বস্ত্র খাতে ৫% প্রণোদনা ঘোষণা করে দেশীয় টেক্সটাইল ও স্পিনিং শিল্পকে নতুন গতি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকে দেশীয় সুতা ব্যবহারে নগদ সহায়তা দেড় শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা।
তবে শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, এই প্রণোদনা ইতিবাচক হলেও শুধু নগদ সহায়তা দিয়ে বস্ত্র খাতের সংকট পুরোপুরি কাটানো সম্ভব নয়। গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি, তারল্য সংকট এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এখনো শিল্পের বড় চ্যালেঞ্জ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুতা ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রপ্তানি করলে রপ্তানিকারকেরা ৫ শতাংশ নগদ সহায়তা পাবেন। এর উদ্দেশ্য দেশীয় সুতা ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া এবং আমদানিনির্ভরতা কমানো।
বিটিএমএর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১ হাজার ৮০০টির বেশি টেক্সটাইল মিল রয়েছে। এর মধ্যে ৫২৭টি স্পিনিং মিল। স্থানীয় এসব কারখানা নিট পোশাক শিল্পের প্রায় ৮০ শতাংশ এবং ওভেন পোশাক শিল্পের প্রায় ৪০ শতাংশ সুতা সরবরাহ করে।
উদ্যোক্তারা বলছেন, বস্ত্র খাতে ৫% প্রণোদনা চালুর ফলে দেশীয় সুতার চাহিদা কিছুটা বাড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব কারখানা এতদিন ভারতীয় সুতা ব্যবহার করত, তারা স্থানীয় সুতা কেনার দিকে ঝুঁকতে পারে। এতে কিছু বন্ধ স্পিনিং মিল আবার উৎপাদনে ফিরতে পারে।
তবে বাস্তবতা হলো, গ্যাসের স্বল্পচাপ ও ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে অনেক কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। ফলে উৎপাদন খরচ বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে পড়ছে।
শিল্পমালিকদের অভিযোগ, নগদ সহায়তা ৫ শতাংশ হলেও বিভিন্ন কর ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে পুরো অর্থ হাতে আসে না। এতে প্রকৃত সুবিধা অনেকটাই কমে যায়। তারা কর প্রত্যাহার এবং দ্রুত প্রণোদনার অর্থ ছাড়ের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে গত কয়েক বছরে দেশীয় সুতা ব্যবহারে নগদ সহায়তা কমানোর পর ভারত থেকে সুতা আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সর্বশেষ অর্থবছরে প্রায় ২৫ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকার সুতা আমদানি হয়েছে, যার প্রায় ৯০ শতাংশ এসেছে ভারত থেকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু প্রণোদনা নয়, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা, সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার বন্ধ এবং স্থানীয় শিল্পবান্ধব নীতি গ্রহণ করা জরুরি। এসব পদক্ষেপ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের বস্ত্র শিল্প আরও শক্তিশালী হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বস্ত্র খাতে ৫% প্রণোদনা স্বল্পমেয়াদে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব ফেললেও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উন্নয়নের জন্য জ্বালানি সংকট সমাধান, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং নীতিগত সহায়তা বাড়ানোর বিকল্প নেই। তবেই দেশীয় স্পিনিং মিল ও টেক্সটাইল শিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠতে পারবে।
























