ঢাকা ০২:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ভাইরাল তাপবার্তাটি ভুয়া : ফায়ার সার্ভিসের সতর্ক বার্তা Logo নির্বিঘ্ন হজযাত্রায় স্বস্তির নিঃশ্বাস, বাড়ছে সেবার প্রশংসা Logo পর্যায়ক্রমে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিষিদ্ধ : মন্ত্রীর ঘোষণা Logo বদিউল আলম মজুমদার ব্যাংক খাত সংস্কার মন্তব্য : তীব্র বিতর্ক Logo শুধু রোদে নয়, বাসায় থেকেও হতে পারে হিট স্ট্রোক Logo নান্দাইলে নারীর ওপর পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ, সন্তানসহ উদ্ধার Logo বাকৃবিতে পরিসংখ্যান সম্মেলন ২০২৬, গবেষণাপত্র উপস্থাপনায় সরব একাডেমিক অঙ্গন Logo দূরপাল্লার বাস ভাড়ায় নতুন সমন্বয়, কোন রুটে কত বাড়ল খরচ Logo রাতে ধেয়ে আসছে কালবৈশাখী, কোন এলাকায় কখন ঝড়-বৃষ্টি Logo প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে এনসিপির বক্তব্যে হতাশ শিক্ষামন্ত্রী

বদিউল আলম মজুমদার ব্যাংক খাত সংস্কার মন্তব্য : তীব্র বিতর্ক

  • Taslima Khanom
  • Update Time : ০১:০৩:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫০৩

চিত্রঃ ব্যাংক খাত সংস্কার নিয়ে বদিউল আলম মজুমদারের বক্তব্য

দেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান অবস্থা, শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং আর্থিক খাতে অনিয়ম নিয়ে অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল বৈঠকে কঠোর ও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, ব্যাংক খাতকে টিকিয়ে রাখতে হলে চোরদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং স্বাধীন নিয়ন্ত্রক কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর অতীত ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন, যাদের বিরুদ্ধে ব্যাংক লুটপাটে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে, তাদের রাষ্ট্রীয় উচ্চ পদে থাকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়। তাঁর মতে, এ ধরনের বিতর্কিত ইতিহাস থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত ও বিচার হওয়া উচিত।

তিনি আরও দাবি করেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলে শুধুমাত্র আইন তৈরি করলেই হবে না, বরং তার সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। অতীতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক আইনই দুর্নীতিবাজদের রক্ষার ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য নয়। বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ব্যাংক খাতে বড় সমস্যা হলো জবাবদিহিতার অভাব। যেসব ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ব্যাংক লুট করেছে, তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তি না থাকলে ভবিষ্যতে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে। তিনি এ অবস্থাকে রাষ্ট্রীয় দুর্বলতার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে তিনটি বিষয় অপরিহার্য। প্রথমত, অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, এমন কাঠামো তৈরি করা যাতে ভবিষ্যতে কেউ অনিয়ম করতে না পারে। তৃতীয়ত, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত না করলে কোনো সংস্কারই কার্যকর হবে না। তিনি দাবি করেন, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম বেড়েছে এবং লুটপাট সহজ হয়েছে।

বদিউল আলম বলেন, একটি কার্যকর আর্থিক ব্যবস্থার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সাংবিধানিক সুরক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। এতে করে প্রতিষ্ঠানটি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমবে। তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতকে ক্যাশলেস ব্যবস্থার দিকে নিয়ে যেতে হবে এবং হুন্ডি বন্ধ করতে হবে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের সাবেক মহাপরিচালক তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, দেশে আইন থাকলেও তার বাস্তবায়ন দুর্বল। তাঁর মতে, নতুন আইনগুলো প্রায়শই অপরাধীদের সুবিধা দেয়।

