বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ড্রয়ের পর লস অ্যাঞ্জেলেসের ড্রেসিংরুমে সমর্থকদের উদ্দেশে আবেগঘন একটি হাতে লেখা চিঠি রেখে গেছে ইরানের জাতীয় ফুটবল দল। সেখানে তারা নিজেদের লড়াই নিয়ে গর্ব প্রকাশের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে থাকা সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়েছে। একই সঙ্গে শান্তি, শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বের বার্তাও তুলে ধরেছে দলটি।
বিশ্বকাপের শুরু থেকেই দারুণ লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছে ‘টিম মেলি’ খ্যাত ইরান। প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করার পর দ্বিতীয় ম্যাচে ইউরোপের শক্তিশালী দল বেলজিয়ামকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দেয় তারা। ফলে টানা দুই ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে দলটি।
ইরানের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএর তথ্য অনুযায়ী, ম্যাচ শেষে লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে এই বিশেষ চিঠিটি রেখে যান ফুটবলাররা। সেই বার্তায় নিজেদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং জাতীয় পরিচয়ের কথাও উল্লেখ করা হয়। এতে ফুটবলকে কেবল খেলা নয়, বরং মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরির মাধ্যম হিসেবেও তুলে ধরা হয়েছে।
চিঠিতে লেখা ছিল, ‘হাজার বছরের প্রাচীন পারস্য থেকে শুরু করে আজকের সভ্য ইরান—ইরানের এই আত্মিক শক্তি সবসময় জীবিত এবং অবিচল থাকবে।’ এই বার্তার মাধ্যমে নিজেদের ঐতিহাসিক পরিচয় ও জাতিগত গর্বের প্রকাশ ঘটিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের ইতিবাচক উপস্থিতির কথাও তুলে ধরেছে তারা।
আরও লেখা হয়, ‘আমরা অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে লস অ্যাঞ্জেলেসে এসেছিলাম, সম্মানের সঙ্গে লড়াই করেছি এবং মাথা উঁচু করেই বিদায় নিচ্ছি।’ পাশাপাশি শহরটির আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে। বিশেষ ধন্যবাদ দেওয়া হয়েছে গ্যালারিতে উপস্থিত ইরানি সমর্থকদেরও।
সমর্থকদের উদ্দেশে দলটি বলেছে, এই ১৮০ মিনিটের প্রতিটি সেকেন্ডে তারা অকুণ্ঠ সমর্থন, উৎসাহ এবং প্রার্থনা পেয়েছে। মাঠের বাইরে থাকা এই শক্তিই খেলোয়াড়দের বাড়তি অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। তাই বিশ্বজুড়ে শান্তি, শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্ব বজায় রাখার আহ্বানও জানানো হয়েছে চিঠিতে।
বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচে ইরানের সবচেয়ে বড় নায়ক ছিলেন গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দ। পুরো ম্যাচজুড়ে একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে তিনি প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন। তার অসাধারণ পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত ইরানকে মূল্যবান একটি পয়েন্ট এনে দেয়।
৩৩ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক ম্যাচে মোট সাতটি সেভ করেন। এর মধ্যে চারটি ছিল ডাইভিং সেভ, যা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিশ্চিত গোল হতে পারত এমন অন্তত ১ দশমিক ৭০ গোলের সুযোগ একাই নষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।
বেইরানভান্দের দুর্দান্ত নৈপুণ্যের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও তার হাতেই উঠেছে। অন্যদিকে ম্যাচের ৬৬তম মিনিটে বেলজিয়ামের ডিফেন্ডার নাথান এনগয় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। এরপর শেষ সময়টুকু ১০ জন নিয়ে খেলতে বাধ্য হয় ইউরোপের দলটি।
প্রথম দুই ম্যাচে দুটি ড্র নিয়ে ইরান এখন গ্রুপ ‘জি’-এর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে মিশর। বেলজিয়াম রয়েছে তৃতীয় স্থানে এবং নিউজিল্যান্ড আছে সবার নিচে।
নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আগামী শনিবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মিশরের মুখোমুখি হবে ইরান। সেই ম্যাচের জন্য দলটি এবার সিয়াটলে যাবে। ইতিবাচক ফল পেলে শেষ বত্রিশের দরজা খুলে যেতে পারে তাদের সামনে।























