ঢাকা ০১:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপোষ নয়: জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের বক্তব্য Logo ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় যা থাকতে পারে Logo ঘুমানো কিংবা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকাই চাকরি! পৃথিবীর সবচেয়ে অদ্ভুত ৫টি পেশা, বেতন শুনলে চোখ কপালে উঠবে Logo চন্দনাইশে আগুনে পুড়ল ৬ বসতঘর Logo শাহবাগ অভিযান: প্রতিমন্ত্রীর রাতের ঝটিকা অভিযান, ১০ ব্যবসায়ীকে জরিমানা Logo টেকনাফে রাতে এলাকা ঘিরে ডাকাতের ফাঁকা গুলি, আতঙ্কে মানুষ Logo সাশ্রয়ী স্মার্টফোনে সুখবর, দাম কমাতে নতুন পরিকল্পনা Logo ছাতকে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় পিকআপচালক নিহত Logo ফরিদপুরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ Logo ঢাকা-নারিতা সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নতুন ঘোষণা

টেকনাফে রাতে এলাকা ঘিরে ডাকাতের ফাঁকা গুলি, আতঙ্কে মানুষ

জুম্মাপাড়া এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ। ছবি: সংগৃহীত

টেকনাফে ডাকাত আতঙ্ক কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী জনপদে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের জুম্মাপাড়া এলাকায় রাতের আঁধারে একদল দুর্বৃত্তের গুলিবর্ষণের ঘটনায় আতঙ্কে রাত কাটিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে।

রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাহারছড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের জুম্মাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকজন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত বিভিন্ন বাড়িঘর ঘিরে ফেলে এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করতে একাধিক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দে মুহূর্তেই পুরো এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. তারেক জানান, রাতের খাবার শেষে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তিনি। হঠাৎ একের পর এক গুলির শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। পরে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখেন, কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি বাড়ির উঠানে অবস্থান করছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে পরিবারের সদস্যরা ঘরের বাইরে বের হওয়ার সাহস পাননি।

তারেক বলেন, গুলির শব্দে শিশু ও নারীরা আতঙ্কে কান্নাকাটি শুরু করে। অনেকেই নিরাপত্তার আশঙ্কায় ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে অবস্থান নেন। এমন পরিস্থিতিতে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

টেকনাফে ডাকাত আতঙ্কের বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ইলিয়াসও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার সময় কয়েকজন দুর্বৃত্তকে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তারা বিভিন্ন বাড়ির আশপাশে অবস্থান নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। বিষয়টি দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মো. হোসাইন জানান, তিনি ঘটনার সময় কক্সবাজার শহরে ছিলেন। তবে বাড়িতে থাকা স্ত্রী ও সন্তানদের কাছ থেকে গুলির খবর পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তার পরিবারের সদস্যরা ভয়ে পুরো রাত আতঙ্কের মধ্যে কাটিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি, এমন ঘটনা নতুন নয়। মাঝেমধ্যে এলাকায় সন্ত্রাসী ও দুর্বৃত্তদের তৎপরতা দেখা যায়। ফলে সাধারণ মানুষ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় থাকেন। তারা নিয়মিত পুলিশ টহল বৃদ্ধি এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় পৌঁছালেও স্থানীয়রা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। তাদের মতে, শুধু ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করলেই হবে না, ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে সেদিকেও নজর দিতে হবে।

টেকনাফে ডাকাত আতঙ্ক নিয়ে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গেও সমন্বয় করা হয়েছে। তিনি স্থানীয়দের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান।

আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার, নিয়মিত টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা জরুরি। এতে দুর্বৃত্তদের তৎপরতা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

টেকনাফে ডাকাত আতঙ্কের এই ঘটনা আবারও নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব সামনে নিয়ে এসেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসবে এবং মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপোষ নয়: জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের বক্তব্য

টেকনাফে রাতে এলাকা ঘিরে ডাকাতের ফাঁকা গুলি, আতঙ্কে মানুষ

Update Time : ১১:৩৫:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

টেকনাফে ডাকাত আতঙ্ক কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী জনপদে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের জুম্মাপাড়া এলাকায় রাতের আঁধারে একদল দুর্বৃত্তের গুলিবর্ষণের ঘটনায় আতঙ্কে রাত কাটিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে।

রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাহারছড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের জুম্মাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকজন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত বিভিন্ন বাড়িঘর ঘিরে ফেলে এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করতে একাধিক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দে মুহূর্তেই পুরো এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. তারেক জানান, রাতের খাবার শেষে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তিনি। হঠাৎ একের পর এক গুলির শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। পরে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখেন, কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি বাড়ির উঠানে অবস্থান করছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে পরিবারের সদস্যরা ঘরের বাইরে বের হওয়ার সাহস পাননি।

আরও পড়ুন  রাজশাহীর যেসব এলাকায় শনিবার ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না

তারেক বলেন, গুলির শব্দে শিশু ও নারীরা আতঙ্কে কান্নাকাটি শুরু করে। অনেকেই নিরাপত্তার আশঙ্কায় ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে অবস্থান নেন। এমন পরিস্থিতিতে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

টেকনাফে ডাকাত আতঙ্কের বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ইলিয়াসও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার সময় কয়েকজন দুর্বৃত্তকে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তারা বিভিন্ন বাড়ির আশপাশে অবস্থান নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। বিষয়টি দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়।

আরও পড়ুন  হাতিয়ায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৩ হাজার লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মো. হোসাইন জানান, তিনি ঘটনার সময় কক্সবাজার শহরে ছিলেন। তবে বাড়িতে থাকা স্ত্রী ও সন্তানদের কাছ থেকে গুলির খবর পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তার পরিবারের সদস্যরা ভয়ে পুরো রাত আতঙ্কের মধ্যে কাটিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি, এমন ঘটনা নতুন নয়। মাঝেমধ্যে এলাকায় সন্ত্রাসী ও দুর্বৃত্তদের তৎপরতা দেখা যায়। ফলে সাধারণ মানুষ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় থাকেন। তারা নিয়মিত পুলিশ টহল বৃদ্ধি এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় পৌঁছালেও স্থানীয়রা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। তাদের মতে, শুধু ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করলেই হবে না, ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে সেদিকেও নজর দিতে হবে।

আরও পড়ুন  সংবিধান সংশোধন নয়, পূর্ণ সংস্কার চান শফিকুর রহমান | ছেঁড়া জামা জাতিকে পরানো যাবে না

টেকনাফে ডাকাত আতঙ্ক নিয়ে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গেও সমন্বয় করা হয়েছে। তিনি স্থানীয়দের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান।

আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার, নিয়মিত টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা জরুরি। এতে দুর্বৃত্তদের তৎপরতা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

টেকনাফে ডাকাত আতঙ্কের এই ঘটনা আবারও নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব সামনে নিয়ে এসেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসবে এবং মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন।