রাজধানীর আবহাওয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে ভ্যাপসা গরম ও বৃষ্টির সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে। বুধবারের বৃষ্টিতে কিছুটা স্বস্তি মিললেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ঢাকার মানুষ আবারও গরমের অস্বস্তিতে পড়েছেন। আকাশে মেঘ থাকলেও রোদের তীব্রতা এবং বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে গরমের অনুভূতি আরও বেশি হয়ে উঠেছে।
রাজধানীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রাও দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৮টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এই দ্রুত তাপমাত্রা বৃদ্ধি রাজধানীবাসীর জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, ভ্যাপসা গরমের প্রধান কারণ হলো বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা বেশি থাকা। বৃষ্টির পর সাময়িকভাবে তাপমাত্রা কমলেও সেই স্বস্তি দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয় না। বরং কিছুক্ষণের মধ্যেই আর্দ্রতা বেড়ে গিয়ে গরমের অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে ওঠে। বর্তমানে রাজধানীতে ঠিক এমন পরিস্থিতিই বিরাজ করছে।
রাজধানীর আবহাওয়া নিয়ে জানতে চাইলে আবহাওয়াবিদেরা বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মেঘের সৃষ্টি হলেও ঢাকায় তাৎক্ষণিকভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা খুব বেশি নয়। রংপুর, শেরপুর এবং বগুড়া অঞ্চলে মেঘের অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। এসব মেঘের গতিপথের ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে ঢাকায় বৃষ্টি হবে কি না।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশে প্রবেশ করলেও এটি এখনো পুরো দেশে বিস্তার লাভ করেনি। অন্যদিকে পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবও বিদ্যমান রয়েছে। মৌসুমি বায়ু ও পশ্চিমা লঘুচাপের এই পারস্পরিক প্রভাবের কারণে স্থানীয়ভাবে মেঘ তৈরি হচ্ছে এবং স্বল্প সময়ের জন্য বৃষ্টিও দেখা যাচ্ছে। তবে এসব বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না।
রাজধানীর আবহাওয়া বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, বুধবারের তুলনায় তাপমাত্রা কিছুটা কম থাকলেও গরমের অনুভূতি খুব একটা কমেনি। এর কারণ বাতাসে জলীয়বাষ্পের আধিক্য। ফলে তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও শরীরে গরম বেশি লাগছে। বিশেষ করে দিনের বেলায় বাইরে বের হওয়া মানুষদের জন্য পরিস্থিতি আরও কষ্টকর হয়ে উঠছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দিনের বেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক কম বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা। যদি বৃষ্টি হয়, তাহলে তা সন্ধ্যা বা রাতের দিকে হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
রাজধানীর আবহাওয়া নিয়ে বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, এ সময়ের আবহাওয়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো স্থানিক মেঘ তৈরি হওয়া। অর্থাৎ হঠাৎ করেই কোনো এলাকায় মেঘ জমে স্বল্প সময়ের জন্য বৃষ্টি হতে পারে। আবার কাছাকাছি অন্য এলাকায় একেবারেই বৃষ্টি নাও হতে পারে। তাই পূর্বাভাসের পাশাপাশি বাস্তব পরিস্থিতিও দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে।
বুধবার রাজধানীতে প্রায় ৩১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছিল। তবে সেই বৃষ্টির পরও তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার কারণে গরমের অস্বস্তি পুরোপুরি দূর হয়নি। বরং সকাল থেকেই সূর্যের তীব্রতা আবারও পরিস্থিতিকে গরম করে তুলেছে। ফলে অনেকেই বৃষ্টির আশায় থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের স্বস্তি পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
সব মিলিয়ে রাজধানীর আবহাওয়া এখন পরিবর্তনশীল অবস্থায় রয়েছে। আকাশে মেঘ, ভ্যাপসা গরম এবং বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা—সবকিছু মিলিয়ে ঢাকার আবহাওয়া এখন বেশ অনিশ্চিত। তবে মৌসুমি বায়ু পুরোপুরি সক্রিয় হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে এবং তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।


























