ঢাকা ১১:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ইরানের বিস্ফোরক হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা, বিশ্ববাজারে নতুন শঙ্কা Logo রাজনীতিতে নারীদের বড় বাধা সহিংসতা: বিআইজিডির চাঞ্চল্যকর তথ্য Logo কাবার গিলাফের নকশা: ইসলামী শিল্পের অসাধারণ সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য Logo মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় দুবাই ট্যুরিস্ট ভিসা পাওয়ার সুবিধা Logo যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাজি ধরলে পস্তাতে হবে না: বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দ্বিতীয় পর্বে যুক্তরাষ্ট্র Logo ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন সার্ভিস আগস্টে চালু, জানালেন সেতুমন্ত্রী Logo ৫টি গোপন কারণে ঘরোয়াভাবে সম্পন্ন হচ্ছে আমির খানের বিয়ে! Logo ৩টি বিস্ফোরক মন্তব্যে মুন্সিগঞ্জে জামায়াত ও বিএনপি সংঘাতের আভাস! Logo যে ৬ কারণে বিশ্বকাপ জিততে পারে ব্রাজিল Logo নেদারল্যান্ডস-সুইডেন ম্যাচ: দারুণ লড়াইয়ে কার জয়?

নেদারল্যান্ডস-সুইডেন লড়াই আজ: কমলা নাকি হলুদের উচ্ছ্বাস?

নেদারল্যান্ডস বনাম সুইডেন

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই পরিচিত শক্তি নেদারল্যান্ডস ও সুইডেন। দুই দলের লক্ষ্য এক হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। সুইডেন জিতলেই নিশ্চিত হবে পরের পর্ব, আর নেদারল্যান্ডস চাইবে প্রথম ম্যাচের হতাশা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্ভাগা দলগুলোর তালিকায় নেদারল্যান্ডসের নাম সবার আগে আসে। তিনবার ফাইনালে উঠেও কখনো শিরোপা জিততে পারেনি ডাচরা। তাই ফুটবলপ্রেমীদের কাছে তারা যেন বিশ্বকাপের চিরঅপূর্ণ এক গল্প।

তবে নেদারল্যান্ডসের পর যদি শিরোপাহীন সেরা দল বেছে নিতে হয়, তাহলে সুইডেনের নামও উঠে আসবে। চারবার সেমিফাইনাল কিংবা তার চেয়েও ভালো অবস্থানে পৌঁছেও ট্রফি ছোঁয়া হয়নি তাদের। ইতিহাসে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করলেও সাফল্যের শেষ ধাপটি সবসময় অধরাই থেকেছে।

অবশ্য অতীতের সেই সুইডেনের সঙ্গে বর্তমান দলটির পার্থক্য অনেক। ১৯৯৪ বিশ্বকাপের পর আর শেষ চার দেখতে পারেনি তারা। সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকতা হারিয়ে ফেলা দলটি বাছাইপর্বেও ছয় ম্যাচে কোনো জয় পায়নি।

তবে শেষ পর্যন্ত নেশনস লিগে নিজেদের গ্রুপে সেরা হওয়ায় প্লে-অফ খেলার সুযোগ পায় সুইডেন। কোচ পরিবর্তন, প্রশাসনিক অস্থিরতা ও নানা চাপের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে এসেছে দলটি। সেই কঠিন পথ পেরিয়েই এখন তারা নতুন স্বপ্ন দেখছে।

অন্যদিকে নেদারল্যান্ডস অনেক বেশি আত্মবিশ্বাস নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে। বাছাইপর্বে নিজেদের গ্রুপে অপরাজিত ছিল তারা। সর্বশেষ তিনটি বিশ্বকাপেই অন্তত কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছানোর ধারাবাহিকতাও রয়েছে ডাচদের।

আরেকটি পরিসংখ্যান নেদারল্যান্ডসের শক্তিমত্তার প্রমাণ দেয়। ২০০৬ বিশ্বকাপের পর নির্ধারিত সময়ে কোনো ম্যাচ হারেনি দলটি। পরবর্তীতে যে ম্যাচগুলোতে বিদায় নিতে হয়েছে, সেগুলো এসেছে অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকারের নাটকীয়তায়।

তবে এবারের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি ডাচরা। জাপানের বিপক্ষে এগিয়ে থেকেও শেষ দিকে গোল হজম করে ড্র করতে হয়েছে। ফলে দ্বিতীয় ম্যাচে তাদের ওপর চাপ অনেকটাই বেড়ে গেছে।

অন্যদিকে সুইডেন প্রথম ম্যাচেই নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছে। তিউনিসিয়াকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে দলটি। এখন নেদারল্যান্ডসকে হারাতে পারলে সরাসরি পরের পর্বে জায়গা নিশ্চিত হয়ে যাবে তাদের।

