পুঁজিবাজার উন্নয়ন ও দেশের আর্থিক খাতকে আরও স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দেশের পুঁজিবাজার, ব্যাংকিং খাত এবং বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে ডিবিএর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে সংগঠনটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা অংশ নেন। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
ডিবিএ বৈঠকে একটি সমন্বিত নীতিগত প্রস্তাবনা উপস্থাপন করে। এর মধ্যে ছিল সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের বাজারভিত্তিক পুনর্গঠন, বৃহৎ ঋণগ্রহীতাদের পুঁজিবাজারে অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি এবং সরকারি সিকিউরিটিজে নন-কম্পিটিটিভ বিডের পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাব।
এছাড়া আয়কর আইন ও মূলধন সংরক্ষণ নীতির মধ্যে থাকা অসামঞ্জস্য দূর করা, বন্ড খেলাপি তথ্য সিআইবিতে অন্তর্ভুক্ত করা এবং শেয়ারবাজারে টি+১ সেটেলমেন্ট চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়। এসব উদ্যোগ বাজারের কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে মনে করছে ডিবিএ।
বৈঠকে সমন্বিত ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম (বিইউপিআই) চালু এবং ওপেন-এন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ডে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বৃদ্ধির বিষয়ও গুরুত্ব পায়। ডিবিএর মতে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে পুঁজিবাজারে তারল্য বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ডিবিএর প্রস্তাবনাগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে দেশের আর্থিক খাতের টেকসই উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন। ডিবিএও ভবিষ্যতে পুঁজিবাজার সংস্কার ও উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে।



























