন সহ-সাধারণ সম্পাদক, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক, ১৯ জন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, একজন প্রচার সম্পাদক, একজন সহ-প্রচার সম্পাদক, একজন দপ্তর সম্পাদক এবং তিনজন সদস্য রয়েছেন।
সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতারা মনে করছেন, বৃহৎ পরিসরের এই কমিটি মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে নতুন ও পুরোনো কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় সৃষ্টি করে সংগঠনের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কমিটিকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে জেলা নেতাদের কাছে অনুমোদনের জন্য জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে বিভিন্ন পদে উপযুক্ত নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কাঠামো সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে।
নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে সাভার পৌর এলাকায় ছাত্রদলের কার্যক্রম আরও বেগবান হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং সাংগঠনিক বিস্তারে নতুন কমিটি কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নবনির্বাচিত সভাপতি মো. আরমান হোসেন বাবু দায়িত্ব পাওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ছাত্রদলের আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবেন। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতারা তার ওপর যে আস্থা রেখেছেন, তা রক্ষা করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
তিনি আরও বলেন, সাভার পৌর এলাকায় ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা হবে। একই সঙ্গে মেধাবী, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর ইউনিট গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আরমান হোসেন বাবুর মতে, একটি সংগঠনের শক্তি নির্ভর করে তার কর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্বের সঠিক দিকনির্দেশনার ওপর। তাই তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং সংগঠনের স্বার্থকে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হিমেল খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল নেতাকর্মীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, নতুন কমিটি সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। তিনি মনে করেন, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠন আরও প্রাণবন্ত ও গতিশীল হবে।
তিনি বলেন, ছাত্রদের অধিকার আদায়, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করাই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্য। সংগঠনের প্রতিটি স্তরে নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ত করে কার্যক্রম পরিচালনা করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
মোশারফ হিমেল খান আরও বলেন, দলীয় সিনিয়র নেতাদের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে সাভার অঞ্চলে ছাত্রদলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত করা হবে। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যে সংগঠনের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির জন্য নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
নতুন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক তাজ খান নাঈম বলেন, সংগঠনের ওপর যে আস্থা রাখা হয়েছে, তা ধরে রাখতে সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবেন। তিনি মনে করেন, তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আরও সক্রিয় করে তুলতে পারলে সংগঠনের কার্যক্রম অনেক বেশি ফলপ্রসূ হবে।
তাজ খান নাঈম বলেন, ঐক্য, শৃঙ্খলা এবং সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ছাত্রদলকে একটি শক্তিশালী ও আদর্শিক সংগঠনে পরিণত করা হবে। এ লক্ষ্যে নিয়মিত সাংগঠনিক সভা, কর্মশালা এবং কর্মসূচি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্রসংগঠনগুলোর শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সে দিক থেকে সাভার পৌর ছাত্রদলের নতুন কমিটি তরুণ নেতৃত্ব বিকাশের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, নতুন কমিটির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সাংগঠনিক ঐক্য বজায় রাখা এবং কর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। পাশাপাশি শিক্ষার্থী সমাজের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়া নিয়ে কাজ করার মাধ্যমে সংগঠনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ হবে।
তারা আশা করছেন, নতুন নেতৃত্ব দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি সামাজিক ও শিক্ষাবিষয়ক কার্যক্রমেও ভূমিকা রাখবে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংগঠনের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।
সাভার পৌর ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে সংগঠনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন এবং মাঠপর্যায়ে কার্যকর কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে এই নেতৃত্ব কতটা সফল হয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছেন নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।




