সুইডেনের কোচ গ্রাহাম পটারের সবচেয়ে বড় ভরসা আক্রমণভাগের দুই তারকা। ভিক্টর ইয়োকেরেস ও আলেকজান্ডার ইসাক নিজেদের ক্লাব ফুটবলে দুর্দান্ত সময় পার করছেন। বিশ্বকাপেও প্রথম ম্যাচে দুজনই গোল ও অ্যাসিস্ট করে ছন্দে থাকার প্রমাণ দিয়েছেন।

জাতীয় দলের জার্সিতে এই জুটির সমন্বয় নিয়ে আগে প্রশ্ন ছিল। কিন্তু বিশ্বকাপের শুরুতেই সেই প্রশ্নের উত্তর মিলেছে। এখন তাদের সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন এক পরীক্ষা।

কারণ নেদারল্যান্ডসের রক্ষণভাগকে বর্তমান সময়ের অন্যতম শক্তিশালী ইউনিট হিসেবে ধরা হয়। ভার্জিল ফন ডাইক, মিকি ফন ডেন ভেন, ডেনজেল ডামফ্রাইস ও নাথান আকের উপস্থিতি ডাচদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে।

আজকের ম্যাচে তাই সুইডিশ আক্রমণভাগ ও ডাচ রক্ষণভাগের দ্বৈরথই সবচেয়ে বেশি নজর কাড়বে। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণেও এই লড়াই বড় ভূমিকা রাখতে পারে। দুই দলই নিজেদের শক্তির জায়গা থেকে খেলতে নামবে।

ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, বিশ্বকাপে মাত্র একবারই মুখোমুখি হয়েছে এই দুই দেশ। ১৯৭৪ বিশ্বকাপে পশ্চিম জার্মানির মাটিতে সেই ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হয়েছিল।

তবে ম্যাচটির একটি মুহূর্ত আজও ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে আছে। সুইডিশ ডিফেন্ডারের সামনে ইয়োহান ক্রুইফের অসাধারণ ১৮০ ডিগ্রি টার্ন পরবর্তীতে ‘ক্রুইফ টার্ন’ নামে কিংবদন্তি মর্যাদা পেয়েছে।

আজকের ম্যাচেও ফুটবলপ্রেমীরা হয়তো এমনই আরেকটি জাদুকরি মুহূর্তের অপেক্ষায় থাকবেন। কমলা জার্সির হাসি নাকি হলুদ জার্সির উচ্ছ্বাস—সেই উত্তর মিলবে মাঠের ৯০ মিনিটেই।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের বিস্ফোরক হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা, বিশ্ববাজারে নতুন শঙ্কা

নেদারল্যান্ডস-সুইডেন লড়াই আজ: কমলা নাকি হলুদের উচ্ছ্বাস?

Update Time : ০৯:৩৮:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই পরিচিত শক্তি নেদারল্যান্ডস ও সুইডেন। দুই দলের লক্ষ্য এক হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। সুইডেন জিতলেই নিশ্চিত হবে পরের পর্ব, আর নেদারল্যান্ডস চাইবে প্রথম ম্যাচের হতাশা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্ভাগা দলগুলোর তালিকায় নেদারল্যান্ডসের নাম সবার আগে আসে। তিনবার ফাইনালে উঠেও কখনো শিরোপা জিততে পারেনি ডাচরা। তাই ফুটবলপ্রেমীদের কাছে তারা যেন বিশ্বকাপের চিরঅপূর্ণ এক গল্প।

তবে নেদারল্যান্ডসের পর যদি শিরোপাহীন সেরা দল বেছে নিতে হয়, তাহলে সুইডেনের নামও উঠে আসবে। চারবার সেমিফাইনাল কিংবা তার চেয়েও ভালো অবস্থানে পৌঁছেও ট্রফি ছোঁয়া হয়নি তাদের। ইতিহাসে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করলেও সাফল্যের শেষ ধাপটি সবসময় অধরাই থেকেছে।

অবশ্য অতীতের সেই সুইডেনের সঙ্গে বর্তমান দলটির পার্থক্য অনেক। ১৯৯৪ বিশ্বকাপের পর আর শেষ চার দেখতে পারেনি তারা। সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকতা হারিয়ে ফেলা দলটি বাছাইপর্বেও ছয় ম্যাচে কোনো জয় পায়নি।

