খুলনা হত্যা মামলা নিয়ে প্রায় এক দশকের বিচারিক প্রক্রিয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। খুলনার লবণচরা এলাকায় বাবা–মেয়েকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। তবে একই ঘটনায় মেয়েকে ধর্ষণের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের সাজা সংশোধন করে তাঁদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ পৃথক হত্যা ও ধর্ষণ মামলার ডেথ রেফারেন্স, আপিল এবং জেল আপিলের শুনানি শেষে এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর খুলনার লবণচরা থানার বুড়ো মৌলভীর দরগাপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে বাবা ইলিয়াস চৌধুরী ও তাঁর মেয়ে পারভীন সুলতানার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে অভিযোগ ওঠে, ডাকাতির উদ্দেশ্যে বাড়িতে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা প্রথমে বাবাকে হত্যা করে। পরে মেয়েকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ দুটি সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেয়।
এ ঘটনায় হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। ২০১৯ সালে খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ উভয় মামলায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে সেই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করলে মামলাগুলোর শুনানি শুরু হয়।
রায়ের বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানান, হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের দণ্ডাদেশ সংশোধন করে ডাকাতির সঙ্গে সংঘটিত হত্যার সংশ্লিষ্ট ধারায় মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। অন্যদিকে ধর্ষণ মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ভিন্ন ধারায় সাজা পরিবর্তন করে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ের প্রত্যয়িত অনুলিপি পাওয়ার পর উচ্চতর আদালতে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই মামলার রায়কে বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় ১০ বছর পর উচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মামলার বিচারিক অগ্রগতিতে নতুন ধাপ যুক্ত হলো। তবে আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী, রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপিলের সুযোগ এখনো রয়েছে।



























