আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসা ফরাসি কোচ হার্ভে রেনার্ড এবার তিউনিসিয়ার দায়িত্ব পেলেন। প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারের পর সাবরি লামুশিকে বরখাস্ত করে দ্রুত নতুন কোচ নিয়োগ দিয়েছে তিউনিশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন। মঙ্গলবার জাতীয় টেলিভিশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে রেনার্ডের নাম ঘোষণা করা হয়।
বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে সুইডেনের কাছে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারের পরই কোচ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় তিউনিসিয়া। টুর্নামেন্ট চলাকালীন এত দ্রুত এমন সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপ ইতিহাসে খুবই বিরল। মাত্র একটি ম্যাচ খেলেই প্রধান কোচকে বিদায় দেওয়ার ঘটনা নতুন এক নজির তৈরি করেছে।
বর্তমানে মেক্সিকোর মন্তেরিতে অবস্থান করছে তিউনিসিয়া দল। দায়িত্ব পাওয়ার পরই সেখানে দলের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন ৫৭ বছর বয়সী হার্ভে রেনার্ড। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি প্রথমবারের মতো খেলোয়াড়দের নিয়ে অনুশীলন পরিচালনা করবেন।
ক্যারিয়ারে এটি রেনার্ডের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এর আগে তিনি মরক্কো ও সৌদি আরবের হয়ে বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার তৃতীয় ভিন্ন দেশের কোচ হিসেবে বিশ্বকাপের ডাগআউটে দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন এই অভিজ্ঞ ফরাসি কোচ।
২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে মরক্কোর দায়িত্বে ছিলেন রেনার্ড। তবে সেবার দলটি গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। ফলাফল প্রত্যাশা অনুযায়ী না হলেও তার কৌশলগত দক্ষতা এবং দল গঠনের সামর্থ্য আন্তর্জাতিক ফুটবলে বেশ প্রশংসিত হয়েছিল।
তবে রেনার্ড সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসেন ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে। সৌদি আরবের দায়িত্বে থেকে তিনি ফুটবল বিশ্বকে বড় চমক উপহার দেন। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচেই তার দল লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে।
এই অভিজ্ঞতাই তিউনিসিয়াকে তাকে বেছে নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দলটি বর্তমানে আত্মবিশ্বাসের সংকটে রয়েছে। তাই দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে একজন অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত কোচের ওপর ভরসা করেছে ফেডারেশন।
বিদায়ী কোচ সাবরি লামুশির সহকারী হিসেবে কাজ করা তিউনিসিয়ার সাবেক মিডফিল্ডার ওয়াহবি খাজরি নতুন কোচিং স্টাফেও থাকছেন। ফলে দলের অভ্যন্তরীণ কাঠামোয় কিছুটা ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। একই সঙ্গে খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও সুবিধা হবে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি তিউনিসিয়ার সপ্তম অংশগ্রহণ। তবে এখন পর্যন্ত একবারও তারা গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি। ফলে এবার অন্তত দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে টুর্নামেন্টে এসেছিল আফ্রিকার দেশটি।
কিন্তু প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে হার তাদের সেই লক্ষ্যকে কঠিন করে তুলেছে। এখন প্রতিটি ম্যাচই তাদের জন্য বাঁচা-মরার লড়াই। বিশেষ করে নতুন কোচের অধীনে দ্রুত ছন্দে ফিরতে না পারলে বিদায়ের শঙ্কা আরও বাড়বে।
এফ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আগামী ২১ জুন জাপানের মুখোমুখি হবে তিউনিসিয়া। এই ম্যাচটি দলটির জন্য কার্যত ফাইনালের গুরুত্ব বহন করছে। নতুন কোচ হার্ভে রেনার্ডের হাত ধরে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।





