আরও পড়ুন  বিশ্বকাপ উদ্বোধনী ম্যাচেই ইতিহাস, ৩ লাল কার্ডের রেকর্ড

তবে শেষ পর্যন্ত নেশনস লিগে নিজেদের গ্রুপে সেরা হওয়ায় প্লে-অফ খেলার সুযোগ পায় সুইডেন। কোচ পরিবর্তন, প্রশাসনিক অস্থিরতা ও নানা চাপের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে এসেছে দলটি। সেই কঠিন পথ পেরিয়েই এখন তারা নতুন স্বপ্ন দেখছে।

অন্যদিকে নেদারল্যান্ডস অনেক বেশি আত্মবিশ্বাস নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে। বাছাইপর্বে নিজেদের গ্রুপে অপরাজিত ছিল তারা। সর্বশেষ তিনটি বিশ্বকাপেই অন্তত কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছানোর ধারাবাহিকতাও রয়েছে ডাচদের।

আরেকটি পরিসংখ্যান নেদারল্যান্ডসের শক্তিমত্তার প্রমাণ দেয়। ২০০৬ বিশ্বকাপের পর নির্ধারিত সময়ে কোনো ম্যাচ হারেনি দলটি। পরবর্তীতে যে ম্যাচগুলোতে বিদায় নিতে হয়েছে, সেগুলো এসেছে অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকারের নাটকীয়তায়।

তবে এবারের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি ডাচরা। জাপানের বিপক্ষে এগিয়ে থেকেও শেষ দিকে গোল হজম করে ড্র করতে হয়েছে। ফলে দ্বিতীয় ম্যাচে তাদের ওপর চাপ অনেকটাই বেড়ে গেছে।

আরও পড়ুন  বিশ্বকাপে ভিএআরের নতুন ইতিহাস, ‘ভুল পরিচয়’ শনাক্তে নজির

অন্যদিকে সুইডেন প্রথম ম্যাচেই নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছে। তিউনিসিয়াকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে দলটি। এখন নেদারল্যান্ডসকে হারাতে পারলে সরাসরি পরের পর্বে জায়গা নিশ্চিত হয়ে যাবে তাদের।

সুইডেনের কোচ গ্রাহাম পটারের সবচেয়ে বড় ভরসা আক্রমণভাগের দুই তারকা। ভিক্টর ইয়োকেরেস ও আলেকজান্ডার ইসাক নিজেদের ক্লাব ফুটবলে দুর্দান্ত সময় পার করছেন। বিশ্বকাপেও প্রথম ম্যাচে দুজনই গোল ও অ্যাসিস্ট করে ছন্দে থাকার প্রমাণ দিয়েছেন।

জাতীয় দলের জার্সিতে এই জুটির সমন্বয় নিয়ে আগে প্রশ্ন ছিল। কিন্তু বিশ্বকাপের শুরুতেই সেই প্রশ্নের উত্তর মিলেছে। এখন তাদের সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন এক পরীক্ষা।

কারণ নেদারল্যান্ডসের রক্ষণভাগকে বর্তমান সময়ের অন্যতম শক্তিশালী ইউনিট হিসেবে ধরা হয়। ভার্জিল ফন ডাইক, মিকি ফন ডেন ভেন, ডেনজেল ডামফ্রাইস ও নাথান আকের উপস্থিতি ডাচদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে।

আরও পড়ুন  আমাদের ভুলেই মেসির হ্যাটট্রিক, স্বীকার করলেন আলজেরিয়া কোচ

আজকের ম্যাচে তাই সুইডিশ আক্রমণভাগ ও ডাচ রক্ষণভাগের দ্বৈরথই সবচেয়ে বেশি নজর কাড়বে। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণেও এই লড়াই বড় ভূমিকা রাখতে পারে। দুই দলই নিজেদের শক্তির জায়গা থেকে খেলতে নামবে।

ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, বিশ্বকাপে মাত্র একবারই মুখোমুখি হয়েছে এই দুই দেশ। ১৯৭৪ বিশ্বকাপে পশ্চিম জার্মানির মাটিতে সেই ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হয়েছিল।

তবে ম্যাচটির একটি মুহূর্ত আজও ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে আছে। সুইডিশ ডিফেন্ডারের সামনে ইয়োহান ক্রুইফের অসাধারণ ১৮০ ডিগ্রি টার্ন পরবর্তীতে ‘ক্রুইফ টার্ন’ নামে কিংবদন্তি মর্যাদা পেয়েছে।

আজকের ম্যাচেও ফুটবলপ্রেমীরা হয়তো এমনই আরেকটি জাদুকরি মুহূর্তের অপেক্ষায় থাকবেন। কমলা জার্সির হাসি নাকি হলুদ জার্সির উচ্ছ্বাস—সেই উত্তর মিলবে মাঠের ৯০ মিনিটেই।