এজিআই ও ডিজাইনারদের ভবিষ্যৎ এখন প্রযুক্তি অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত বিষয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ইতোমধ্যে বিভিন্ন পেশায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান এআই কেবল শুরু। সামনে আসতে পারে এজিআই (Artificial General Intelligence), যা মানুষের মতো বিভিন্ন ধরনের কাজ বুঝতে, শিখতে এবং সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এজিআই এলে কি ডিজাইনাররা ডাইনোসরের মতো বিলুপ্ত হয়ে যাবেন?
বর্তমানে আমরা যে ChatGPT, Midjourney বা DALL·E-এর মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করছি, সেগুলো মূলত ‘ন্যারো এআই’। নির্দিষ্ট কাজের জন্য প্রশিক্ষিত এসব প্রযুক্তি সীমিত পরিসরে কাজ করতে পারে। কিন্তু এজিআইয়ের ধারণা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটি মানুষের মতো একই সঙ্গে গবেষণা, পরিকল্পনা, লেখা, ডিজাইন এবং সমস্যা সমাধানের মতো বহুমুখী কাজ করতে পারবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এজিআই প্রযুক্তি বাস্তবে এলে ডিজাইন ইন্ডাস্ট্রিতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাবে। বর্তমানে একটি ব্র্যান্ডের জন্য গবেষণা, কনটেন্ট তৈরি, ভিজ্যুয়াল ডিজাইন এবং মার্কেটিং পরিকল্পনায় একাধিক ব্যক্তি ও সফটওয়্যার প্রয়োজন হয়। কিন্তু এজিআই একাই এসব কাজ সম্পন্ন করতে পারবে। কয়েক সপ্তাহের কাজ কয়েক মিনিটে শেষ হয়ে যেতে পারে।
বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে এজিআই উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। ফলে ভবিষ্যতে ডিজাইনারদের জন্য প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে যারা শুধুমাত্র টেমপ্লেটভিত্তিক বা পুনরাবৃত্তিমূলক ডিজাইন কাজ করেন, তাঁদের জন্য ঝুঁকি বেশি। কারণ এসব কাজ এআই খুব দ্রুত এবং কম খরচে সম্পন্ন করতে সক্ষম।

তবে এর অর্থ এই নয় যে ডিজাইনারদের প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে। প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, মানুষের সৃজনশীলতা, সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া, আবেগ এবং কৌশলগত চিন্তার বিকল্প এখনো তৈরি হয়নি। একটি ব্র্যান্ডের গল্প, দর্শকের মনস্তত্ত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি ভিশন বুঝতে মানবিক অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। দেশের অনেক ডিজাইনার ইতোমধ্যে এআই টুল ব্যবহার শুরু করলেও শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে এখনো বড় ঘাটতি রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আধুনিক এআই প্রযুক্তি নিয়ে পর্যাপ্ত পাঠদান না থাকায় শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পিছিয়ে পড়তে পারেন।
এজিআই ও ডিজাইনারদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল রাখতে হলে নতুন দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই। মৌলিক চিন্তাশক্তি, ভিজ্যুয়াল বিশ্লেষণ, ইউজার এক্সপেরিয়েন্স, ব্র্যান্ড স্ট্র্যাটেজি এবং মনস্তাত্ত্বিক জ্ঞান বাড়াতে হবে। পাশাপাশি এআই টুলকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং সহকারী হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভবিষ্যতের সফল ডিজাইনার হবেন তিনি, যিনি প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার সমন্বয় ঘটাতে পারবেন। এজিআই হয়তো কাজের ধরন বদলে দেবে, কিন্তু মানুষের মৌলিকতা, আবেগ ও কৌশলগত চিন্তার মূল্য কমবে না। বরং যারা পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন, তারাই আগামী দিনের ডিজাইন জগতের নেতৃত্ব দেবেন।





























