ঢাকা ০৩:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চন্দনাইশে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলা, আহত ২ Logo জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে চন্দনাইশে ছাত্রশিবিরের ‘অদম্য জুলাই’ সাইকেল র‍্যালি অনুষ্ঠিত Logo বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে ৫৮৭ জনের নিয়োগ, আবেদন যেভাবে Logo মুক্তির প্রথম দিনেই ইতিহাস গড়ার পথে ‘স্পাইডার ম্যান ব্র্যান্ড নিউ ডে’! Logo ‘তোমাকে ছাড়া এখনো বেঁচে আছি’—একটি পোস্টেই শুরু নতুন আলোচনা Logo ‘পথহারা মন’ দেখে আবেগে ভাসছেন দর্শক, প্রশংসায় জাহিদ হাসান Logo কোটি টাকায় বিক্রি হলো বিটিএস তারকা জিমিনের সেই শার্ট Logo গাজী সালাউদ্দিন অব্যাহতি: চমকপ্রদ সিদ্ধান্তে আবারও কড়া পদক্ষেপ এনসিপির Logo গুরুত্বপূর্ণ বার্তা: জনগণের বিভাজন চক্রান্ত ঠেকাতে তথ্যমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান Logo প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঢাকা পরিদর্শন: নগর তদারকির ৭ গুরুত্বপূর্ণ দিক

বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ হেরেই চাকরি হারালেন তিউনিসিয়ার কোচ

বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ হেরেই বহিষ্কার হলেন সাবরি লামুচি

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান কোচ সাবরি লামুচিকে বরখাস্ত করেছে তিউনিসিয়া ফুটবল ফেডারেশন (এফটিএফ)। সুইডেনের বিপক্ষে ৫-১ গোলের লজ্জাজনক পরাজয়ের পর দ্রুত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার পরিবর্তে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাবেক কোচ মুনজের কেবায়েরকে।

বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এমন একটি পরাজয় তিউনিসিয়ার ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। দলের রক্ষণভাগের দুর্বলতা এবং ম্যাচজুড়ে ছন্নছাড়া পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। শেষ পর্যন্ত ফেডারেশন কোনো ধরনের অপেক্ষা না করে কোচ পরিবর্তনের পথ বেছে নেয়।

সাবরি লামুচির দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় তার বিদায় ঘটল। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি আড়াই বছরের চুক্তিতে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাকে দলে আনা হলেও সেই পরিকল্পনা খুব দ্রুতই ভেঙে পড়েছে।

লামুচির বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গেই নতুন প্রধান কোচ হিসেবে মুনজের কেবায়েরের নাম ঘোষণা করা হয়। এর আগে তিনি ২০১৯ সালের আগস্ট থেকে ২০২২ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তিউনিসিয়া জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পুরোনো অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতেই তাকে আবার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই দ্রুত সিদ্ধান্ত প্রমাণ করছে, বিশ্বকাপে ভালো ফল না হলে তিউনিসিয়া ফুটবল ফেডারেশন কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। ফেডারেশনের ভেতরে চাপ এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা চলে আসে। ফলে বিষয়টি ফুটবল বিশ্বেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর পদত্যাগ করেছিলেন সামি ত্রাবেলসি। তার বিদায়ের পরই ইউরোপিয়ান ফুটবলে অভিজ্ঞ সাবরি লামুচিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার আগেই সেটির সমাপ্তি ঘটে গেল।

সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচে শুরু থেকেই রক্ষণে অস্থির ছিল তিউনিসিয়া। প্রতিপক্ষের দ্রুত আক্রমণ সামাল দিতে ব্যর্থ হয় দলটি এবং একের পর এক ভুলের মাশুল গুনতে হয়। শেষ পর্যন্ত ৫-১ গোলের ব্যবধান দলটির দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতায় একটি বড় হার শুধু তিন পয়েন্ট হারানোর বিষয় নয়, গোল ব্যবধানের ওপরও এর বিশাল প্রভাব পড়ে। গ্রুপ পর্বে পরবর্তী সমীকরণ কঠিন হয়ে যায়। তিউনিসিয়ার ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই ঘটেছে।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে তিউনিসিয়া নিয়মিত অংশগ্রহণকারী হলেও এখনো পর্যন্ত তারা কখনো গ্রুপ পর্ব পার হতে পারেনি। বেশ কয়েকবার চমক দেখালেও ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে উত্তর আফ্রিকার দেশটি। এবারও সেই পুরোনো চ্যালেঞ্জ তাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

বারবার কোচ পরিবর্তনও তিউনিসিয়ার অন্যতম বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে। মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে সামি ত্রাবেলসি, সাবরি লামুচি এবং এখন মুনজের কেবায়ের—এই তিনজন কোচের অধীনে যেতে হচ্ছে দলটিকে। এতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিশ্বকাপের ‘এফ’ গ্রুপে তিউনিসিয়ার সামনে এখন কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। আগামী ২১ জুন তাদের মুখোমুখি হতে হবে জাপানের। সেই ম্যাচে হার মানেই বিদায়ের শঙ্কা আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে।

