ঢাকা ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অভিন্ন লক্ষ্যে দুই শহরে নামছে আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ মিশন শুরু হতে যাচ্ছে দুই ফুটবল পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের। যদিও এবারের আসরের শুরুতেই মুখোমুখি হচ্ছে না দল দুটি, তবুও তাদের লক্ষ্য এক ও অভিন্ন—বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি নিজেদের করে নেওয়া। একদিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের স্মৃতি বুকে ধারণ করে নতুন উদ্যমে মাঠে নামছে ফ্রান্স। বিশ্ব ফুটবলের দুই শক্তিধর দলের এই যাত্রা ঘিরে ইতোমধ্যে ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও উন্মাদনা।

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের ব্যস্ততা পেছনে ফেলে কিলিয়ান এমবাপ্পেদের বহনকারী টিম বাস পৌঁছেছে নিউজার্সিতে। সেখানে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সেনেগালের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। ম্যাচের আগে শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ফরাসি শিবির। দলের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছে, আর এমবাপ্পেও যেন নতুন একটি অধ্যায় লেখার অপেক্ষায় রয়েছেন। গত বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তিনি বদ্ধপরিকর।

বিশ্বকাপ মিশনের ঠিক আগে ফরাসি দৈনিক ‘লা পারিসিয়ান’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমবাপ্পে এমন একটি মন্তব্য করেছেন, যা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেছেন, জীবনের কোনো একটি মুহূর্তে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেলে তিনি কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে ফিরতে চাইতেন। তার বিশ্বাস, দ্বিতীয়বার সেই ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলে ফলাফল ভিন্ন হতে পারত। এই মন্তব্য ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। কারণ, কাতারের সেই ফাইনাল ছিল সাম্প্রতিক ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে নাটকীয় ও স্মরণীয় ম্যাচগুলোর একটি।

ফুটবলপ্রেমীরা এখনও ভুলতে পারেননি সেই মহারণের কথা। নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় শেষে ম্যাচটি গড়িয়েছিল পেনাল্টি শুটআউটে। ফ্রান্সের হয়ে এমবাপ্পে করেছিলেন দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক, যা বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে বিরল এক কীর্তি। কিন্তু তার অসাধারণ পারফরম্যান্সও শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সকে শিরোপা এনে দিতে পারেনি। আর্জেন্টিনা শেষ হাসি হেসেছিল এবং দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষা শেষে বিশ্বকাপ ট্রফি নিজেদের করে নিয়েছিল। ফলে এমবাপ্পের আক্ষেপ আজও রয়ে গেছে, যা তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনাও নতুন বিশ্বকাপ মিশনে নামছে দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে। কানসাস সিটিতে তাদের প্রথম প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে মাঠে নামার কারণে আর্জেন্টিনার ওপর প্রত্যাশার চাপও অনেক বেশি। তবে দলটির খেলোয়াড়রা জানেন, অতীতের সাফল্য নতুন আসরে কোনো বাড়তি সুবিধা দেয় না। প্রতিটি ম্যাচেই নিজেদের সেরাটা দিতে হবে। শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে তারা প্রস্তুতি নিয়েছে অত্যন্ত মনোযোগের সঙ্গে। দলের সমর্থকরাও আশা করছেন, আকাশি-সাদা জার্সিধারীরা আবারও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করবে।

বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের নাম উচ্চারিত হলেই স্বাভাবিকভাবেই কাতার ফাইনালের স্মৃতি সামনে চলে আসে। সেই ম্যাচটি শুধু দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকেই নতুন মাত্রা দেয়নি, বরং ফুটবল ইতিহাসেও একটি বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। এমবাপ্পের হ্যাটট্রিক, আর্জেন্টিনার লড়াকু মানসিকতা এবং শুটআউটের উত্তেজনা—সব মিলিয়ে এটি ছিল একটি পরিপূর্ণ ফুটবল নাটক। ফলে এবারও যদি দুই দল আবার মুখোমুখি হয়, তাহলে তা নিঃসন্দেহে বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচে পরিণত হবে।

বর্তমানে অবশ্য দুই দলের মনোযোগ নিজেদের প্রথম ম্যাচে। ফ্রান্স চাইবে জয় দিয়ে অভিযান শুরু করতে, একই লক্ষ্য আর্জেন্টিনারও। দীর্ঘ টুর্নামেন্টে ছন্দ ধরে রাখতে শুরুর ম্যাচে ইতিবাচক ফল পাওয়ার গুরুত্ব অনেক। তাই কোনো দলই প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নিচ্ছে না। সেনেগাল এবং আলজেরিয়া—দুই দলই চমক দেখানোর সামর্থ্য রাখে, যা ফুটবল বিশ্বে আগেও প্রমাণিত হয়েছে।

বিশ্বকাপ মিশনের এই যাত্রা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স আবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে মাঠে নামছে। ভিন্ন শহরে, ভিন্ন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এবং ভিন্ন পরিস্থিতিতে শুরু হলেও তাদের লক্ষ্য একই। কোটি কোটি সমর্থকের স্বপ্ন বুকে নিয়ে তারা এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ট্রফির দিকে। আর ফুটবলপ্রেমীরা অপেক্ষা করছেন নতুন কোনো ইতিহাস, নতুন কোনো নাটকীয়তা এবং হয়তো আরেকটি আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স মহারণ দেখার জন্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

অভিন্ন লক্ষ্যে দুই শহরে নামছে আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স