তিনি বলেন, সংশোধিত ব্যাংক রেজুলেশন আইন ব্যাংক খাতকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। কারণ, এতে অতীতে যারা ব্যাংক লুটের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাদের আবারও ব্যাংক মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণে আসার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তৌফিক আহমদ আরও বলেন, ব্যাংক খাতে আমানতকারীদের সুরক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংক ব্যর্থ হলে শুধু দুই লাখ টাকা নয়, বরং পুরো আমানত ফেরত দেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্র ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার থাকা উচিত। তিনি উন্নত দেশের উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে দুর্বল ব্যাংক কীভাবে বাজার থেকে বের হবে, তার জন্য নির্দিষ্ট নীতি রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে দুর্বল ব্যাংককে টিকিয়ে রাখতে রাষ্ট্রীয় সহায়তার প্রবণতা দেখা যায়, যা শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

তিনি খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গেও কথা বলেন। তাঁর মতে, ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের সঙ্গে অনিচ্ছাকৃত খেলাপিদের পার্থক্য করে ব্যবস্থা নিতে হবে। ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের ক্ষেত্রে কঠোর আইন প্রয়োগ না করলে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরবে না। আলোচনায় আরও উঠে আসে ব্যাংক খাতে আস্থার সংকট। সোয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুশতাক খান বলেন, ব্যাংক হঠাৎ বন্ধ করা হলে পুরো আর্থিক ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ব্যাংকগুলো একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় একটি ব্যাংক ব্যর্থ হলে অন্য ব্যাংকেও তার প্রভাব পড়তে পারে। এটি অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় ঝুঁকি।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংক লুটেরাদের শাস্তি নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় আর্থিক সংকট দেখা দিতে পারে। এতে করে আস্থা হারিয়ে জনগণ ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিতে শুরু করতে পারে, যা অর্থনীতির জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করবে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন অর্থনীতিবিদ, ব্যাংক বিশেষজ্ঞ এবং নীতিনির্ধারকরা। তারা সবাই ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। বক্তারা বলেন, ব্যাংক রেজুলেশন আইন বাস্তবায়নে যদি স্বচ্ছতা না থাকে, তাহলে এটি ব্যাংকিং খাতকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে। তারা অতীতের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর নজরদারি ব্যবস্থার দাবি জানান।

সব মিলিয়ে গোলটেবিল বৈঠকে ব্যাংকিং খাতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা মনে করেন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ছাড়া ব্যাংকিং খাতকে টেকসই করা সম্ভব নয়। বদিউল আলম মজুমদারের বক্তব্যে বিশেষভাবে গুরুত্ব পায় শাস্তি, সংস্কার এবং প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণের বিষয়গুলো। তাঁর মতে, এসব পদক্ষেপ না নিলে ব্যাংক খাত আবারও বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে এবং জনগণের আস্থা পুরোপুরি হারিয়ে যেতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভাইরাল তাপবার্তাটি ভুয়া : ফায়ার সার্ভিসের সতর্ক বার্তা

বদিউল আলম মজুমদার ব্যাংক খাত সংস্কার মন্তব্য : তীব্র বিতর্ক

Update Time : ০১:০৩:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

দেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান অবস্থা, শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং আর্থিক খাতে অনিয়ম নিয়ে অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল বৈঠকে কঠোর ও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, ব্যাংক খাতকে টিকিয়ে রাখতে হলে চোরদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং স্বাধীন নিয়ন্ত্রক কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর অতীত ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন, যাদের বিরুদ্ধে ব্যাংক লুটপাটে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে, তাদের রাষ্ট্রীয় উচ্চ পদে থাকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়। তাঁর মতে, এ ধরনের বিতর্কিত ইতিহাস থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত ও বিচার হওয়া উচিত।

তিনি আরও দাবি করেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলে শুধুমাত্র আইন তৈরি করলেই হবে না, বরং তার সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। অতীতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক আইনই দুর্নীতিবাজদের রক্ষার ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য নয়। বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ব্যাংক খাতে বড় সমস্যা হলো জবাবদিহিতার অভাব। যেসব ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ব্যাংক লুট করেছে, তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তি না থাকলে ভবিষ্যতে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে। তিনি এ অবস্থাকে রাষ্ট্রীয় দুর্বলতার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন  লক্ষ্মীপুরে ইটভাটায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে তিনটি বিষয় অপরিহার্য। প্রথমত, অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, এমন কাঠামো তৈরি করা যাতে ভবিষ্যতে কেউ অনিয়ম করতে না পারে। তৃতীয়ত, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত না করলে কোনো সংস্কারই কার্যকর হবে না। তিনি দাবি করেন, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম বেড়েছে এবং লুটপাট সহজ হয়েছে।