এখন নতুন কোচ মুনজের কেবায়েরের সামনে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো ভেঙে পড়া দলকে মানসিকভাবে উজ্জীবিত করা। একই সঙ্গে রক্ষণভাগের দুর্বলতা কাটিয়ে দ্রুত কার্যকর পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। কারণ বিশ্বকাপের মঞ্চে দ্বিতীয় সুযোগ খুব কমই পাওয়া যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

চন্দনাইশে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলা, আহত ২

বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ হেরেই চাকরি হারালেন তিউনিসিয়ার কোচ

Update Time : ০৮:১৭:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান কোচ সাবরি লামুচিকে বরখাস্ত করেছে তিউনিসিয়া ফুটবল ফেডারেশন (এফটিএফ)। সুইডেনের বিপক্ষে ৫-১ গোলের লজ্জাজনক পরাজয়ের পর দ্রুত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার পরিবর্তে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাবেক কোচ মুনজের কেবায়েরকে।

বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এমন একটি পরাজয় তিউনিসিয়ার ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। দলের রক্ষণভাগের দুর্বলতা এবং ম্যাচজুড়ে ছন্নছাড়া পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। শেষ পর্যন্ত ফেডারেশন কোনো ধরনের অপেক্ষা না করে কোচ পরিবর্তনের পথ বেছে নেয়।

সাবরি লামুচির দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় তার বিদায় ঘটল। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি আড়াই বছরের চুক্তিতে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাকে দলে আনা হলেও সেই পরিকল্পনা খুব দ্রুতই ভেঙে পড়েছে।

আরও পড়ুন  আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয়ের মতোই খেলেছি: ভোজিনিয়া

লামুচির বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গেই নতুন প্রধান কোচ হিসেবে মুনজের কেবায়েরের নাম ঘোষণা করা হয়। এর আগে তিনি ২০১৯ সালের আগস্ট থেকে ২০২২ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তিউনিসিয়া জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পুরোনো অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতেই তাকে আবার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই দ্রুত সিদ্ধান্ত প্রমাণ করছে, বিশ্বকাপে ভালো ফল না হলে তিউনিসিয়া ফুটবল ফেডারেশন কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। ফেডারেশনের ভেতরে চাপ এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা চলে আসে। ফলে বিষয়টি ফুটবল বিশ্বেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর পদত্যাগ করেছিলেন সামি ত্রাবেলসি। তার বিদায়ের পরই ইউরোপিয়ান ফুটবলে অভিজ্ঞ সাবরি লামুচিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার আগেই সেটির সমাপ্তি ঘটে গেল।

আরও পড়ুন  বিশ্বকাপে শেষ ৩২ নিশ্চিত ১৯ দল, বিদায় ৮ দেশের

সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচে শুরু থেকেই রক্ষণে অস্থির ছিল তিউনিসিয়া। প্রতিপক্ষের দ্রুত আক্রমণ সামাল দিতে ব্যর্থ হয় দলটি এবং একের পর এক ভুলের মাশুল গুনতে হয়। শেষ পর্যন্ত ৫-১ গোলের ব্যবধান দলটির দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতায় একটি বড় হার শুধু তিন পয়েন্ট হারানোর বিষয় নয়, গোল ব্যবধানের ওপরও এর বিশাল প্রভাব পড়ে। গ্রুপ পর্বে পরবর্তী সমীকরণ কঠিন হয়ে যায়। তিউনিসিয়ার ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই ঘটেছে।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে তিউনিসিয়া নিয়মিত অংশগ্রহণকারী হলেও এখনো পর্যন্ত তারা কখনো গ্রুপ পর্ব পার হতে পারেনি। বেশ কয়েকবার চমক দেখালেও ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে উত্তর আফ্রিকার দেশটি। এবারও সেই পুরোনো চ্যালেঞ্জ তাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

আরও পড়ুন  ৮ বছর পর ফিরেই তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করল সুইডেন

বারবার কোচ পরিবর্তনও তিউনিসিয়ার অন্যতম বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে। মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে সামি ত্রাবেলসি, সাবরি লামুচি এবং এখন মুনজের কেবায়ের—এই তিনজন কোচের অধীনে যেতে হচ্ছে দলটিকে। এতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিশ্বকাপের ‘এফ’ গ্রুপে তিউনিসিয়ার সামনে এখন কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। আগামী ২১ জুন তাদের মুখোমুখি হতে হবে জাপানের। সেই ম্যাচে হার মানেই বিদায়ের শঙ্কা আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে।

এখন নতুন কোচ মুনজের কেবায়েরের সামনে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো ভেঙে পড়া দলকে মানসিকভাবে উজ্জীবিত করা। একই সঙ্গে রক্ষণভাগের দুর্বলতা কাটিয়ে দ্রুত কার্যকর পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। কারণ বিশ্বকাপের মঞ্চে দ্বিতীয় সুযোগ খুব কমই পাওয়া যায়।