Update Time : ০৫:১৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপ মিশন শুরু হতে যাচ্ছে দুই ফুটবল পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের। যদিও এবারের আসরের শুরুতেই মুখোমুখি হচ্ছে না দল দুটি, তবুও তাদের লক্ষ্য এক ও অভিন্ন—বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি নিজেদের করে নেওয়া। একদিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের স্মৃতি বুকে ধারণ করে নতুন উদ্যমে মাঠে নামছে ফ্রান্স। বিশ্ব ফুটবলের দুই শক্তিধর দলের এই যাত্রা ঘিরে ইতোমধ্যে ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও উন্মাদনা।

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের ব্যস্ততা পেছনে ফেলে কিলিয়ান এমবাপ্পেদের বহনকারী টিম বাস পৌঁছেছে নিউজার্সিতে। সেখানে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সেনেগালের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। ম্যাচের আগে শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ফরাসি শিবির। দলের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছে, আর এমবাপ্পেও যেন নতুন একটি অধ্যায় লেখার অপেক্ষায় রয়েছেন। গত বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তিনি বদ্ধপরিকর।

বিশ্বকাপ মিশনের ঠিক আগে ফরাসি দৈনিক ‘লা পারিসিয়ান’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমবাপ্পে এমন একটি মন্তব্য করেছেন, যা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেছেন, জীবনের কোনো একটি মুহূর্তে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেলে তিনি কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে ফিরতে চাইতেন। তার বিশ্বাস, দ্বিতীয়বার সেই ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলে ফলাফল ভিন্ন হতে পারত। এই মন্তব্য ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। কারণ, কাতারের সেই ফাইনাল ছিল সাম্প্রতিক ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে নাটকীয় ও স্মরণীয় ম্যাচগুলোর একটি।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ নারী হকি দলের দুর্দান্ত জয়ে চাইনিজ তাইপে হার

ফুটবলপ্রেমীরা এখনও ভুলতে পারেননি সেই মহারণের কথা। নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় শেষে ম্যাচটি গড়িয়েছিল পেনাল্টি শুটআউটে। ফ্রান্সের হয়ে এমবাপ্পে করেছিলেন দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক, যা বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে বিরল এক কীর্তি। কিন্তু তার অসাধারণ পারফরম্যান্সও শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সকে শিরোপা এনে দিতে পারেনি। আর্জেন্টিনা শেষ হাসি হেসেছিল এবং দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষা শেষে বিশ্বকাপ ট্রফি নিজেদের করে নিয়েছিল। ফলে এমবাপ্পের আক্ষেপ আজও রয়ে গেছে, যা তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

আরও পড়ুন  যেসব সেবায় বাধ্যতামূলক টিআইএন সার্টিফিকেট

অন্যদিকে আর্জেন্টিনাও নতুন বিশ্বকাপ মিশনে নামছে দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে। কানসাস সিটিতে তাদের প্রথম প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে মাঠে নামার কারণে আর্জেন্টিনার ওপর প্রত্যাশার চাপও অনেক বেশি। তবে দলটির খেলোয়াড়রা জানেন, অতীতের সাফল্য নতুন আসরে কোনো বাড়তি সুবিধা দেয় না। প্রতিটি ম্যাচেই নিজেদের সেরাটা দিতে হবে। শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে তারা প্রস্তুতি নিয়েছে অত্যন্ত মনোযোগের সঙ্গে। দলের সমর্থকরাও আশা করছেন, আকাশি-সাদা জার্সিধারীরা আবারও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করবে।

বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের নাম উচ্চারিত হলেই স্বাভাবিকভাবেই কাতার ফাইনালের স্মৃতি সামনে চলে আসে। সেই ম্যাচটি শুধু দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকেই নতুন মাত্রা দেয়নি, বরং ফুটবল ইতিহাসেও একটি বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। এমবাপ্পের হ্যাটট্রিক, আর্জেন্টিনার লড়াকু মানসিকতা এবং শুটআউটের উত্তেজনা—সব মিলিয়ে এটি ছিল একটি পরিপূর্ণ ফুটবল নাটক। ফলে এবারও যদি দুই দল আবার মুখোমুখি হয়, তাহলে তা নিঃসন্দেহে বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচে পরিণত হবে।

আরও পড়ুন  মেসির বার্তা: শক্তিশালী আর্জেন্টিনাকে হারানো হবে বড় চ্যালেঞ্জ

বর্তমানে অবশ্য দুই দলের মনোযোগ নিজেদের প্রথম ম্যাচে। ফ্রান্স চাইবে জয় দিয়ে অভিযান শুরু করতে, একই লক্ষ্য আর্জেন্টিনারও। দীর্ঘ টুর্নামেন্টে ছন্দ ধরে রাখতে শুরুর ম্যাচে ইতিবাচক ফল পাওয়ার গুরুত্ব অনেক। তাই কোনো দলই প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নিচ্ছে না। সেনেগাল এবং আলজেরিয়া—দুই দলই চমক দেখানোর সামর্থ্য রাখে, যা ফুটবল বিশ্বে আগেও প্রমাণিত হয়েছে।

বিশ্বকাপ মিশনের এই যাত্রা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স আবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে মাঠে নামছে। ভিন্ন শহরে, ভিন্ন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এবং ভিন্ন পরিস্থিতিতে শুরু হলেও তাদের লক্ষ্য একই। কোটি কোটি সমর্থকের স্বপ্ন বুকে নিয়ে তারা এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ট্রফির দিকে। আর ফুটবলপ্রেমীরা অপেক্ষা করছেন নতুন কোনো ইতিহাস, নতুন কোনো নাটকীয়তা এবং হয়তো আরেকটি আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স মহারণ দেখার জন্য।