বদিউল আলম বলেন, একটি কার্যকর আর্থিক ব্যবস্থার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সাংবিধানিক সুরক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। এতে করে প্রতিষ্ঠানটি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমবে। তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতকে ক্যাশলেস ব্যবস্থার দিকে নিয়ে যেতে হবে এবং হুন্ডি বন্ধ করতে হবে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের সাবেক মহাপরিচালক তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, দেশে আইন থাকলেও তার বাস্তবায়ন দুর্বল। তাঁর মতে, নতুন আইনগুলো প্রায়শই অপরাধীদের সুবিধা দেয়।

তিনি বলেন, সংশোধিত ব্যাংক রেজুলেশন আইন ব্যাংক খাতকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। কারণ, এতে অতীতে যারা ব্যাংক লুটের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাদের আবারও ব্যাংক মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণে আসার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তৌফিক আহমদ আরও বলেন, ব্যাংক খাতে আমানতকারীদের সুরক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংক ব্যর্থ হলে শুধু দুই লাখ টাকা নয়, বরং পুরো আমানত ফেরত দেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্র ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার থাকা উচিত। তিনি উন্নত দেশের উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে দুর্বল ব্যাংক কীভাবে বাজার থেকে বের হবে, তার জন্য নির্দিষ্ট নীতি রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে দুর্বল ব্যাংককে টিকিয়ে রাখতে রাষ্ট্রীয় সহায়তার প্রবণতা দেখা যায়, যা শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

আরও পড়ুন  মাদারীপুরে লিফট বিকল: নারী ও শিশুসহ ৮ জন ৩০ মিনিট আটকা, পরে উদ্ধার

তিনি খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গেও কথা বলেন। তাঁর মতে, ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের সঙ্গে অনিচ্ছাকৃত খেলাপিদের পার্থক্য করে ব্যবস্থা নিতে হবে। ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের ক্ষেত্রে কঠোর আইন প্রয়োগ না করলে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরবে না। আলোচনায় আরও উঠে আসে ব্যাংক খাতে আস্থার সংকট। সোয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুশতাক খান বলেন, ব্যাংক হঠাৎ বন্ধ করা হলে পুরো আর্থিক ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ব্যাংকগুলো একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় একটি ব্যাংক ব্যর্থ হলে অন্য ব্যাংকেও তার প্রভাব পড়তে পারে। এটি অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় ঝুঁকি।

আরও পড়ুন  শুক্রবার শুরু হচ্ছে প্রথম হজ ফ্লাইট: উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

তিনি আরও বলেন, ব্যাংক লুটেরাদের শাস্তি নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় আর্থিক সংকট দেখা দিতে পারে। এতে করে আস্থা হারিয়ে জনগণ ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিতে শুরু করতে পারে, যা অর্থনীতির জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করবে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন অর্থনীতিবিদ, ব্যাংক বিশেষজ্ঞ এবং নীতিনির্ধারকরা। তারা সবাই ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। বক্তারা বলেন, ব্যাংক রেজুলেশন আইন বাস্তবায়নে যদি স্বচ্ছতা না থাকে, তাহলে এটি ব্যাংকিং খাতকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে। তারা অতীতের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর নজরদারি ব্যবস্থার দাবি জানান।

সব মিলিয়ে গোলটেবিল বৈঠকে ব্যাংকিং খাতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা মনে করেন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ছাড়া ব্যাংকিং খাতকে টেকসই করা সম্ভব নয়। বদিউল আলম মজুমদারের বক্তব্যে বিশেষভাবে গুরুত্ব পায় শাস্তি, সংস্কার এবং প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণের বিষয়গুলো। তাঁর মতে, এসব পদক্ষেপ না নিলে ব্যাংক খাত আবারও বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে এবং জনগণের আস্থা পুরোপুরি হারিয়ে যেতে পারে।