ঢাকা ০৫:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

রিজভীর বিস্ফোরক দাবি: জনগণের পারমাণবিক শক্তিতে ফ্যাসিবাদের পতন

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১২:৪১:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৩৮

রুহুল কবির রিজভী বক্তব্য রাখছেন। ছবি: সংগৃহীত

রিজভীর বক্তব্য ঘিরে আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, জনগণের ভেতরে এমন এক শক্তি লুকিয়ে থাকে, যা একসময় বিস্ফোরিত হলে কোনো স্বৈরশাসনই টিকে থাকতে পারে না। তার ভাষায়, ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তির কাছে ক্ষমতাসীনদের পতন ঘটেছে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। রিজভীর দাবি, এই আন্দোলনে শুধু রাজনৈতিক কর্মীরাই নয়, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ, রিকশাচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। তাদের আত্মত্যাগ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রিজভী আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা নানা ধরনের নির্যাতন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন। তার দাবি, সেই ধারাবাহিক সংগ্রামের ফল হিসেবেই জুলাই আন্দোলন সফল পরিণতি পেয়েছে। তিনি মনে করেন, জনগণের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানই শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ তৈরি করেছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শেখ হাসিনার কঠোর সমালোচনাও করেন রিজভী। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের ব্যাংকিং খাত, শেয়ারবাজার ও অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, যা পরবর্তীতে আন্দোলনের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।

জুলাই আন্দোলনে বিএনপি ও ছাত্রদলের ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুরু থেকেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। তার নির্দেশনায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আন্দোলনের ইতিহাসকে কোনো পক্ষ এককভাবে নিজেদের কৃতিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে জনগণ তা গ্রহণ করবে না।

অনুষ্ঠানে বিএনপি ও ছাত্রদলের বর্তমান এবং সাবেক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের স্মরণে একটি প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়। রিজভী বলেন, জনগণের হৃদয়ে লেখা ইতিহাস কখনো জোর করে পরিবর্তন করা যায় না এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি চাকরিজীবীরা প্রথমবার যে ভাতা পাবেন

রিজভীর বিস্ফোরক দাবি: জনগণের পারমাণবিক শক্তিতে ফ্যাসিবাদের পতন

Update Time : ১২:৪১:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

রিজভীর বক্তব্য ঘিরে আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, জনগণের ভেতরে এমন এক শক্তি লুকিয়ে থাকে, যা একসময় বিস্ফোরিত হলে কোনো স্বৈরশাসনই টিকে থাকতে পারে না। তার ভাষায়, ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তির কাছে ক্ষমতাসীনদের পতন ঘটেছে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। রিজভীর দাবি, এই আন্দোলনে শুধু রাজনৈতিক কর্মীরাই নয়, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ, রিকশাচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। তাদের আত্মত্যাগ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন  মির্জা ফখরুল গণমাধ্যম নিয়ে যা বললেন, শক্তিশালী গণমাধ্যমেই শক্তিশালী গণতন্ত্র

রিজভী আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা নানা ধরনের নির্যাতন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন। তার দাবি, সেই ধারাবাহিক সংগ্রামের ফল হিসেবেই জুলাই আন্দোলন সফল পরিণতি পেয়েছে। তিনি মনে করেন, জনগণের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানই শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ তৈরি করেছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শেখ হাসিনার কঠোর সমালোচনাও করেন রিজভী। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের ব্যাংকিং খাত, শেয়ারবাজার ও অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, যা পরবর্তীতে আন্দোলনের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।

আরও পড়ুন  এনসিপি নেতাদের শেখ হাসিনার পথ অনুসরণ না করার আহ্বান রিজভীর

জুলাই আন্দোলনে বিএনপি ও ছাত্রদলের ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুরু থেকেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। তার নির্দেশনায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আন্দোলনের ইতিহাসকে কোনো পক্ষ এককভাবে নিজেদের কৃতিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে জনগণ তা গ্রহণ করবে না।

আরও পড়ুন  খেলাধুলা তরুণ-কিশোরদের মাদক থেকে দূরে রাখে : মীর হেলাল

অনুষ্ঠানে বিএনপি ও ছাত্রদলের বর্তমান এবং সাবেক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের স্মরণে একটি প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়। রিজভী বলেন, জনগণের হৃদয়ে লেখা ইতিহাস কখনো জোর করে পরিবর্তন করা যায় না এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।