আর্জেন্টিনার সামনে অস্ট্রিয়ার চ্যালেঞ্জ নতুন কিছু নয়, তবে এবার তাদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম সাশা কালাইদজিচ। ২ মিটার উচ্চতার এই স্ট্রাইকারকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে বাড়তি আলোচনা। ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিকে ভাবাচ্ছে এই দীর্ঘদেহী ফরোয়ার্ড।
কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ভাউত ভেগহর্স্টের স্মৃতি এখনও ভুলতে পারেনি আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্তে মাঠে নেমে তিনি নিজের উচ্চতা ও শারীরিক শক্তি দিয়ে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে বিপাকে ফেলেছিলেন। সেই ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর অন্যতম কারণও ছিলেন তিনি।
ঠিক একই ধরনের পরিস্থিতি আবারও তৈরি হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারণ অস্ট্রিয়ার দলে রয়েছেন ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার সাশা কালাইদজিচ। যিনি আকাশপথে বল নিয়ন্ত্রণ এবং হেডে গোল করার দক্ষতার জন্য ইউরোপিয়ান ফুটবলে পরিচিত নাম।
২৮ বছর বয়সী এই সেন্টার ফরোয়ার্ডকে অনেকেই ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা পিটার ক্রাউচের সঙ্গে তুলনা করেন। তাঁর উচ্চতা, খেলার ধরন এবং বক্সের ভেতরে উপস্থিতি প্রতিপক্ষের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করে। বিশেষ করে কর্নার ও ফ্রি-কিক থেকে তিনি ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারেন।
বর্তমানে অস্ট্রিয়ার শীর্ষ ক্লাব লাস্কের হয়ে খেলছেন কালাইদজিচ। সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে ২৩ ম্যাচে ৬টি গোল করেছেন তিনি। এর মধ্যে দুটি গোল এসেছে হেড থেকে, যা তাঁর অন্যতম বড় শক্তির পরিচয় দেয়।
তবে তাঁর ক্লাব ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল সময় কেটেছে জার্মানির স্টুটগার্টে। বুন্দেসলিগার দলটির হয়ে ৬০ ম্যাচে ২৪ গোল করেছিলেন তিনি। পরে ফ্রাঙ্কফুর্টেও খেলেছেন এবং বর্তমানে তাঁর মূল স্বত্ব রয়েছে ইংলিশ ক্লাব উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্সের কাছে।
অস্ট্রিয়া জাতীয় দলের হয়েও নিয়মিত মুখ কালাইদজিচ। এখন পর্যন্ত ২০ ম্যাচে ৪ গোল করেছেন তিনি। যদিও পরিসংখ্যান খুব বেশি চোখে পড়ার মতো নয়, তবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাঁর উপস্থিতি কোচদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেয়।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে মার্কো আরনাউতোভিচের মতো অভিজ্ঞ ফুটবলারকে বেঞ্চে রেখে শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন কালাইদজিচ। এতে স্পষ্ট হয়েছে, কোচ রালফ রাংনিক তাঁকে কতটা গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করছেন।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও কি তাঁকে শুরু থেকেই মাঠে নামানো হবে? যদি সেটি হয়, তাহলে স্কালোনির জন্য আলাদা পরিকল্পনা সাজানো ছাড়া উপায় থাকবে না। কারণ উচ্চতার এই ব্যবধান ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে।
আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের প্রধান ভরসা ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর উচ্চতা ১.৮৫ মিটার। অন্যদিকে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের উচ্চতা মাত্র ১.৭৫ মিটার হলেও তাঁর লাফানোর ক্ষমতা দুর্দান্ত। কিন্তু ২ মিটার উচ্চতার একজন স্ট্রাইকারকে পুরো ম্যাচজুড়ে সামলানো সহজ হবে না।
বিশেষ করে সেট-পিস পরিস্থিতিতে কালাইদজিচ বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারেন। কর্নার কিংবা ক্রস থেকে তিনি সহজেই ডিফেন্ডারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম। তাই ম্যাচের ফল নির্ধারণে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
কাগজে-কলমে আর্জেন্টিনা অবশ্যই ফেবারিট দল। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে ছোট ছোট কৌশলগত পার্থক্যই অনেক সময় বড় অঘটনের জন্ম দেয়। আর সেই অঘটনের সম্ভাব্য নায়ক হয়ে উঠতেই এখন প্রস্তুত অস্ট্রিয়ার ২ মিটারের ‘দানব’ সাশা কালাইদজিচ।




























